২০০৭ সালে নিজ উদ্যোগে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন আলতাফ হোসেন দুখু মিয়া।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে জন্ম থেকেই দুই হাতবিহীন নরসিংদীর শিক্ষক আলতাফ হোসেন দুখু মিয়ার পাশে দাঁড়িয়েছে জেলা প্রশাসন।
সোমবার সকালে সদর উপজেলার পাঁচদোনা এলাকার প্রতিভা দুখু মিয়া কিন্ডারগার্টেনে গিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সময় কাটান জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান কেয়া।
এ সময় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, সম্প্রতি দেশের বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে দুই হাতবিহীন শিক্ষক দুখু মিয়ার পাঠদান নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। বিষয়টি নজরে এলে প্রধানমন্ত্রী বিস্তারিত জানতে নির্দেশনা দেন। এরই অংশ হিসেবে সরকারের তরফ থেকে বিদ্যালয়টি নিবন্ধনসহ অবকাঠামোগত উন্নয়নে সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়।
২০০৭ সালে নিজ উদ্যোগে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন আলতাফ হোসেন দুখু মিয়া। তিনি বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক।
তিনি বলেন, “বর্তমান সরকারপ্রধান আমার বিদ্যালয়টি সম্পর্কে জানতে পেরেছেন সেটা জেনে আমি আনন্দিত। আমার স্বপ্ন হচ্ছে, প্রতিষ্ঠানটিকে উচ্চ বিদ্যালয়ে রূপান্তরিত করা। আশা করছি, সরকার ও প্রশাসনের সহায়তায় প্রতিভা দুখু মিয়া বিদ্যালয়টি সমৃদ্ধ হবে।”
নিজের দুই হাত না থাকলেও থেমে নেই দুখু মিয়ার জীবনযুদ্ধ। পা দিয়েই ব্ল্যাকবোর্ডে লিখে প্রতিদিন শিশুদের পাঠদান করে যাচ্ছেন তিনি। বর্তমানে এই বিদ্যালয়টিতে শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত ১৪৫ শিশু পড়াশোনা করছে।
১৯৬২ সালে জন্ম নেওয়া আলতাফ হোসেন শৈশবেই পা দিয়ে লেখার অভ্যাস গড়ে তোলেন। বাবাই তাকে কালি ও কঞ্চি দিয়ে কলাপাতায় লেখা শেখান। পা দিয়ে লিখেই তিনি মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও স্নাতক পাস করেন।
শিক্ষাজীবন শেষ করে শুরু হয় কর্মসংস্থানের লড়াই। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আবেদন করলেও চাকরি হয়নি কোথাও। পরে জমি বিক্রি করে ২০০৭ সালে নগর পাঁচদোনায় নিজের পৈতৃক জমিতে প্রতিষ্ঠা করেন প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন।
মদ, নাচানাচি ও রাষ্ট্রের নৈতিক পাহারাদারি
‘রাস্তা আছে যেখানে, অটো চলবে সেখানে’
তৌফিক ইমরোজ খালিদী: ডিজিটাল সংবাদপত্রের পথিকৃৎ