1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪১ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পের মরিয়া কূটনীতি, ফের ত্রিমুখী শান্তি আলোচনায় পুতিনের সম্মতি নরসিংদীতে ডাইং মিলের বয়লারে আগুন, দগ্ধ ৫ জন ঢাকা মেডিকেলে অনূর্ধ্ব ১৯ নারী টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সূচি ঘোষণা ইউক্রেইন-যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় শান্তি আলোচনায় বসতে রাজি পুতিন ব্যাটিং ব্যর্থতায় আরেকটি পরাজয়ে বিব্রতকর বিদায় বাংলাদেশের স্বামী বিদেশ, অন্যের হাত ধরে বেরিয়ে ‘বড় মাশুল’ দিলো জুঁই দাম্মামে বিমানের ফ্লাইট চালু, ২৫ অক্টোবর চালু হচ্ছে রিয়াদে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু অনূর্ধ্ব-১৯ নারী বিশ্বকাপের সূচি প্রকাশ রোনালদোর মালিকানা গুঞ্জন নিয়ে ফুটবল বিশ্বে উত্তাপ | Boishakhi Online

ফ্রান্সে কঠোর প্রশাসনিক নিয়ম ও নজরদারির মধ্যে উদযাপিত হচ্ছে ঈদুল আজহা

রিপোর্টার
  • আপডেট : বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬
  • ৭০ বার দেখা হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে ইউরোপের দেশ ফ্রান্সে বসবাসরত মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও ব্যস্ততা লক্ষ্য করা গেছে। তবে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন মুসলিমপ্রধান দেশের মতো ফ্রান্সে উন্মুক্ত স্থানে বা ব্যক্তিগত উদ্যোগে বাসাবাড়িতে পশু কোরবানির কোনো সুযোগ নেই। দেশটির কঠোর ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রব্যবস্থা, জনস্বাস্থ্য নীতি এবং আইনি কাঠামোর কারণে নির্ধারিত সরকারি নিয়ম মেনে কেবল অনুমোদিত কসাইখানা ও বিশেষ জবাইকেন্দ্রে কোরবানি সম্পন্ন করতে হয়। ঈদকে ঘিরে প্রতিবছরের মতো এবারও স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ দেশজুড়ে কঠোর নজরদারি ব্যবস্থা জোরদার করেছে।

সাংবিধানিকভাবে ফ্রান্সে ধর্মীয় স্বাধীনতা স্বীকৃত থাকায় নির্দিষ্ট স্বাস্থ্যবিধি ও প্রশাসনিক শর্ত সাপেক্ষে মুসলমানরা কোরবানি করার সুযোগ পান। ঈদুল আজহার বেশ কিছুদিন আগেই দেশটির কৃষি ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যৌথভাবে বিভিন্ন অঞ্চলের অনুমোদিত স্থায়ী ও অস্থায়ী জবাইকেন্দ্রের তালিকা প্রকাশ করে। স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি বিভিন্ন শহরের প্রধান মসজিদ ও ইসলামিক সংগঠনগুলো মুসল্লিদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করে থাকে। প্রতিটি কেন্দ্রে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা, পরিচ্ছন্নতা এবং পরিবেশগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

রাজধানী প্যারিসে কোরবানি কার্যক্রম সমন্বয়ে ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠান ‘গ্রঁদ মস্কে দ্য প্যারিস’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। এই মসজিদ কর্তৃপক্ষ ঈদের আগে মুসলমানদের জন্য বিশেষ নির্দেশিকা প্রকাশ করে এবং অনুমোদিত বৈধ জবাইকেন্দ্রগুলোর অবস্থান সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করে। একই সঙ্গে জবাই প্রক্রিয়া ইসলামি শরিয়াহ ও হালাল বিধান অনুযায়ী হচ্ছে কি না, তা-ও নিবিড়ভাবে তদারকি করা হয়। একইভাবে লিওঁ শহরের ‘গ্রঁদ মস্কে দ্য লিওঁ’ স্থানীয় প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে কোরবানির ব্যবস্থা পরিচালনা করে। রোন অঞ্চলে অনুমোদিত কসাইখানাগুলোতে ধর্মীয় বিধান অনুসরণ নিশ্চিত করতে ‘আরজিএমএল’ নামের হালাল সনদ প্রদানকারী সংস্থাও দায়িত্ব পালন করে। এ ছাড়া মার্সেই, তুলুজ, লিল এবং স্ত্রাসবুর্গসহ ফ্রান্সের প্রধান প্রধান শহরগুলোতে স্থানীয় মসজিদ ও মুসলিম সংগঠনের যৌথ তত্ত্বাবধানে কোরবানির আয়োজন সম্পন্ন হয়। ঈদের সময় পশুর অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে সরকার বেশ কিছু এলাকায় অস্থায়ী জবাইকেন্দ্রের অনুমোদন দেয়।

ফরাসি আইন অনুযায়ী, সরকারের অনুমোদিত নির্ধারিত কসাইখানার বাইরে বা ব্যক্তিগত জায়গায় পশু জবাই করা একটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ। এ ধরনের আইন লঙ্ঘনের দায়ে সর্বোচ্চ ৬ মাসের কারাদণ্ড এবং ১৫ হাজার ইউরো পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে ঈদুল আজহার দিনগুলোতে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন বিশেষ অভিযান ও নজরদারি পরিচালনা করে। আইন অনুযায়ী, কোরবানির জন্য পশু কেবল অনুমোদিত খামার থেকে সংগ্রহ করতে হয় এবং পশু পরিবহন ও জবাইয়ের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ বাধ্যতামূলক। জনস্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে জবাইয়ের সময় প্রশিক্ষিত পেশাদার কর্মীর উপস্থিতি আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

এদিকে, ফ্রান্সে কোরবানি ও হালাল জবাই নিয়ে দীর্ঘদিনের আইনি ও সামাজিক বিতর্ক রয়েছে। স্থানীয় প্রাণী অধিকার রক্ষা বিষয়ক সংগঠনগুলোর দাবি, পশুর কষ্ট লাঘব করার জন্য জবাইয়ের পূর্বে সেটিকে অজ্ঞান করা বাধ্যতামূলক করা উচিত। অপরদিকে, মুসলিম সংগঠনগুলোর বক্তব্য অনুযায়ী, ধর্মীয় বিধান মেনে কোরবানি করার অধিকার তাদের মৌলিক ধর্মীয় স্বাধীনতার অংশ। ফলে বিষয়টি প্রায়ই ধর্মীয় স্বাধীনতা ও প্রাণী কল্যাণের মধ্যকার ভারসাম্যের আলোচনায় প্রাধান্য পায়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২০০৯ সালের সাধারণ আইন অনুযায়ী পশু জবাইয়ের আগে অজ্ঞান করার বিধান থাকলেও, ধর্মীয় কারণে হালাল ও কোশার পদ্ধতির ক্ষেত্রে ফ্রান্স বিশেষ ছাড় বহাল রেখেছে। ২০২০ ও ২০২১ সালে ফরাসি কৃষি মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত নির্দেশনায় এই ধর্মীয় ছাড় বহাল রাখার বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করা হয় এবং স্বাস্থ্যবিধি আরও স্পষ্ট করা হয়।

আইনি অনুমতি থাকা সত্ত্বেও বাস্তব ক্ষেত্রে প্রতিবছর দেশটির মুসলিম সম্প্রদায়কে নানাবিধ সংকটের মুখোমুখি হতে হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো স্থায়ী ও অস্থায়ী অনুমোদিত কসাইখানার চরম স্বল্পতা। উদাহরণস্বরূপ, বিগত ২০২৫ সালে গার্দ বিভাগে পুরো মুসলিম জনগোষ্ঠীর জন্য মাত্র একটি অস্থায়ী জবাইকেন্দ্রের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল, যা বিভাগীয় জনসংখ্যা সুরক্ষা অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে ভেস্ত্রিক-এ-কাঁদিয়াক এলাকায় পরিচালিত হয়।

অবকাঠামোগত সংকটের পাশাপাশি অর্থনৈতিক চাপও একটি বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঈদের মৌসুমে চাহিদা ব্যাপক বৃদ্ধি পাওয়ায় ভেড়ার দাম কয়েক গুণ বেড়ে যায়। বছরের সাধারণ সময়ে যে ভেড়া প্রায় ৯০ ইউরোতে বিক্রি হয়, কোরবানির মৌসুমে তা সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যায়। এতে মধ্য ও নিম্ন আয়ের মুসলিম পরিবারগুলো মারাত্মক হিমশিম খায়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিম শহরের ‘লুমিয়ের এ পিয়েতে’ মসজিদসহ বেশ কিছু ইসলামিক প্রতিষ্ঠান মুসল্লিদের সরাসরি পশু কেনার পরিবর্তে অনুমোদিত কসাইখানা থেকে সরাসরি প্রক্রিয়াজাত মাংস সংগ্রহের পরামর্শ দিয়েছে।

নানা প্রশাসনিক জটিলতা, আইনি কড়াকড়ি ও ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের পরও ফ্রান্সে মুসলিম সমাজে কোরবানি একটি অন্যতম প্রধান ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। অনেক পরিবার কোরবানির মাংসের একটি বড় অংশ দরিদ্র ও অভাবী মানুষের মধ্যে বিতরণ করে সামাজিক দায়বদ্ধতার পরিচয় দেন। বিশ্লেষকদের মতে, ফ্রান্সে কোরবানির এই বিদ্যমান ব্যবস্থা ইউরোপীয় আইন, জনস্বাস্থ্য, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও বহুমাত্রিক সামাজিক সহাবস্থানের একটি বাস্তবমুখী সমন্বিত উদাহরণ।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026