1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩২ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
মাইক্রোসফটসহ কয়েকটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ওপর হোয়াইট হাউসের নিষেধাজ্ঞা আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ এক বছরের মধ্যে ‘সার্বভৌম এআই’ চালু করবে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বাংলাদেশ থাইরয়েড সোসাইটির অষ্টম আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত একবারে ৩ হাজার ডলার কেনা যাবে মানি চেঞ্জার থেকে মেক্সিকোর জেলখানায় সংঘাত: এক শিশুসহ নিহত ১০, আহত ১৬ | Boishakhi Online টসে জিতে ব্যাট করবে বাংলাদেশ আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে মাঠে নামছে বাংলাদেশ ছুটির দিনেও ‘অস্বাস্থ্যকর’ ঢাকার বাতাস রিটেইল ব্যাংকিং বিক্রির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের

একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য চিত্রশিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মুস্তাফা মনোয়ারের জানাজা আগামীকাল

রিপোর্টার
  • আপডেট : সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬
  • ৪৪ বার দেখা হয়েছে

শীর্ষ সংবাদ ডেস্ক

বাংলাদেশের শিল্প ও সংস্কৃতির অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব, একুশে পদকপ্রাপ্ত চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারের প্রথম জানাজা আগামীকাল মঙ্গলবার (৩০ জুন) অনুষ্ঠিত হবে। আজ সোমবার (২৯ জুন) সকালে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে তার ছেলে সাদাত মনোয়ার জানিয়েছেন, আগামীকাল জানাজা শেষে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য মরদেহ জাতীয় শহীদ মিনারে নিয়ে যাওয়া হবে এবং পরবর্তীতে বনানী কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করার বিষয়ে পারিবারিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

হাসপাতাল ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আজ সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় মুস্তাফা মনোয়ারের মৃত্যু হয়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুসে ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ এবং নিউমোনিয়ার মতো নানাবিধ বার্ধক্যজনিত জটিলতায় ভুগছিলেন। গত ১৪ জুন তার শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে অবস্থার আরও অবণতি ঘটলে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়েছিল। আজ চিকিৎসকদের সব ধরনের চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে তিনি মারা যান। আজ সোমবার তার মরদেহ পারিবারিকভাবে নিজেদের বাসভবনে রাখা হবে বলে জানা গেছে।

মুস্তাফা মনোয়ার ১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর তৎকালীন যশোর জেলার (বর্তমান মাগুরা জেলা) নাকোল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তবে তার পৈতৃক নিবাস ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে। তিনি বিখ্যাত কবি গোলাম মোস্তফা এবং জমিলা খাতুনের সন্তান। শৈশব থেকেই শিল্প-সংস্কৃতির আবহে বড় হওয়া মুস্তাফা মনোয়ার নারায়ণগঞ্জ গভর্নমেন্ট স্কুল থেকে মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। এরপর কলকাতার স্কটিশ চার্চ কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হলেও চারুকলার প্রতি গভীর অনুরাগের কারণে পরবর্তীতে কলকাতা সরকারি চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৯৫৯ সালে তিনি ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে চারুকলা বিদ্যায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।

বাংলাদেশে পাপেট বা পুতুলনাচের বিকাশ এবং একে একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে মুস্তাফা মনোয়ারকে পথিকৃৎ বিবেচনা করা হয়। তার নির্দেশিত ও পরিচালিত বহু পাপেট প্রদর্শনী দেশে এবং বিদেশে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। চারুকলার পাশাপাশি টেলিভিশনের অনুষ্ঠান নির্মাণ, নাট্যনির্দেশনা এবং বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক আন্দোলনগুলোতে তার অসামান্য অবদান রয়েছে। বাংলাদেশে টেলিভিশনের শুরুর দিকে মানসম্পন্ন অনুষ্ঠান নির্মাণে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। শিল্পকলা ও সংস্কৃতিতে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাকে একুশে পদকে ভূষিত করে।

বরেণ্য এই শিল্পীর প্রয়াণে দেশের সাংস্কৃতিক ও শিল্পাঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে। বিশিষ্টজনদের মতে, মুস্তাফা মনোয়ারের চলে যাওয়া বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতির ইতিহাসে এক অপূরণীয় ক্ষতি। বিশেষ করে পুতুলনাট্য এবং চিত্রশিল্পের বিকাশে তিনি যে নতুন মাত্রা যোগ করেছিলেন, তা আগামী প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য একটি অনন্য গাইডলাইন হিসেবে কাজ করবে। আগামীকাল জাতীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর এই গুণী ব্যক্তিত্বের শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা চূড়ান্ত করা হবে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026