1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৩ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
২০৩০ সালের আগেই এয়ারবাসের উড়োজাহাজ চায় বাংলাদেশ মেসির বিদায়ী ম্যাচ আজ; বাংলাদেশ সময় কখন? মোবাইলে দেখবেন যেভাবে বাংলাদেশ পুলিশের নতুন মুখপাত্র কামারুম মুনিরা পাকিস্তানকে আবারও হারিয়ে ফাইনালের পথে বাংলাদেশ ঢাকা থেকে দিল্লি গিয়ে ‘মোদীর সঙ্গে ত্রিবেদীর সাক্ষাৎ’ ‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক’-এর যবিপ্রবির ১৬ শিক্ষার্থী মনোনীত জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৩০ ব্যাংকের ডিজিটাল কার্যক্রম বন্ধ, কী বলছে বাংলাদেশ ব্যাংক? শৈশবের মজার স্মৃতি সুন্দরবনে বাঘের পায়ের ছাপ দেখা, শিশুদের কৌতূহল মেটালেন প্রধানমন্ত্রী গ্রিস-বাংলাদেশ শ্রমচুক্তি বাস্তবায়নের তাগিদ রাষ্ট্রদূত সুমনার

ইউরোপে ভয়াবহ তাপপ্রবাহে প্রাণহানি পৌনে চার হাজার, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের শঙ্কা

রিপোর্টার
  • আপডেট : শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬
  • ২৩ বার দেখা হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইউরোপের দেশগুলোতে গ্রীষ্মকালীন তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে সৃষ্ট স্বাস্থ্য বিপর্যয়ে ফ্রান্স, বেলজিয়াম ও নেদারল্যান্ডসে অন্তত ৩ হাজার ৭০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। জুন মাসের শেষার্ধে অনুভূত হওয়া এই চরম আবহাওয়ার কারণে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর স্বাস্থ্যখাত ও অবকাঠামো চরম সংকটের মুখে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারি কর্তৃপক্ষগুলো আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, এটি কেবল প্রাথমিক হিসাব এবং বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের পর মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। পরিবেশ বিজ্ঞানী ও আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা এই নজিরবিহীন তাপপ্রবাহের পেছনে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

গত ২০ জুন থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত স্থায়ী হওয়া এই তীব্র তাপপ্রবাহকে আধুনিক ইউরোপের ইতিহাসে অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী এবং ভয়াবহ হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। এই সময়ের মধ্যে দেশগুলোতে স্বাভাবিকের চেয়ে রেকর্ড মাত্রায় তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। ফলে আঞ্চলিক বিদ্যুৎ গ্রিডগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয় এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে বিভিন্ন দেশের সড়ক, রেলপথসহ নানা অবকাঠামোর ক্ষতিসাধনের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য রক্ষা এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতালগুলোতে নজিরবিহীন চাপ সৃষ্টি হয়।

ফরাসি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জুন মাসের ওই তাপপ্রবাহ চলাকালে দেশটিতে স্বাভাবিকের চেয়ে অতিরিক্ত ২ হাজার ২৫ জন নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, মৃতদের মধ্যে ৪৫ বছরের বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। ফ্রান্সের জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ এক বুলেটিনে জানিয়েছে, তাপপ্রবাহ তীব্র রূপ ধারণ করায় গত ২২ থেকে ২৮ জুনের মধ্যে দেশটির বাসাবাড়িতে মৃত্যুর হার আগের সপ্তাহের তুলনায় প্রায় ৯১ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। একই সময়ে বৃদ্ধাশ্রম, পুনর্বাসন কেন্দ্র এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। ফরাসি স্বাস্থ্য খাতের কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন যে, মাঠপর্যায়ের চূড়ান্ত প্রতিবেদন হাতে এলে সামগ্রিক মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

প্রতিবেশী দেশ বেলজিয়ামের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১৮ থেকে ২৯ জুনের মধ্যে দেশটিতে তাপমাত্রা চরম সীমায় পৌঁছালে স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ১ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। বেলজীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যমতে, মোট মৃতের মধ্যে ৫৩০ জনেরই বয়স ছিল ৮৫ বছর বা তার বেশি। তবে এই চরম আবহাওয়ায় কেবল বয়োবৃদ্ধরাই নন, বরং ৬৫ বছরের কম বয়সী অন্তত ১৮০ জন কর্মক্ষম নাগরিকও প্রাণ হারিয়েছেন। বেলজিয়ামের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই ঘটনাকে দেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন হিসেবে বর্ণনা করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

এদিকে নেদারল্যান্ডসের পরিসংখ্যান ব্যুরো ও স্বাস্থ্য বিভাগ যৌথভাবে নিশ্চিত করেছে যে, জুনের শেষ সপ্তাহের তীব্র দাবদাহের কারণে দেশটিতে প্রায় ৪৮০ জন মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। নেদারল্যান্ডসে মারা যাওয়া নাগরিকদের সিংহভাগের বয়সই ছিল ৮০ বছরের ঊর্ধ্বে।

ইউরোপীয় আবহাওয়া সংস্থাগুলোর মতে, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে মহাদেশটিতে গ্রীষ্মকালীন আবহাওয়ার চরিত্র দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন যে, কার্বন নিঃসরণ কমানো না গেলে আগামী বছরগুলোতে এই ধরনের তাপপ্রবাহের পুনরাবৃত্তি এবং তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পাবে, যা সামগ্রিক জননিরাপত্তা, জনস্বাস্থ্য ও অর্থনীতির জন্য স্থায়ী হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026