দেশের বাস্তবতা ও প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উদ্ভবনী প্রযুক্তিকে জাতীয় সমস্যার চিকিৎসায় কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
রোববার গাজীপুরে ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) ৩৮তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতাকালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহ্দী আমিন ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক প্রফেসর ড. মো. কায়কোবাদ সমাবর্তন বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন। ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. মামুন বিন ইবনে রিয়াজ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার প্রকৃত সার্থকতা তখনই প্রকাশ পায়, যখন মানুষের কাজের মাধ্যমে অন্যদের জীবন আরও সুন্দর ও সমৃদ্ধ হয়। তাই শিক্ষাজীবন শেষে নিজেকে দেশ ও সমাজের কাজে উৎসর্গ করতে হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে এমন মানবসম্পদ প্রয়োজন, যারা প্রযুক্তিকে আমাদের দেশের বাস্তবতা ও প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের কাজে লাগাতে পারেন। এ ছাড়া, যাঁরা নিজেদের উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে দেশের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান তৈরিতে সক্ষম।
যারা ব্যয়বহুল প্রযুক্তি বা সমাধানের খরচ বহন করতে পারেন না, তাদের দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। সঠিক ও ভালো প্রকৌশলের মাধ্যমে আরও বহু পরিবারের কাছে মৌলিক সেবাগুলো পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। এ ক্ষেত্রে আইইউটির শিক্ষার্থীরা তাদের মেধা ও মননকে কাজে লাগিয়ে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে অবদান রাখবে বলে মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন।
তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা এমন এক যুগে কর্মজীবন শুরু করতে যাচ্ছেন, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও দ্রুত প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রতিদিনই নতুন রূপ নিচ্ছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিজেদেরকে নতুন টুল বা প্রযুক্তির ব্যবহারে সক্ষম করে গড়ে তুলতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সমাবর্তন একজন শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। পাশাপাশি, এটা গভীর ব্যক্তিগত আবেগের উপলক্ষ। স্নাতকদের জন্য এটি বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রমের স্বীকৃতি। অভিভাবকদের জন্য এটি এমন এক মুহূর্ত, যখন তাদের ত্যাগ সার্থকতা লাভ করে। আর শিক্ষকদের জন্য এটি সেই আনন্দের মুহূর্ত, যখন তাদের শিক্ষার্থীরা জীবনের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়।
তিনি আরও বলেন, ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি বাংলাদেশে অবস্থিত—এজন্য আমরা গর্বিত।
ওআইসির সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের এবং অত্যন্ত মূল্যবান। এই বিশ্ববিদ্যালয়টি সেই সম্পর্কের একটি বাস্তব ও কার্যকর প্রতিফলন। বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা এখানে ভিন্ন ভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে আসেন। তারা এখানে শিক্ষা অর্জনের জন্য একটি অভিন্ন ক্ষেত্র পান। এখানে গড়ে ওঠা সম্পর্ক ভবিষ্যতে গবেষণা, শিল্প ও শিক্ষার ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারত্বে রূপ নিতে পারে। এই দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করতে এটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি অব্যাহত সমর্থনের জন্য তিনি ওআইসি এবং এর সদস্যরাষ্ট্রগুলোকে ধন্যবাদ জানান।
এই সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ৬৫৯ জন শিক্ষার্থীকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে সম্মানজনক ফলাফলের জন্য ৭ জন শিক্ষার্থীকে গোল্ড মেডেল প্রদান করা হয়। কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আহমেদ রানী ওআইসি গোল্ড মেডেল পেয়েছেন। এ ছাড়া বাকি ৬ জন শিক্ষার্থী আইইউটি গোল্ড মেডেল পেয়েছেন। শিক্ষামন্ত্রী তাদের পদক পরিয়ে দেন এবং তাদের হাতে সার্টিফিকেট তুলে দেন।