1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২৩ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
আজ ঘোষণা হচ্ছে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল বিজয়ীদের নাম যুক্তরাষ্ট্রের ৬০টি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে আবেদন ফি ছাড়াই আবেদন করার সুযোগ প্রথমবারের মতো শুরু হলো লটারির মাধ্যমে সাবরেজিস্ট্রার বদলি প্রক্রিয়া শিশুরা সঠিকভাবে বেড়ে উঠলে দেশের ভিত্তিও শক্তিশালী হবে: প্রধানমন্ত্রী নীতিমালার আওতায় অটোরিকশা চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে: সড়কমন্ত্রী প্রকৃতি ও পশুপাখির প্রতিও শিশুদের মানবিক হতে হবে: প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আরও জোরালো আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার আহ্বান ঢাকার কম্বোডিয়ায় স্বপ্নের সমাধি: বৃহস্পতিবার ফিরছে ৪ প্রবাসীর নিথর দেহ ছয় বিভাগে বৃষ্টির পূর্বাভাস, অপরিবর্তিত থাকতে পারে তাপমাত্রা প্রত্যেক শিশুকে বিকশিত হওয়ার সুযোগ করে দিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

বিদ্যুৎ সরবরাহের বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য আদানি পাওয়ার আন্তর্জাতিক সালিশি প্রক্রিয়া গ্রহণ করবে

রিপোর্টার
  • আপডেট : বুধবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১৩৩ বার দেখা হয়েছে

জাতীয় ডেস্ক

বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের অর্থপ্রদানের বিরোধ নিষ্পত্তি করতে আন্তর্জাতিক সালিশি প্রক্রিয়া গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতের গৌতম আদানির মালিকানাধীন বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান আদানি পাওয়ার। সোমবার আদানি গ্রুপ এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) এবং আদানি পাওয়ারের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহের অর্থ পরিশোধ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। ২০১৭ সালে উভয় পক্ষের মধ্যে স্বাক্ষরিত বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির আওতায় আদানি পাওয়ার বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ করে আসছে। তবে, নির্দিষ্ট খাতের ব্যয় হিসাব এবং বিল করার পদ্ধতি নিয়ে মতবিরোধের কারণে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে, উভয়পক্ষই বর্তমানে আন্তর্জাতিক সালিশি প্রক্রিয়ায় যাওয়ার জন্য সম্মত হয়েছে।

বিপিডিবির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আলোচনা এখনও চলমান। প্রয়োজন হলে, আন্তর্জাতিক সালিশি প্রক্রিয়ায় যাওয়া হবে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান জানান, দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে এবং আশা করা হচ্ছে যে দ্রুতই এই সমস্যার সমাধান হবে।

চুক্তির বিস্তারিত এবং কর সুবিধা

২০১৭ সালে আদানি পাওয়ারের ঝাড়খণ্ডের গড্ডা কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের বিষয়ে ২৫ বছর মেয়াদী একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির অধীনে, আদানি পাওয়ার বাংলাদেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় এক-দশমাংশ পূরণ করে থাকে।

গত ডিসেম্বরে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আদানি গ্রুপের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগ তুলেছিল। অভিযোগ ছিল, আদানি পাওয়ার ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে প্রাপ্ত কর ছাড় সুবিধা বাংলাদেশের জন্য না দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহের দাম বৃদ্ধি করেছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আদানি পাওয়ারকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য ১৪.৮৭ টাকা পরিশোধ করা হয়, যা অন্যান্য ভারতীয় বিদ্যুৎ সরবরাহকারী কোম্পানির তুলনায় অনেক বেশি।

বকেয়া পরিমাণের পরিবর্তন

গত মে মাসে আদানি পাওয়ারের বকেয়ার পরিমাণ প্রায় ৯০০ মিলিয়ন ডলারে নেমে আসে, যা চলতি বছরের শুরুতে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার ছিল। বর্তমানে, বাংলাদেশের কাছে আদানি পাওয়ারের বকেয়া পরিমাণ প্রায় ১৫ দিনের শুল্কের সমান বলে জানা গেছে।

আদানি পাওয়ারের বিবৃতিতে জানানো হয়, কোম্পানিটি বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং বাংলাদেশে নির্ভরযোগ্য, সাশ্রয়ী ও উচ্চমানের বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রাখবে।

কর ছাড় ও সংশ্লিষ্ট সমস্যা

আদানি পাওয়ারের গড্ডা প্ল্যান্টটি কয়লা আমদানির মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে এবং পুরো উৎপাদিত বিদ্যুৎ বাংলাদেশে সরবরাহ করা হয়। ২০১৯ সালে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার গড্ডা প্ল্যান্টটিকে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের অংশ হিসেবে ঘোষণা করে, যা আদানি পাওয়ারকে আয়কর ও অন্যান্য শুল্ক ছাড় সুবিধা প্রদান করে। তবে, বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য এই সুবিধার পরিপ্রেক্ষিতে দাম কমানোর বিষয়টি উপেক্ষিত হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পূর্ববর্তী চিঠি বিনিময়ের পরেও আদানি পাওয়ার বিপিডিবির কাছ থেকে কোন সাড়া পায়নি বলে জানা গেছে। বিপিডিবি কর্মকর্তারা দাবি করেন, কর ছাড় সুবিধা বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশ প্রতি ইউনিট বিদ্যুতে প্রায় ০.৩৫ সেন্ট সাশ্রয় করতে পারত।

সমস্যার প্রভাব

গড্ডা প্ল্যান্ট থেকে ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বাংলাদেশে ৮ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ইউনিট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে। কর ছাড়ের সমন্বয় হলে, এই বিদ্যুতের মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রায় ২৮.৬ মিলিয়ন ডলার সাশ্রয় করতে পারত।

এই বিরোধের সমাধান দ্রুত কার্যকর না হলে, বিদ্যুৎ সরবরাহ ও দামের বিষয়ে বাংলাদেশে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে। আদানি পাওয়ার ও বিপিডিবির মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত একটি সমাধান আশা করা হচ্ছে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026