1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০২:০৯ অপরাহ্ন

বিশ্ব স্ট্রোক দিবস আজ

রিপোর্টার
  • আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২ বার দেখা হয়েছে

আজ ২৯ অক্টোবর, বিশ্ব স্ট্রোক দিবস। স্ট্রোক সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো, এর লক্ষণ দ্রুত শনাক্ত করা এবং সময়মতো চিকিৎসা নেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরতে দিবসটি পালিত হয়। হঠাৎ মুখ বেঁকে যাওয়া, হাত দুর্বল হয়ে পড়া কিংবা কথা জড়িয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা করা বিপজ্জনক। কারণ, স্ট্রোকের ক্ষেত্রে প্রতিটি মিনিটই গুরুত্বপূর্ণ।

মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে কিংবা মস্তিষ্কের কোনো রক্তনালি ফেটে গেলে স্ট্রোক হতে পারে। এতে মস্তিষ্কের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দ্রুত চিকিৎসা না পেলে স্থায়ী শারীরিক অক্ষমতা, এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। তবে লক্ষণ দ্রুত শনাক্ত করে জরুরি চিকিৎসা নেওয়া গেলে জীবন বাঁচানো এবং দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

বিশ্বজুড়ে প্রতি চারজন মানুষের একজনের জীবদ্দশায় স্ট্রোক হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে স্ট্রোকবিষয়ক সচেতনতামূলক প্রচারণায় উল্লেখ করা হয়েছে। তাই স্ট্রোকের লক্ষণ জানা এবং অন্যদেরও এ বিষয়ে সচেতন করা জরুরি।

স্ট্রোকের সতর্কসংকেত দ্রুত চিনতে ‘বি ই ফাস্ট’ পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। এতে ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণের কথা বলা হয়েছে।

১. ভারসাম্য হারানো: হঠাৎ হাঁটতে সমস্যা হওয়া, মাথা ঘোরা কিংবা শরীরের ভারসাম্য ধরে রাখতে না পারা।

২. চোখে সমস্যা: হঠাৎ এক বা দুই চোখে ঝাপসা দেখা কিংবা দৃষ্টিশক্তির পরিবর্তন হওয়া।

৩. মুখ বেঁকে যাওয়া: মুখের এক পাশ ঝুলে পড়া বা হাসতে গেলে মুখের দুই পাশ অসমান দেখা।

৪. হাত দুর্বল হওয়া: হঠাৎ এক হাত দুর্বল হয়ে পড়া কিংবা হাত তুলতে অসুবিধা হওয়া।

৫. কথা জড়িয়ে যাওয়া: স্পষ্টভাবে কথা বলতে না পারা, কথা জড়িয়ে যাওয়া কিংবা অন্যের কথা বুঝতে অসুবিধা হওয়া।

৬. দ্রুত জরুরি চিকিৎসা: এসব লক্ষণের যেকোনো একটি হঠাৎ দেখা দিলে অপেক্ষা না করে জরুরি চিকিৎসাসেবা নিতে হবে। লক্ষণ কখন শুরু হয়েছে, সেই সময়টিও মনে রাখা জরুরি।

নারীদের ক্ষেত্রে যেসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে

স্ট্রোকের সাধারণ লক্ষণ নারী ও পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই দেখা যায়। তবে নারীদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত দুর্বলতা, বিভ্রান্তি, স্মৃতির সমস্যা, অস্বাভাবিক ক্লান্তি, বমি বমি ভাব কিংবা বমির মতো লক্ষণও দেখা দিতে পারে। এসব উপসর্গকে অনেক সময় সাধারণ অসুস্থতা ভেবে উপেক্ষা করা হয়, ফলে চিকিৎসা নিতে দেরি হতে পারে।

এছাড়া হঠাৎ শরীরের এক পাশের মুখ, হাত বা পা অবশ হয়ে যাওয়া কিংবা দুর্বল হয়ে পড়া, কথা বুঝতে সমস্যা এবং কোনো পরিচিত কারণ ছাড়াই তীব্র মাথাব্যথাও স্ট্রোকের সতর্কসংকেত হতে পারে।

সব স্ট্রোকের ক্ষেত্রে স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যায় না। কিছু ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের রক্তনালি বন্ধ হয়ে কোষের ক্ষতি হলেও তাৎক্ষণিকভাবে বোঝার মতো উপসর্গ নাও থাকতে পারে। একে বলা হয় নীরব স্ট্রোক।

নীরব স্ট্রোকের প্রভাব শুরুতে সহজে বোঝা না গেলেও এটি চিন্তাভাবনা ও চলাফেরার সূক্ষ্ম সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে আবার স্ট্রোক হওয়া এবং স্মৃতিভ্রংশের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। বয়স বৃদ্ধি, ধূমপান এবং রক্তনালিসংক্রান্ত রোগের ইতিহাস এ ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত।

স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দিলে নিজে থেকে সেরে ওঠার অপেক্ষা করা যাবে না। দ্রুত জরুরি চিকিৎসাসেবা নিতে হবে। লক্ষণ কখন শুরু হয়েছে, তা চিকিৎসককে জানানো গুরুত্বপূর্ণ, কারণ চিকিৎসার কার্যকারিতা অনেক ক্ষেত্রে কত দ্রুত চিকিৎসা শুরু হচ্ছে, তার ওপর নির্ভর করে।

স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা, ধূমপান এড়িয়ে চলা, নিয়মিত শরীরচর্চা করা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ডায়াবেটিস ও রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।

বিশ্ব স্ট্রোক দিবসের মূল বার্তা—স্ট্রোকের লক্ষণ চিনুন, পরিবারের সদস্য ও আশপাশের মানুষকে সচেতন করুন এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা নিন। সময়মতো পদক্ষেপই পারে জীবন বাঁচাতে এবং স্ট্রোকের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি কমাতে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026