বাংলাদেশ ডেস্ক
বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী ও যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর অংশগ্রহণে বার্ষিক যৌথ সামরিক মহড়া ‘টাইগার লাইটনিং ২০২৬’ আজ রোববার (১৯ জুলাই) শুরু হয়েছে। দুই দেশের সামরিক সম্পর্কের উন্নয়ন এবং পারস্পরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত এই মহড়ায় বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের ১৬০ জনেরও বেশি সামরিক সদস্য অংশ নিচ্ছেন।
ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, এই যৌথ মহড়ার মূল লক্ষ্য হলো দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে পেশাগত সম্পর্ক জোরদার করা, সামরিক কার্যক্রম পরিচালনার দক্ষতা বৃদ্ধি করা এবং বাস্তব পরিস্থিতিতে যৌথভাবে দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা ও আন্তঃকার্যক্ষমতা (interoperability) সুসংহত করা। ইউএস আর্মি প্যাসিফিকের থিয়েটার আর্মি ক্যাম্পেইন প্ল্যান এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই মহড়া পরিচালিত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এবারের মহড়ায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো জঙ্গলাঞ্চলে অভিযান পরিচালনার কৌশল, সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম এবং কৌশলগত যুদ্ধক্ষেত্রে আহতদের চিকিৎসাসেবা বা ‘ট্যাকটিক্যাল কমব্যাট ক্যাজুয়ালটি কেয়ার’ বিষয়ক প্রশিক্ষণ। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উভয় দেশের বাহিনী একে অপরের কৌশলগত অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা সম্পর্কে জানার সুযোগ পাবেন, যা ভবিষ্যতে কোনো জটিল পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মহড়াটি মূলত দুই পর্বে বিভক্ত। এর প্রথম অংশে রয়েছে শ্রেণিকক্ষভিত্তিক তাত্ত্বিক আলোচনা এবং দ্বিতীয় অংশে রয়েছে মাঠপর্যায়ের ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ। দুই সপ্তাহের এই মহড়ার কার্যক্রম শেষে একটি পূর্ণাঙ্গ ফিল্ড ট্রেনিং এক্সারসাইজের মধ্য দিয়ে এর সমাপ্তি ঘটবে।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এই যৌথ মহড়া শুরু হয়। তবে বিশ্বজুড়ে কোভিড-১৯ মহামারির প্রাদুর্ভাবের সময় নিরাপত্তার স্বার্থে মহড়াটি কিছুকাল স্থগিত রাখা হয়েছিল। মহামারি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর গত পাঁচ বছর ধরে এই মহড়া নিয়মিত অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর মধ্যে বিদ্যমান সহযোগিতামূলক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে এই উদ্যোগ প্রতিবছর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের যৌথ মহড়া কেবল পেশাদারিত্বই বৃদ্ধি করে না, বরং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় দুই দেশের সম্মিলিত প্রস্তুতির একটি বার্তাও বহন করে। আধুনিক যুদ্ধকৌশল এবং সন্ত্রাসবাদ দমনে অর্জিত এই অভিজ্ঞতা দুই দেশের সামরিক বাহিনীর অপারেশনাল সক্ষমতাকে আরও গতিশীল করবে। মহড়া শেষে অংশগ্রহণকারী সদস্যরা তাদের স্ব-স্ব কর্মক্ষেত্রে এই অর্জিত জ্ঞানের প্রয়োগ ঘটিয়ে সামরিক বাহিনীর আধুনিকায়ন ও দক্ষতাকে আরও সমৃদ্ধ করতে সক্ষম হবেন।