1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৪ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পের মরিয়া কূটনীতি, ফের ত্রিমুখী শান্তি আলোচনায় পুতিনের সম্মতি নরসিংদীতে ডাইং মিলের বয়লারে আগুন, দগ্ধ ৫ জন ঢাকা মেডিকেলে অনূর্ধ্ব ১৯ নারী টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সূচি ঘোষণা ইউক্রেইন-যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় শান্তি আলোচনায় বসতে রাজি পুতিন ব্যাটিং ব্যর্থতায় আরেকটি পরাজয়ে বিব্রতকর বিদায় বাংলাদেশের স্বামী বিদেশ, অন্যের হাত ধরে বেরিয়ে ‘বড় মাশুল’ দিলো জুঁই দাম্মামে বিমানের ফ্লাইট চালু, ২৫ অক্টোবর চালু হচ্ছে রিয়াদে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু অনূর্ধ্ব-১৯ নারী বিশ্বকাপের সূচি প্রকাশ রোনালদোর মালিকানা গুঞ্জন নিয়ে ফুটবল বিশ্বে উত্তাপ | Boishakhi Online

বৈশ্বিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে টেকসই পরিবেশ নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি ও কক্সবাজারে উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন

রিপোর্টার
  • আপডেট : শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬
  • ৫১ বার দেখা হয়েছে

বিশেষ প্রতিবেদক

বৈশ্বিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে বাংলাদেশ একটি প্রতিযোগিতামূলক, নিরপেক্ষ ও স্থিতিশীল পরিবেশ তৈরিতে বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। একই দিনে কক্সবাজারে পাতলী খাল পুনঃখনন কাজসহ একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। শনিবার (১৩ জুন) রাজধানী ঢাকা এবং পর্যটন নগরী কক্সবাজারে পৃথক দুটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে এসব তথ্য ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের চিত্র সামনে আসে।

শনিবার রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) যৌথভাবে ‘বাণিজ্য, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক কূটনীতিক কর্মপরিকল্পনা বিষয়ক সম্মেলন’ এবং ‘ঝুঁকি মোকাবেলায় স্থিতিস্থাপকতার সদ্ব্যবহার’ শীর্ষক সম্মেলনের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতি এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার এই চ্যালেঞ্জিং সময়ে বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতির মূল ভিত্তিই হচ্ছে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’। দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং সার্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার।

বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কথা উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, জ্বালানি সংকট বর্তমানে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে একটি বড় বাধা। এই বাধা দূর করে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করতে সরকার একটি টেকসই, স্বচ্ছ এবং পূর্বাভাসযোগ্য নীতিগত পরিবেশ তৈরি করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক ঝুঁকিগুলো সফলভাবে মোকাবেলায় অর্থনৈতিক কূটনীতির ওপর জোর দিতে হবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে শক্তিশালী অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আরও স্থিতিশীল করতে কাজ করছে সরকার। একই সাথে প্রথাগত খাতের বাইরে গিয়ে দেশের অর্থনীতিকে বহুমুখী করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সৃজনশীল শিল্প এবং ক্রীড়া খাতের মতো উদীয়মান বৈশ্বিক ক্ষেত্রগুলোতে সুনির্দিষ্ট সরকারি নীতিমালা ও পৃষ্ঠপোষকতা বাড়িয়ে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে বিশ্বমঞ্চে সফলভাবে তুলে ধরার তাগিদ দেন তিনি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই সম্মেলনটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীজনদের মধ্যে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে অর্থবহ সংলাপ ও মতবিনিময়ের একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। সম্মেলনটিতে মূলত তিনটি বিষয়ভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন বা থিমেটিক প্লেনারি সেশন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম অধিবেশন ‘দ্য পলিসি কম্পাস’-এ বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির নীতিগত দিক, দ্বিতীয় অধিবেশন ‘ক্যাপিটাল ফর গ্রোথ’-এ বিনিয়োগ ও অর্থায়ন এবং তৃতীয় অধিবেশন ‘দ্য নিউ স্টেজ- এআই, ক্রিয়েটিভ ইকোনমি অ্যান্ড স্পোর্ট’-এ নতুন প্রবৃদ্ধির চালিকা শক্তি ও উদ্ভাবননির্ভর উন্নয়ন সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হচ্ছে। এই সম্মেলনের মূল লক্ষ্য হলো সরকারি সংস্থা, বেসরকারি খাত এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক রূপান্তর ও টেকসই প্রবৃদ্ধি এজেন্ডাকে বেগবান করা।

এদিকে, দেশের অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে শনিবার কক্সবাজারে বড় ধরনের উন্নয়ন যজ্ঞের সূচনা হয়েছে। সকালে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ বিমানে কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছান। সেখান থেকে তিনি সরাসরি কক্সবাজারের পাতলী খাল পুনঃখনন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এই প্রকল্প স্থানীয় অঞ্চলের জলবদ্ধতা নিরসন এবং কৃষিকাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পাতলী খালের খনন কাজ উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী মাছুমঘাট সংরক্ষিত বনে একটি চারা রোপণের মাধ্যমে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির ঐতিহাসিক উদ্বোধন করেন। পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় এই কর্মসূচিকে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এরপর তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত কক্সবাজারের শহিদ ওয়াসীমের কবর জিয়ারত করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সাথে সাক্ষাৎ করে গভীর সমবেদনা জানান।

সরকারি সফরের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী পেকুয়া পৌরসভা এবং নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার বিভিন্ন অবকাঠামোগত কার্যক্রমের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধন করেন। এসব এলাকাকে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত অঞ্চল হিসেবে গড়ে তুলতে স্থানীয় সরকার কাঠামোকে শক্তিশালী করার অংশ হিসেবে এই উন্নয়ন প্রকল্পগুলো হাতে নেওয়া হয়েছে।

বিকেলে চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনাল মাঠে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে তিনি সরকারের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা ও দিকনির্দেশনা তুলে ধরবেন। জনসভা শেষে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত ও মেরিন ড্রাইভ এলাকা পরিদর্শন এবং স্থানীয় সুধী সমাবেশে অংশ নিয়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য প্রদান শেষে রাতে তাঁর ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে। সরকারের এই উচ্চপর্যায়ের তৎপরতা দেশের অভ্যন্তরীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদারে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026