আগামী বছর নতুন করে মূল্যস্ফীতির হার বাড়ার পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী খাদ্যনিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ার শঙ্কাও করছে সংস্থাটি।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস
বিশ্বজুড়ে সংঘাত, জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন এবং কৃষি উৎপাদনের অনিশ্চয়তায় ২০২৬ সালের শেষে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যমূল্য ২৩ শতাংশ বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্ব ব্যাংক।
বুধবার প্রকাশিত সংস্থাটির ‘কমোডিটি মার্কেটস আউটলুক’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী বছর জ্বালানির দাম ৩২ শতাংশ এবং ২০২৬ ও ২০২৭ সাল মিলিয়ে খাদ্যপণ্যের দাম প্রায় ১৮ শতাংশ বাড়তে পারে।
এতে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ার পাশাপাশি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর খাদ্যনিরাপত্তা ও জীবনযাত্রা আরও ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহকে সংকুচিত করছে। অন্যদিকে শস্য পরিবহনে বিঘ্ন, এল নিনিওর প্রভাবে ফসলহানির শঙ্কা এবং সার ও জ্বালানির উচ্চমূল্য খাদ্য উৎপাদনের ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে।
বিশ্ব ব্যাংক বলছে, টানা তিন বছরের দরপতনের পর ২০২৬ সালে জ্বালানির দাম ৩২ শতাংশ বাড়তে পারে।
পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত, তেলের সরবরাহে বিঘ্ন এবং মজুত কমে যাওয়ায় এ চাপ তৈরি হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত ব্রেন্ট তেলের গড় দাম ২০২৫ সালের ব্যারেলপ্রতি ৬৯ ডলার থেকে বেড়ে ২০২৬ সাল শেষে ৯১ ডলারে পৌঁছাতে পারে।
তবে ২০২৭ সালে তা কমে ৭৯ ডলারে নামতে পারে বলে প্রতিবেদনে আভাস দেওয়া হয়েছে।
সংঘাতের প্রভাবে বিশ্বে তেলের সরবরাহ ৫ দশমিক ২ শতাংশ কমতে পারে, যা গত চার দশকের মধ্যে (২০২০ সালের বৈশ্বিক মন্দা বাদে) সবচেয়ে বড় পতন।
জ্বালানির দাম বৃদ্ধির ফলে উৎপাদন, পরিবহন, শিল্প ও কৃষিতে ব্যয় বাড়বে, যা সার্বিক মূল্যস্ফীতিকে উসকে দেবে।
জ্বালানির উচ্চমূল্যের প্রভাবে ২০২৬ সালে সারের দামও ১৪ শতাংশ বাড়তে পারে। উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গেলে কৃষকরা সারের ব্যবহার কমাতে পারেন, যা ফলন কমার ঝুঁকি তৈরি করবে।
তবে ২০২৭ সালে সারের দাম আবার ২০২৫ সালের পর্যায়ে ফিরে আসতে পারে বলে আভাস দিয়েছে বিশ্ব ব্যাংক।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে খাদ্যপণ্যের দাম ১০ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে আরও ৭ শতাংশ বাড়তে পারে। দুই বছরের সম্মিলিত মূল্যবৃদ্ধি দাঁড়াবে প্রায় ১৮ শতাংশে।
শস্য পরিবহনে বিঘ্ন, এল নিনিওর প্রভাবে বৈরি আবহাওয়া এবং কৃষি উপকরণের দাম বৃদ্ধি–মূলত এই তিন কারণে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়বে। এর সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়বে দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর।
বিশ্ব ব্যাংক বলছে, খাদ্যের দাম বাড়লে তাদের অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যয় কমাতে হবে, যা পুষ্টি ও জীবনযাত্রার মান কমিয়ে দেবে।
সংস্থাটির আশঙ্কা, কৃষ্ণসাগরে শস্য পরিবহনে হামলা বাড়লে বা শক্তিশালী এল নিনিও আঘাত হানলে পরিস্থিতি পূর্বাভাসের চেয়েও খারাপ হতে পারে। এর ফলে ২০১০-এর দশকের মতো আরও বেশি মানুষ চরম দারিদ্র্যের মুখে পড়তে পারে।
বিশ্ব ব্যাংকের উপপ্রধান অর্থনীতিবিদ আয়হান কোসে বলেন, জ্বালানির বাড়তি ব্যয় ও বাণিজ্যে বিঘ্নের কারণে বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়ছে। এতে মূল্যস্ফীতি, খাদ্যনিরাপত্তাহীনতা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর চাপ আরও বাড়বে।
সবচেয়ে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দেওয়া এবং ঋণের চাপে থাকা নিম্ন আয়ের দেশগুলোকে সহায়তা করাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উচ্চমূল্যের প্রভাব মোকাবিলায় বিদ্যমান অর্থায়ন ব্যবস্থার আওতায় ৫০ থেকে ৬০ বিলিয়ন ডলার সহায়তার সুযোগ রেখেছে বিশ্ব ব্যাংক। এর মধ্যে ২৫ বিলিয়ন ডলার আগাম নির্ধারিত অর্থায়ন হিসেবে রয়েছে।
এর মাধ্যমে ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি জোরদার এবং কৃষি খাতে মূলধন ও তারল্য সহায়তা দেওয়া হবে।
সার্বিয়া ও ব্রাজিলে নির্বাচনি বিজয় এবং গণতান্ত্রিক রূপান্তরের প্রশ্ন
মশাই ভরসা: জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে নতুন ইতিহাস
ইউরোপের সংকট: অভিবাসন নয়, মূলে জীবনযাত্রার দুর্দশা
কবরের অপেক্ষায় মুক্তিযোদ্ধার লাশ ও আমাদের লজ্জা