আইন আদালত ডেস্ক
মাগুরার আলোচিত ৮ বছরের শিশু আছিয়া আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) এবং আসামির আপিলের ওপর আজ রায় ঘোষণা করবেন উচ্চ আদালত। সোমবার (৩১ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করবেন। এর আগে গত ২৩ আগস্ট উভয় পক্ষের দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত রায়ের জন্য আজকের দিন নির্ধারণ করেছিলেন।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০২৫ সালের মার্চ মাসে মাগুরার নিজনান্দুয়ালী গ্রামে বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল ৮ বছরের শিশু আছিয়া। সেখানে অবস্থানকালে সে বর্বরোচিত শারীরিক নির্যাতন ও ধর্ষণের শিকার হয়। ঘটনার পর গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে হিটু শেখসহ চারজনকে আসামি করে মাগুরা সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় সব আসামিকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনে।
তদন্ত শেষে পুলিশ ২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল আলোচিত এ মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। এরপর ২৩ এপ্রিল আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচারিক কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। বিচার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গত ২৭ এপ্রিল থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় এবং রাষ্ট্রপক্ষ থেকে মোট ২৯ জন সাক্ষীকে আদালতে উপস্থাপন করা হয়। দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল প্রধান আসামি হিটু শেখকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড ও এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডের রায় প্রদান করেন। তবে মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত বাকি তিন আসামিকে খালাস দেন।
আইনজীবীরা জানান, নিয়ম অনুযায়ী বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ড ঘোষিত হওয়ার পর মামলার ডেথ রেফারেন্স অনুমোদনের জন্য হাইকোর্টে আসে। পাশাপাশি দণ্ডিত আসামি রায়ের বিরুদ্ধে জেল আপিল ও নিয়মিত আপিল দায়ের করেন। গত ২৩ আগস্ট এই ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর শুনানি শেষ হয়। আজকের রায়ের মাধ্যমে শিশু আছিয়া হত্যা মামলার বিচার প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন হতে যাচ্ছে, যা শিশু অধিকার রক্ষা এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি রোধে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।