1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৭ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
দ্রুততম ডাবল সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়ে ব্রুকের বিধ্বংসী ২০২ বিএনপি যা প্রতিশ্রুতি দেয়, তা বাস্তবায়ন করে : রিজভী স্থানীয় নির্বাচনে সরকার বিন্দুমাত্র হস্তক্ষেপ করবে না: মীর শাহে আলম প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের আগে দেশে ফেরানো হলো রাষ্ট্রদূতকে আইনের শাসনে দুই ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ খুলনায় নদী ভাঙনের সামনে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে বেড়িবাঁধের দাবি মঈন খানের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল : ডা. জাহিদ ২৪ ঘণ্টা পর ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে আপলাইনে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক ‘শুধু একটা স্নাইপারের অভাব ছিল’—ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে মন্তব্য করা সেই যুবক আটক প্রধানমন্ত্রী যখন জাপান থাকবেন, রাষ্ট্রদূত থাকবেন ঢাকায়

ধূমপানে ৭০ ধরনের ক্যান্সার বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস আজ

রিপোর্টার
  • আপডেট : বুধবার, ৩১ মে, ২০২৩
  • ২২৮ বার দেখা হয়েছে

আজ বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস। প্রতি বছর ৩১ মে দিবসটি বিশ^ব্যাপী পালন করা হয় তামাক ও ধূমপানের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে মানুষকে সচেতন করার উদ্দেশ্যে। তামাক স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর হলেও বাংলাদেশ তথা বিশে^র মোট জনসংখ্যার বিশাল একটা অংশ তামাক নানাভাবে সেবন করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, বিশে^র মোট জনগোষ্ঠীর ২২.৩ শতাংশ মানুষ তামাকজাত দ্রব্য সেবন করে। তামাক এত ক্ষতিকর যে, এর উপাদান শরীরে প্রবেশ করলে ৭০ ধরনের ক্যান্সার হয়ে থাকে। তামাক পাতার মধ্যে রয়েছে ৭ হাজারের বেশি রাসায়নিক উপাদান। তামাকের কারণে ক্যান্সার, হৃদরোগ, স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক, হাঁপানীসহ সব সিওপিডি রোগ হয়ে থাকে। বাংলাদেশে বছরে এক লাখ ২৬ হাজার মানুষের মৃত্যু হচ্ছে এসব রোগে।

 

বাংলাদেশ বিশ্বের ৯ম বৃহত্তম তামাক ব্যবহারকারী দেশ। দেশের ৩৫.৩ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠী তামাক ব্যবহার করে। গ্লোবাল বারডেন অব ডিজিজ স্টাডি, ২০১৯-এর তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে মৃত্যু ও পঙ্গুত্বের প্রধান চারটি কারণের একটি তামাক। তামাক ব্যবহারের অর্থনৈতিক ক্ষতি বছরে ৩০ হাজার ৫৬০ কোটি টাকা। কিন্তু তামাকজাত পণ্য বাজারজাতকারী কোম্পানিগুলো থেকে সরকার এই পরিমাণের চেয়ে অনেক কম টাকা রাজস্ব পায়।

আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটি ও ক্যান্সার রিসার্চ ইউকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় ২০১৮ সালে এক জরিপ চালায়। জরিপে ২০০৪ সালের তথ্যের তুলনা করা হয়। এতে দেখা যায়, ১৫ বছরে বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারের কারণে মৃত্যুর হার দ্বিগুণ হয়েছে। তামাক ব্যবহারজনিত নানা অসুখে প্রতি বছর এক লাখ ২৫ হাজারের মতো মানুষ মৃত্যুবরণ করেন। বাংলাদেশে ১৫ বছর বয়সের ওপরে প্রাপ্তবয়স্কদের ৩৫ শতাংশের বেশি লোক তামাক ও তামাক জাতীয় পণ্য সেবন করে। চলতি বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, ‘খাদ্য উৎপাদন করি, তামাক নয়’।

তামাকের বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টিকারী সংগঠন প্রজ্ঞা বলছে, তামাক উৎপাদনে তামাক কোম্পানিগুলোর কূটকৌশল উন্মোচনও এবারের বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। তামাকের বিকল্প ফসল উৎপাদন ও বিপণনের সুযোগ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং টেকসই ও পুষ্টিকর ফসল চাষে এবং তামাক চাষিদের উৎসাহিত করতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এ বছর দিবসটির এই প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে। পৃথিবীর ১২৫টিরও বেশি দেশে প্রায় ৪ মিলিয়ন হেক্টর জমিতে তামাক চাষ হয় এবং বাংলাদেশসহ শীর্ষ তামাক উৎপাদনকারী দেশগুলোর বেশির ভাগই নিম্ন ও মধ্যম আয়ভুক্ত।

সর্বশেষ কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ- ২০২১ অনুযায়ী, বাংলাদেশে তামাক চাষে ব্যবহৃত মোট জমির পরিমাণ ৯৯ হাজার ৬০০.২৪ একর। তামাকের পরিবর্তে এই পরিমাণ জমিতে বোরো ধান আবাদ করলে এক লাখ ৬৭ হাজার ৪২৮ মেট্রিক টন ধান এবং এক লাখ ৩২ হাজার ৯৬৬ মেট্রিক টন গম বা ৮ লাখ ৫০ হাজার ৩৮৭ মেট্রিক টন আলু উৎপাদন করা সম্ভব হতো। উল্লেখ্য, ২০২১ রবি মৌসুমে বোরো, গম এবং আলুর একর প্রতি গড় উৎপাদন ছিল যথাক্রমে এক হাজার ৬৮১ কেজি, এক হাজার ৩৩৫ কেজি এবং আট হাজার ৫৩৮ কেজি।

জলবায়ু পরিবর্তন, যুদ্ধ এবং নানাবিধ বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ কারণে বাংলাদেশের জন্য খাদ্যনিরাপত্তার বিষয়টি ক্রমেই অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এরকম পরিস্থিতিতে তামাকের মতো একটি জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিধ্বংসী ফসল উৎপাদনের বিপরীতে বিপুল পরিমাণ খাদ্যশস্য হারানোর ক্ষতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

তামাক চাষের ক্ষতি আড়াল করতে কোম্পানিগুলো তথাকথিত সামাজিক দায়বদ্ধতামূলক কর্মসূচিকে (সিএসআর) প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এ বি এম জুবায়ের বলেন, ‘তামাক কোম্পানির সিএসআর কার্যক্রম বন্ধসহ একটি খসড়া সংশোধনী মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। খসড়াটি যত দ্রুত চূড়ান্ত হবে, তামাকমুক্ত বাংলাদেশ অর্জনের পথ ততই ত্বরান্বিত হবে।’

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026