1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৩ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
২০৩০ সালের আগেই এয়ারবাসের উড়োজাহাজ চায় বাংলাদেশ মেসির বিদায়ী ম্যাচ আজ; বাংলাদেশ সময় কখন? মোবাইলে দেখবেন যেভাবে বাংলাদেশ পুলিশের নতুন মুখপাত্র কামারুম মুনিরা পাকিস্তানকে আবারও হারিয়ে ফাইনালের পথে বাংলাদেশ ঢাকা থেকে দিল্লি গিয়ে ‘মোদীর সঙ্গে ত্রিবেদীর সাক্ষাৎ’ ‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক’-এর যবিপ্রবির ১৬ শিক্ষার্থী মনোনীত জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৩০ ব্যাংকের ডিজিটাল কার্যক্রম বন্ধ, কী বলছে বাংলাদেশ ব্যাংক? শৈশবের মজার স্মৃতি সুন্দরবনে বাঘের পায়ের ছাপ দেখা, শিশুদের কৌতূহল মেটালেন প্রধানমন্ত্রী গ্রিস-বাংলাদেশ শ্রমচুক্তি বাস্তবায়নের তাগিদ রাষ্ট্রদূত সুমনার

প্রশ্নফাঁস চক্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তাও বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক আলমাছ আলী সাময়িক বরখাস্ত # চাকরিপ্রার্থী জোগাতে দেলোয়ারের নেতৃত্বে ছিল ২১ জনের দল, খামে ভরার সময় প্রশ্ন রেখে দিতেন # রাজধানীর ১০ বাসায় ১০১ জনকে আগের রাতেই উত্তর মুখস্থ করানো হয়

রিপোর্টার
  • আপডেট : শনিবার, ১৩ নভেম্বর, ২০২১
  • ১৮০ বার দেখা হয়েছে

সাজ্জাদ মাহমুদ খান  প্রশ্নফাঁস চক্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক যুগ্ম পরিচালক আলমাছ আলীর নাম উঠে এসেছে। তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগে কর্মরত ছিলেন। পরীক্ষায় সিট কোথায় পড়বে এবং ভাইভা বোর্ডে কারা থাকবেন সেটা চক্রকে জানাতেন আলমাছ আলী। নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ মৌখিক পরীক্ষায় তদবিরও করতেন। এসব কারণে সম্প্রতি আলমাছ আলী সাময়িক বরখাস্ত হন। প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে তার যোগাযোগের প্রমাণ পেয়েছেন গোয়েন্দারা। বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে রাষ্ট্রায়ত্ত ৫ ব্যাংকের প্রশ্ন ও উত্তরফাঁসের পরীক্ষায় আলমাছ আলী তিন ব্যক্তিকে পাঠিয়েছিলেন মোস্তাফিজুর রহমানের কাছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (তেজগাঁও জোন) শাহাদত হোসেন সুমা আমাদের সময়কে বলেন, ওই চক্রের আট সদস্যকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে আরও অনেকের নাম বেরিয়ে আসছে। চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে। ব্যাংক কর্মকর্তারা জড়িত আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রশ্নফাঁসের পর একজন চাকরিপ্রার্থীকে পাস করা থেকে মৌখিক পরীক্ষা পর্যন্ত চক্রের সদস্যরা তত্ত্বাবধান করেন। সেক্ষেত্রে ব্যাংকের কর্মকর্তারাও সন্দেহের বাইরে নন।
আলমাছ আলীর বিষয়ে জানতে চাইলে
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমাদের অনেক কর্মী। তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে কিনা মনে পড়ছে না। তাদের মধ্যে কেউ অনৈতিক কাজে জড়িত থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
এদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে রাষ্ট্রায়ত্ত ৫ ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ও উত্তরফাঁসের মূলহোতা আহছানউল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অফিসের পিয়ন দেলোয়ার হোসেন এখনো লাপাত্তা। দেলোয়ার খামে ভরার ফাঁকে নজরদারির অভাবে প্রশ্ন নিয়ে নিতেন। পরে তা মুক্তারুজ্জামান ও পারভেজ মিয়ার হাতে তুলে দিতেন। চক্রের সদস্যদের বাসায় চাকরিপ্রার্থীদের ওই প্রশ্নের উত্তর মুখস্থ করানো হতো। প্রশ্নপত্র ফাঁসের পর চাকরিপ্রার্থীদের মুখস্থ করানো হতো মিরপুর ও যাত্রাবাড়ীর এমন ১০টি বাসার সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। এসব বাসায় গত নিয়োগ পরীক্ষার আগের রাতে ১০১ জনকে উত্তর মুখস্থ করানো হয়েছিল।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, চক্রের অন্যতম হোতা আহছানউল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অফিসের পিয়ন দেলোয়ার হোসেন। প্রশ্নপত্র খামে ভরার সময় দেলোয়ার সরিয়ে ফেলত। এরপর সহযোগী মুক্তারুজ্জামান ও পারভেজকে দিত। মুক্তারুজ্জামান সেই প্রশ্ন দিত জনতা ব্যাংকের অফিসার সামশুল হক শ্যামল ও রূপালী ব্যাংকের জানে আলম মিলনকে। মিলন ও শ্যামলের মাধ্যমে প্রশ্ন চলে যেত এমদাদুল হক খোকন ও মোস্তাফিজুর রহমানের কাছে। তাদের দুই জনের তত্ত্বাবধানে রাইসুল স্বপন, মাইনুল, আতিক, জাকির, হেলাল, টিটু, আজাদ ও শীতলের মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থীদের কাছে প্রশ্ন পৌঁছে যেত। অন্যদিকে পারভেজ মিয়ার মাধ্যমে প্রশ্নপত্র চলে যেত জাহাঙ্গীর জাহিদ, রবিউল ইসলাম ও জনতা ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার সোহেল রানার কাছে। তারা কবীর, প্রবীর, নবাব ও সুমনের মাধ্যমে প্রশ্ন ছড়িয়ে দিত।
তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, গত নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তরা, মিরপুর ও গাবতলীতে চক্রের সদস্য জাহিদ, জানে আলম ও মিলনের তত্ত্বাবধানে আগের রাতেই ৬০ জনকে উত্তর মুখস্থ করানো হয়। মাতুয়াইলের বাসার দায়িত্বে ছিলেন চক্রের সদস্য মমিন ও সামাদ। সেখানে ১০ জনকে উত্তর মুখস্থ করানো হয়। এছাড়া চক্রের সদস্য শাওন, হাকি, কাফি, রাজীব, লিটু, উজ্জল ও গোলাম রব্বানীর বাসায় উত্তর মুখস্থ করানো হতো।
বাংলাদেশ ব্যাংকের- ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির অধীনে সম্প্রতি ৫ ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের পর গত শনিবার থেকে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের জালে ধরা পড়ে ৮ জন। তারা হলেন জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তা শামসুল হক শ্যামল, রূপালী ব্যাংকের কর্মকর্তা জানে আলম মিলন ও পূবালী ব্যাংকের ইমামগঞ্জ শাখার প্রিন্সিপাল অফিসার মো. মোস্তাফিজুর রহমান মিলন এবং চাকরিপ্রার্থী রাইসুল ইসলাম স্বপন। তাদের তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার ভোররাত পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাবেক ও বর্তমান আরও ২ ব্যাংক কর্মকর্তাসহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন জনতা ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার এমদাদুল হক খোকন ও সোহেল রানা এবং প্রশ্নফাঁসে পরীক্ষার্থী সংগ্রহে চক্রের এজেন্ট ঢাকা কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী এবি জাহিদ। এদের মধ্যে গ্রেপ্তার সোহেল রানাকে আগেই জনতা ব্যাংক থেকে চাকরিচ্যুত করা হয় বলে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সূত্রটি আরও জানায়, বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক অনুষ্ঠিত পাঁচটি ব্যাংকের এক হাজার ৫১১টি অফিসার (ক্যাশ) শূন্যপদের নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় গত শনিবার। এর মধ্যে সোনালী ব্যাংকে ১৮৩টি, জনতা ব্যাংকে ৫১৬টি, অগ্রণী ব্যাংকে ৫০০টি, রূপালী ব্যাংকে ৫টি এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকে ৭টি পদ রয়েছে। ওইদিন বিকাল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত ঢাকার বিভিন্ন কেন্দ্রে এমসিকিউ পদ্ধতিতে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকার সিলেকশন কমিটির মাধ্যমে প্রশ্নপত্র তৈরি ও পুরো পরীক্ষা সম্পাদনের দায়িত্বে ছিল আহছানউল্লা ইউনিভার্সিটি অব সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজি। আহছানউল্লা ইউনিভার্সিটির মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকার সিলেকশন কমিটির আওতায় ৫ ব্যাংকের অফিসার নিয়োগের সেই প্রিলিমিনারি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠে পরীক্ষার দিনই। ফলে তদন্তের স্বার্থে আহছানউল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজনকে শিগগিরই তলব করবেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। এরপর তাদের সামনে গ্রেপ্তার আসামিদের এনে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। এছাড়াও ঘুরে-ফিরে একাধিকবার যারা বাংলাদেশ ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটিতে রয়েছেন তারাও রয়েছেন নজরদারিতে। প্রয়োজনে এই কমিটির যে কাউকেই জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা হতে পারে বলে জানিয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026