1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪০ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক’-এর যবিপ্রবির ১৬ শিক্ষার্থী মনোনীত জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৩০ ব্যাংকের ডিজিটাল কার্যক্রম বন্ধ, কী বলছে বাংলাদেশ ব্যাংক? শৈশবের মজার স্মৃতি সুন্দরবনে বাঘের পায়ের ছাপ দেখা, শিশুদের কৌতূহল মেটালেন প্রধানমন্ত্রী গ্রিস-বাংলাদেশ শ্রমচুক্তি বাস্তবায়নের তাগিদ রাষ্ট্রদূত সুমনার গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব শুরু জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী আজ ঘোষণা হচ্ছে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল বিজয়ীদের নাম যুক্তরাষ্ট্রের ৬০টি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে আবেদন ফি ছাড়াই আবেদন করার সুযোগ প্রথমবারের মতো শুরু হলো লটারির মাধ্যমে সাবরেজিস্ট্রার বদলি প্রক্রিয়া

বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের ৫৫তম শাহাদাতবার্ষিকী আজ, রায়পুরায় নানা কর্মসূচি

রিপোর্টার
  • আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬
  • ৩৩ বার দেখা হয়েছে
বাংলাদেশ ডেস্ক
মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমানের ৫৫তম শাহাদাতবার্ষিকী আজ। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান নিয়ে দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশ নেওয়ার লক্ষ্যে যাত্রা করার সময় মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় শাহাদাতবরণ করেন এই অকুতোভয় বৈমানিক। দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের লক্ষ্যে তাঁর পৈতৃক নিবাস নরসিংদীর রায়পুরায় উপজেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সকাল থেকেই রায়পুরা উপজেলার রামনগর গ্রামে অবস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্মৃতি জাদুঘর প্রাঙ্গণে নির্মিত তাঁর ম্যুরালে পুষ্পস্তবক অর্পণ, বিশেষ আলোচনা সভা এবং দোয়া মাহফিল। স্থানীয় প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও সর্বস্তরের জনসাধারণের অংশগ্রহণে আয়োজিত এসব অনুষ্ঠানে জাতির এই শ্রেষ্ঠ সন্তানের বীরত্বগাঁথা ও মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা হবে।
বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান ১৯৪১ সালের ২৯ অক্টোবর পুরান ঢাকার আগা সাদেক রোডের পৈতৃক বাসভবনে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলার রামনগর গ্রামে। মৌলভী আবদুস সামাদ ও সৈয়দা মোবারকুন্নেসা খাতুনের ১১ সন্তানের মধ্যে তিনি ছিলেন ষষ্ঠ। তিনি ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করার পর তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের সারগোদায় অবস্থিত পাকিস্তান বিমান বাহিনী পাবলিক স্কুলে ভর্তি হন এবং সেখান থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।
১৯৬১ সালের আগস্ট মাসে তিনি পাকিস্তান বিমান বাহিনীতে ক্যাডেট হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৬৩ সালে রিসালপুরের পিএএফ একাডেমি থেকে পাইলট অফিসার হিসেবে কমিশন লাভ করার পর তিনি মৌরিপুর ও করাচির বিভিন্ন বিমানঘাঁটিতে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। একপর্যায়ে তিনি সেখানে যোগ্য বৈমানিক প্রশিক্ষক বা ফ্লাইট ইন্সট্রাক্টর হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করেন।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে মতিউর রহমান ছুটি নিয়ে ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। সে সময় তিনি সাধারণ মানুষকে সংগঠিত করে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় করার উদ্যোগ নেন। তবে সার্বিক পরিস্থিতির কারণে মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে তাঁকে কর্মস্থল করাচির মাসরুর বিমানঘাঁটিতে ফিরে যেতে হয়। করাচিতে পৌঁছালেও তাঁর মন পড়ে ছিল স্বদেশের মুক্তিসংগ্রামে। বিমানবাহিনীর অভ্যন্তরে থেকেই তিনি বাংলাদেশকে মুক্ত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করতে থাকেন এবং সিদ্ধান্ত নেন পাকিস্তানি বিমানবাহিনীর একটি আধুনিক যুদ্ধবিমান ছিনতাই করে মুক্তিযুদ্ধে যুক্ত হওয়ার।
পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ১৯৭১ সালের ২০ আগস্ট সকালে করাচির মাসরুর বিমানঘাঁটি থেকে তাঁর অধীনস্থ পাকিস্তানি পাইলট অফিসার রশিদ মিনহাজকে নিয়ে টি-৩৩ মডেলের একটি প্রশিক্ষণ বিমান নিয়ে উড্ডয়ন করেন মতিউর রহমান। বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তিনি সরাসরি ভারতীয় সীমান্তের দিকে অগ্রসর হতে থাকেন। তবে সীমান্তের কাছাকাছি সিন্ধু প্রদেশের থাট্টা এলাকায় বিমানটি পৌঁছালে রশিদ মিনহাজের সঙ্গে তাঁর ধস্তাধস্তি হয় এবং একপর্যায়ে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। এতে মাত্র ২৯ বছর বয়সে শাহাদাতবরণ করেন এই নির্ভীক যোদ্ধা।
পরবর্তীতে দীর্ঘ ৩৫ বছর করাচির মাশরুর বিমানঘাঁটির চতুর্থ শ্রেণির কবরস্থানে তাঁর মরদেহ অবহেলিত অবস্থায় সমাহিত ছিল। স্বাধীনতার দীর্ঘ সময় পর ২০০৬ সালের জুনে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উদ্যোগে তাঁর মরদেহ পাকিস্তান থেকে স্বদেশে ফিরিয়ে আনা হয়। এরপর পূর্ণ রাষ্ট্রীয় ও সামরিক মর্যাদায় রাজধানীর মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাঁকে সমাহিত করা হয়।
মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অসামান্য সাহসিকতা, দেশপ্রেম ও সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার তাঁকে মরণোত্তর সর্বোচ্চ সামরিক সম্মাননা ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ খেতাবে ভূষিত করে। জাতীয় ইতিহাসে তাঁর এই আত্মত্যাগ চিরকাল দেশপ্রেমের এক উজ্জ্বল ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026