1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৪ পূর্বাহ্ন

বাংলাদেশের সঙ্গে পর্যটন সহযোগিতা বাড়াতে চায় ফিলিপাইন

রিপোর্টার
  • আপডেট : শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬
  • ০ বার দেখা হয়েছে

বাংলাদেশ ও ফিলিপাইনের মধ্যে পর্যটন সহযোগিতা সম্প্রসারণের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ফিলিপাইনের রাষ্ট্রদূত নিনা পাদিলা কইনলেট। তিনি দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং টেকসই পর্যটন উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টােবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে (বিসিএফসিসি) তিন দিনব্যাপী বাংলাদেশ ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ফেয়ার (বিটিটিএফ) ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, আমি আমাদের দুই দেশের মধ্যে আরও সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি।

রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ ও ফিলিপাইনের মধ্যে বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক বোঝাপড়া জোরদার করার বিপুল সুযোগ তৈরি করে পর্যটন। একই সঙ্গে এটি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণেও অবদান রাখে।

নিনা পাদিলা কইনলেট বলেন, ‘পর্যটন একটি দেশের হৃদয় ও আত্মাকে জানার সুযোগ করে দেয়।’ ভ্রমণের মাধ্যমে মানুষ বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, খাবার ও ইতিহাস সম্পর্কে জানার সুযোগ পায় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

কইনলেট বলেন, বিভিন্ন দেশের মানুষকে কাছাকাছি আনা এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্রের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাবোধ গড়ে তোলার মাধ্যমে পর্যটন দেশগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করতে পারে।

ফিলিপাইনের পর্যটন সম্ভাবনা তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশি পর্যটকদের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সাংস্কৃতিক আকর্ষণ উপভোগ করার আমন্ত্রণ জানান।

রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘এটি একটি সুন্দর দেশ। দেশটির মানুষ দয়ালু ও অতিথিপরায়ণ।’ সেখানে ভ্রমণকারীরা এমন আন্তরিক পরিবেশ পাবেন, যাতে তাদের নিজেদের বাড়িতে থাকার মতো অনুভূতি হতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

কইনলেট বলেন, পর্যটন শুধু অবকাশযাপন ও বিনোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; মানুষের জীবিকা নির্বাহে সহায়তা এবং জাতীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘বিশ্বের মোট অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ১০ শতাংশে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে পর্যটনের অবদান রয়েছে। প্রতি ১০টি কর্মসংস্থানের অন্তত একটির সঙ্গে এ খাতের সম্পৃক্ততা রয়েছে।’

অর্থনৈতিক সুযোগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হিসেবে পর্যটনকে এগিয়ে নিতে দেশগুলোর সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

মেলার প্রতিপাদ্য ‘এআই-পাওয়ার্ড ট্যুরিজম, সাসটেইনেবল ডেস্টিনেশন’কে স্বাগত জানিয়ে কইনলেট বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রাকৃতিক সম্পদ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সুরক্ষায় টেকসই পর্যটনচর্চা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, ‘আজ আমরা যা পেয়েছি, তা উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছি এবং পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তা পৌঁছে দিতে হবে।’

প্রদর্শনীতে ঐতিহ্যবাহী নৃত্য ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা তুলে ধরার উদ্যোগেরও প্রশংসা করেন রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও পুনরুজ্জীবনে পর্যটন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তার মতে, পর্যটনের মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী সংগীত, নৃত্য এবং অন্যান্য সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি নতুন করে চর্চার সুযোগ পায়, যা অন্যথায় সময়ের সঙ্গে হারিয়ে যেতে পারত।

আন্তর্জাতিক পর্যটন প্রদর্শনীর আয়োজন করায় ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশকে (টোয়াব) অভিনন্দন জানান কইনলেট। একই সঙ্গে বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পের অব্যাহত প্রবৃদ্ধি ও সাফল্য কামনা করেন তিনি।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নুরুন নাহার চৌধুরী প্রধান অতিথি হিসেবে বিটিটিএফের ১৪তম আসরের উদ্বোধন করেন।

টোয়াব আয়োজিত তিন দিনব্যাপী এ প্রদর্শনী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। এতে বাংলাদেশ ও বিদেশের পর্যটন অপারেটর, বিমান সংস্থা, হোটেল, ট্রাভেল এজেন্সি এবং আতিথেয়তা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো অংশ নিচ্ছে।

বাংলাদেশসহ ১৬টি দেশের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ মেলা আন্তর্জাতিক পর্যটন সহযোগিতা ও ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি করছে।

আয়োজকদের তথ্যমতে, প্রদর্শনীতে ২০০টির বেশি বুথ ও স্টল, ২২০ জনের বেশি প্রদর্শক এবং প্রায় ২ হাজার ৫০০ বাণিজ্যিক দর্শনার্থী অংশ নিচ্ছেন।

বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনা তুলে ধরা, আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক যোগাযোগ জোরদার এবং প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ও টেকসই পর্যটনচর্চায় উৎসাহ দেওয়াই এ আয়োজনের লক্ষ্য।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026