রাজধানী ঢাকার পূর্বাঞ্চল ও চট্টগ্রামের একাংশে হঠাৎ বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে এ বিপর্যয় ঘটে। মেঘনাঘাট হরিপুর জাতীয় গ্রিড লাইন বিকল হয়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিম। বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কাজ করছে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুপুর ১২টা ৪৩ মিনিটে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে এ বিপর্যয় ঘটে। এতে ঢাকার ভুলতা, হরিপুর, সিদ্ধিরগঞ্জ, গুলশান, রামপুরা, উলন ও মতিঝিলসহ পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। চট্টগ্রামের একটি অংশেও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ জানিয়েছে, বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় চালু করতে প্রকৌশলীরা ধাপে ধাপে কাজ করছেন। বর্তমানে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড জাতীয় লোড ডেসপাচ সেন্টারের (এনএলডিসি) নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, দেশের উত্তরাঞ্চলসহ অন্যান্য এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল ও স্বাভাবিক রয়েছে। বিদ্যুৎ খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, জাতীয় গ্রিডে ত্রুটি দেখা দিলে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো একের পর এক বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক করতে কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। বাংলাদেশে এর আগেও জাতীয় গ্রিডে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেছে। ২০২২ সালের ৪ অক্টোবর দুপুর ২টা ৫ মিনিটে পূর্বাঞ্চলীয় গ্রিডে বিপর্যয় শুরু হয়। এতে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহসহ দেশের বড় একটি অংশ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। সেবার বিভিন্ন এলাকায় তিন থেকে আট ঘণ্টার মধ্যে ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়। পরে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির দুজন কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছিল। এর আগে ২০১৪ সালের ১ নভেম্বরও প্রায় ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন ছিল সারা দেশ।