1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৯ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ

২৮১০ কোটি ব্যয়ের পর ঢাকা-গাজীপুর বিআরটিকে ৬ লেন সড়কে রূপান্তরের পরিকল্পনা

রিপোর্টার
  • আপডেট : বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৩ বার দেখা হয়েছে

দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে ২ হাজার ৮১০ কোটি টাকা ব্যয়ের পর চালুর আগেই বাতিল হয়ে গেল দেশের প্রথম ডেডিকেটেড বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্প। গাজীপুর-বিমানবন্দর বিআরটি করিডরটিকে এখন ছয় লেনের সড়কে রূপান্তরের কথা ভাবছে সরকার।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, উভয় দিকে সাধারণ যানবাহন চলাচলের জন্য তিনটি করে লেন তৈরি করতে বিআরটি স্টেশন, লেন বিভাজক ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অবকাঠামো অপসারণ করা হবে। একইসঙ্গে বিদ্যমান দুই লেনবিশিষ্ট দুটি উড়ালসড়ক চার লেনে উন্নীত করার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের ১৯ অক্টোবর জারি করা এক চিঠি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে ১৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।

বিভাগের উপসচিব তাসলিমা আহমেদ পলির সই করা ওই চিঠিতে বলা হয়, মন্ত্রিসভা ঢাকা বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট পিএলসি বিলুপ্ত করে এর দায়িত্ব সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ১৫ দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের প্রাথমিক অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া সিদ্ধান্তগুলো পুরোপুরি বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত প্রতি মাসের ৩ তারিখের মধ্যে অগ্রগতির হালনাগাদ তথ্য দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, প্রকল্পটি আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করার আগে উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে আলোচনা এবং সংশ্লিষ্ট আইনি ও চুক্তিগত জটিলতা নিষ্পত্তি করতে হবে।

২০১২ সালের নভেম্বরে অনুমোদিত ২০ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রকল্পটি ২ হাজার ৩৭ দশমিক ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বারবার বিলম্ব ও সংশোধনের ফলে প্রাক্কলিত ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ৪ হাজার ২৬৮ দশমিক ৩২ কোটি টাকায়।

প্রকল্পটিতে অর্থায়ন করেছে বাংলাদেশ সরকার, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এবং ফ্রান্সের উন্নয়ন সংস্থা এজেন্স ফ্রঁসেজ দ্য দেভেলপমঁ (এএফডি)।

২০২৪ সালের ডিসেম্বর নাগাদ প্রকল্পের অবকাঠামোগত কাজের প্রায় ৯৭ শতাংশ শেষ হলেও সার্বিক বাস্তব অগ্রগতি ছিল ৭৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ।

ওই বছরের ডিসেম্বরে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়। এরপর আর মেয়াদ বাড়ানো হয়নি। পরে বিআরটির জন্য নির্মিত পৃথক লেনগুলো সাধারণ যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হলেও বাস কেনার দুটি উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ায় বিআরটি সেবা আর চালু হয়নি।

২০২৫ সালের জুলাইয়ে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে ৬ হাজার ৫৯৮ কোটি টাকা এবং মেয়াদ ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। পরিবর্তে প্রকল্পের নকশা ও সম্ভাব্যতা সমীক্ষা নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।

এরপর সরকার চারটি বিকল্প বিবেচনা করে। এগুলো হলো— বিআরটি প্রকল্পের কাজ শেষ করা, রুট ফ্র্যাঞ্চাইজিং পদ্ধতিতে বাস চালু করা, করিডরটিকে টোলভিত্তিক এক্সপ্রেসওয়েতে রূপান্তর করা অথবা সাধারণ মহাসড়কে পরিণত করা। শেষ পর্যন্ত মন্ত্রিসভা শেষের বিকল্পটি বেছে নেয়।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) একটি পর্যালোচনা দলও নকশাগত ত্রুটি ও সীমিত সক্ষমতার কথা উল্লেখ করে বিআরটি সেবা চালুর পরিকল্পনা বাদ দেওয়ার সুপারিশ করেছিল। দলটি প্রকল্পে আরও বিনিয়োগ না করে বিদ্যমান অবকাঠামো সাধারণ যানবাহন চলাচলের জন্য ব্যবহারের পরামর্শ দেয়।

২০২৫ সালের অক্টোবরেও অন্তর্বর্তী সরকার অতিরিক্ত সময় ও অর্থের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে ঢাকা-গাজীপুর রুটে বিআরটি সেবা চালু না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়বিষয়ক বিশেষ সহকারী শেখ মইনউদ্দিন ১১ অক্টোবর রিপোর্টার্স ফর রেল অ্যান্ড রোডের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিলেন।

তবে সরকারের সর্বশেষ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন নগর পরিকল্পনাবিদ ও নাগরিক সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি) গতকাল সরকারের এ সিদ্ধান্তকে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক গণপরিবহনের জন্য একটি ‘কালো দিন’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।

সংগঠনটি বলেছে, এ সিদ্ধান্ত গাজীপুর পরিবহন মহাপরিকল্পনা (জিটিএমপি) এবং ঢাকার সংশোধিত কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনার (আরএসটিপি) সুপারিশের পরিপন্থী। এটি ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারকারী ও নির্মাণ খাতের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েছে।

বিআইপি আরও বলেছে, ১৪ বছর ধরে নির্মাণকাজের কারণে ভোগান্তিতে থাকা গাজীপুর ও উত্তরার বাসিন্দাদের পরিবহন চাহিদার বিষয়টি এ সিদ্ধান্তে উপেক্ষিত হয়েছে।

পৃথক বিবৃতিতে গাজীপুর ঐতিহ্য ও উন্নয়ন সংস্থা সতর্ক করে বলেছে, প্রায় সম্পন্ন হওয়া অবকাঠামো ভেঙে ফেলা হলে সরকারি অর্থের অপচয় হবে এবং যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বাড়বে। সংগঠনটি সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে।

এদিকে বিআরটি প্রকল্পের নির্মাণস্থলে দুর্ঘটনায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। ২০২২ সালের জুলাইয়ে গাজীপুরে বিআরটি প্রকল্পের নির্মাণস্থলে ক্রেন পড়ে এক নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যু হয়। এ ছাড়া উত্তরায় একটি ক্রেন থেকে ভারী গার্ডার একটি গাড়ির ওপর পড়ে পাঁচজন নিহত হন।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026