সরকারি কর্মচারীদের জন্য প্রায় দ্বিগুণ বেতন-ভাতা বাড়ানোর নতুন পে-স্কেল ঘোষণা করা হলেও রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রিসভার সদস্যদের সম্মানী বাড়ানো হয়নি।
গত জুলাই মাস থেকে বাড়তি (আংশিক) বেতন পাওয়া শুরু করেছেন সরকারি কর্মচারীরা। তবে পুরোনো সম্মানীতেই আটকে থাকতে হচ্ছে রাষ্ট্র ও সরকারের নীতিনির্ধারকদের।
নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী সচিবদের মূল বেতন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সম্মানীকে ছাড়িয়ে গেছে। নবম পে-স্কেল অনুযায়ী সচিবদের মূল বেতন ধরা হয়েছে এক লাখ ৫৬ হাজার টাকা। মন্ত্রিপরিষদ ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব পান এক লাখ ৭২ হাজার টাকা।
বর্তমানে রাষ্ট্রপতির সম্মানী নির্ধারিত আছে এক লাখ ২০ হাজার টাকা। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর সম্মানী এক লাখ ১৫ হাজার টাকা। এ ছাড়া, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা পান যথাক্রমে এক লাখ পাঁচ হাজার টাকা ও ৯২ হাজার টাকা।
সাধারণত সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের পাশাপাশি একই সময় থেকে রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রিসভার সদস্য এবং বিচারপতিদের বেতন বৃদ্ধির আইন সংশোধন হয়ে থাকে, এমনটাই জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অফিসাররা।
ঐতিহ্য অনুযায়ী মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীদের বেতন বাড়ানোর প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু উচ্চ পর্যায়ের সবুজ সংকেত না মেলায় সেই উদ্যোগ থেমে গেছে।
রাষ্ট্র ও সরকারের নীতি নির্ধারকদের বেতন-ভাতা কী হবে, তা পৃথক পৃথক আইনের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হয়। গত মাসে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রিসভার সদস্যদের সম্মানী বৃদ্ধি সংক্রান্ত আইন সংশোধনে সরকারপ্রধানের সম্মতি চাওয়া হলেও তিনি সায় দেননি।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের দুটি উচ্চ পর্যায়ের সূত্র ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে ‘দ্য প্রেসিডেন্টস (রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) অ্যাক্ট’-এ রাষ্ট্রপতির সম্মানী ও ভাতাসহ বিশেষ সুযোগ-সুবিধার কথা উল্লেখ আছে। প্রধানমন্ত্রীর বেতন ও সুবিধাদি নির্ধারণ করা রয়েছে ‘দ্য প্রাইম মিনিস্টার্স (রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) অ্যাক্ট’-এর মাধ্যমে।
এ ছাড়া, ‘দ্য মিনিস্টার্স, মিনিস্টার্স অব স্টেট অ্যান্ড ডেপুটি মিনিস্টার্স (রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) অ্যাক্ট’-এর মাধ্যমে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের সম্মানী নির্ধারণ হয়।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে সম্প্রতি ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের সম্মানী বাড়ানোর কোনো উদ্যোগ আপাতত নেই, শিগগিরই এমন কোনো উদ্যোগ নাও দেখা যেতে পারে।’
এক প্রশ্নের জবাবে সূত্রটি জানায়, বিএনপি সরকার আসার আগেই জনপ্রতিনিধিদের কিছু সুযোগ-সুবিধা বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছিল, যা পরে বাস্তবায়ন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, জনপ্রতিনিধিরা মিতব্যয়ী হলে সরকারি কর্মচারীরাও তাদের লোভ নিয়ন্ত্রণে রাখবেন।
তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার শপথ নেওয়ার দিনই ঘোষণা দেয়, সংসদ সদস্যরা শুল্কমুক্ত সুবিধার গাড়ি নেবেন না, একইসঙ্গে সরকারি প্লট ও ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়া হবে না।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উচ্চপর্যায়ের এক অফিসার গতকাল রোববার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘পে-স্কেল বাস্তবায়নের পরপরই জনপ্রতিনিধিদের সম্মানী বাড়ানোর বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনা হয়েছিল। তখন তিনি বিষয়টি পরে উত্থাপনের নির্দেশ দিয়েছিলেন। এরপর আরও দুইবার বিষয়টি নজরে আনা হলেও তিনি সবুজ সংকেত দেননি। তাই আপাতত রাষ্ট্রপতি ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের সম্মানী বাড়ছে না, এটা বলা যায়।’
এক প্রশ্নের জবাবে সূত্রটির উত্তর, ‘রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সম্মানী সচিবদের চেয়ে কম, এটা সত্য, বিষয়টি দেখতে অসুন্দর দেখা গেলেও আমরা সরকারের নির্দেশের বাইরে উদ্যোগ নিতে পারি না। এটা সম্পূর্ণ নির্ভর করছে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার ওপর।’
‘বিষয়টি একাধিকবার সরকারপ্রধানের নজরে আনার পরও সম্মতি না মেলায় এখন আর আমাদের পর্যায় থেকে সেটা নতুন করে উত্থাপনের সম্ভাবনা নেই। যদি প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে নির্দেশনা দেন, তখন আবার কাজ শুরু হতে পারে’, যোগ করেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ওই অফিসার।