1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৫ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পের মরিয়া কূটনীতি, ফের ত্রিমুখী শান্তি আলোচনায় পুতিনের সম্মতি নরসিংদীতে ডাইং মিলের বয়লারে আগুন, দগ্ধ ৫ জন ঢাকা মেডিকেলে অনূর্ধ্ব ১৯ নারী টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সূচি ঘোষণা ইউক্রেইন-যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় শান্তি আলোচনায় বসতে রাজি পুতিন ব্যাটিং ব্যর্থতায় আরেকটি পরাজয়ে বিব্রতকর বিদায় বাংলাদেশের স্বামী বিদেশ, অন্যের হাত ধরে বেরিয়ে ‘বড় মাশুল’ দিলো জুঁই দাম্মামে বিমানের ফ্লাইট চালু, ২৫ অক্টোবর চালু হচ্ছে রিয়াদে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু অনূর্ধ্ব-১৯ নারী বিশ্বকাপের সূচি প্রকাশ রোনালদোর মালিকানা গুঞ্জন নিয়ে ফুটবল বিশ্বে উত্তাপ | Boishakhi Online

তিউনিশিয়ায় প্রেসিডেন্ট কাইস সাঈদের সমালোচক সাংবাদিক মোহাম্মদ ইউসফি আটক

রিপোর্টার
  • আপডেট : শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৪৭ বার দেখা হয়েছে
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
তিউনিশিয়ার বিশিষ্ট সাংবাদিক ও অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম আল-কাতিবার প্রধান সম্পাদক মোহাম্মদ ইউসফিকে আটকের নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগ এনে তাকে এই আটকাদেশ দেওয়া হয়। তবে সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষা সংগঠন এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর নতুন আঘাত হিসেবে অভিহিত করেছে।
সাংবাদিকদের জাতীয় সংগঠন এসএনজেটি জানায়, শুক্রবার স্থানীয় সময় একটি রেডিও অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে অংশ নিতে যাওয়ার প্রাক্কালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ইউসফিকে আটক করে। এক্সপ্রেস এফএম রেডিওর ওই অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়। অনুষ্ঠানটির উপস্থাপক ওয়ালিদ বেন রুমা জানান, গ্রেপ্তারের সময় সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ দর্শানো হয়নি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে তাকে কেবল জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেওয়া হচ্ছে। পরবর্তীতে তাকে থানায় স্থানান্তরিত করা হয় এবং বিচারিক আদেশের মাধ্যমে আটক রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
রাষ্ট্রীয় সূত্রের বরাد দিয়ে দেশটির বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে যে, ইউসফির বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং অর্থ পাচারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। তবে তিউনিশিয়ার সাংবাদিক ইউনিয়ন এসএনজেটি এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছে। সংগঠনটির সভাপতি জিয়েদ দাব্বার অভিযোগ করেছেন যে, ইউসফিকে তার পেশাগত সাংবাদিকতা এবং আল-কাতিবা ওয়েবসাইটের স্বাধীন সম্পাদকীয় নীতির কারণেই হেনস্তা করা হচ্ছে। বর্তমান সরকারের বিভিন্ন নীতি ও কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ও কঠোর সমালোচনামূলক প্রতিবেদন প্রকাশ করার কারণেই তাকে এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে বলে দাবি করেছে সংবাদিক সংগঠনটি।
এই ঘটনার পর তিউনিশিয়ার গণমাধ্যম ও সুশীল সমাজে গভীর উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্যমতে, ২০২১ সালে প্রেসিডেন্ট কাইস সাঈদ দেশের নির্বাহী ও আইনপ্রণেতা ক্ষমতার বড় অংশ নিজের হাতে কেন্দ্রীভূত করার পর থেকে দেশটিতে ভিন্নমত দমনের প্রবণতা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২২ সালে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা আরও সুসংহত হওয়ার পর থেকে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সংকুচিত হচ্ছে বলে অভিযোগ সমালোচকদের। চলতি বছরেই তিউনিসিয়ার বেশ কয়েকজন খ্যাতনামা গণমাধ্যমকর্মী ও সাংবাদিককে কারাদণ্ড বা আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হয়েছে। এর মধ্যে সাংবাদিক জিয়েদ হেনি, মুরাদ জঘিদি, বোরহেন বসাইস এবং খাওলা বুক্রিমের মতো পরিচিত মুখগুলো রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তিউনিশিয়ার দীর্ঘদিনের শাসক জাইন আল-আবিদিন বেন আলির পতন ঘটেছিল। ওই গণআন্দোলন থেকেই মূলত মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ‘আরব বসন্ত’-এর সূত্রপাত হয়েছিল। সেই পরিবর্তনের ফলে তিউনিশিয়ায় মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সংবাদমাধ্যমের ক্ষেত্রে এক নতুন যুগের সূচনা হয়েছিল, যা আরব বিশ্বের জন্য একটি ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হতো। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিউনিশিয়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতির অবনতি এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নির্বাহী বিভাগের নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধির ফলে সেই অর্জিত স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়েছে বলে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো আশঙ্কা প্রকাশ করছে।
এদিকে, এসব অভিযোগের বিপরীতে তিউনিসিয়ার বর্তমান প্রশাসন ও প্রেসিডেন্ট কাইস সাঈদ বরাবরই তাদের অবস্থান পরিষ্কার করে আসছেন। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বিচার বিভাগ তার নিজস্ব আইনি প্রক্রিয়ায় স্বাধীনভাবে কাজ করছে এবং রাষ্ট্রীয় আইনের শাসন নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপগুলো নেওয়া হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে স্বৈরাচারী মনোভাবের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বলা হয়েছে যে, দেশের প্রচলিত সংবিধানের অধীনে নাগরিকদের মতপ্রকাশ ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সংরক্ষিত রয়েছে। তবে ইউসফির আটকের পর সৃষ্ট এই নতুন রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা তিউনিশিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সীমানা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026