1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৫ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
আবরারের নামে কুষ্টিয়ায় সেতু ও বুয়েটে হল নির্মাণের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস গঙ্গায় নবায়ন নয়, ‘নতুন বা সংশোধিত’ চুক্তি চায় ঢাকা ঢাকা-জাকার্তা সরাসরি ফ্লাইট চান ইন্দোনেশিয়ার মন্ত্রী পরিবেশমন্ত্রীর সঙ্গে ইউএনডিপি’র আবাসিক প্রতিনিধির সাক্ষাৎ ফিফা সভাপতি পদে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে লড়বেন টটেনহ্যামের সাবেক ডিফেন্ডার রাফি স্মৃতি মহানগর জুনিয়র ক্রিকেট লিগ আজ শুরু জাতীয় ক্রিকেট লিগের ম্যাচসহ টিভিতে আজকের খেলা বাংলাদেশ কেবল জাতীয় স্বার্থেই চুক্তি স্বাক্ষর করে : প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির সড়ক পরিবহনে নৈরাজ্য ও মাফিয়াবৃত্তির অবসান হবে : রুহুল কবির রিজভী বিদেশ ভ্রমণে মানি চেঞ্জার থেকে নেওয়া যাবে তিন হাজার ডলার পর্যন্ত

সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে হেপাটাইটিসমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

রিপোর্টার
  • আপডেট : মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬
  • ৪০ বার দেখা হয়েছে

বিশেষ প্রতিবেদক

জনসচেতনতা বৃদ্ধি, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় এবং সহজলভ্য চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার মাধ্যমে বাংলাদেশকে হেপাটাইটিসমুক্ত হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ‘বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস’ উপলক্ষে দেয়া এক বিশেষ বাণীতে তিনি এই সার্বজনীন প্রচেষ্টার ওপর জোর দেন। এ সময় বর্তমান সরকারের বিভিন্ন স্বাস্থ্যবান্ধব নীতি, বিশেষায়িত চিকিৎসা সুবিধার সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক সেবা খাতকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার নানা দিক তুলে ধরা হয়।

সারাবিশ্বের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বাংলাদেশেও নানা কর্মসূচি ও নতুন অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস। চলতি বছর দিবসটির নির্ধারিত প্রতিপাদ্য ‘চলুন সহজভাবে বুঝি’, যার মূল উদ্দেশ্য হলো এই রোগ সম্পর্কিত নানা সামাজিক বিভ্রান্তি ও ভুল ধারণা দূর করা। এর পাশাপাশি হেপাটাইটিস সম্পর্কিত ভয় ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং সুলভ চিকিৎসাসেবা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হেপাটাইটিস বর্তমানে বিশ্বব্যাপী অত্যন্ত মারাত্মক একটি জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত। বৈশ্বিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মানুষ হেপাটাইটিস ‘বি’ ও ‘সি’ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে পরবর্তীতে লিভার সিরোসিস এবং লিভার ক্যান্সারের মতো জীবনঘাতী জটিলতায় ভুগে থাকেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা, সাধারণ পরীক্ষা, নিরাপদ জীবনযাপন ও সঠিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতের মাধ্যমে এ রোগ থেকে সহজেই রক্ষা পাওয়া সম্ভব। তাই সময়মতো রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসাপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে বিদ্যমান বাধাগুলো দূর করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।

দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার আধুনিকায়নে গৃহীত পদক্ষেপ তুলে ধরে বাণীতে উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে লিভার রোগের উন্নত চিকিৎসা অবকাঠামো প্রসারিত করা হচ্ছে। ন্যাশনাল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট অ্যান্ড হাসপাতালসহ সরকারি প্রধান প্রধান বিশেষায়িত হাসপাতালে সর্বাধুনিক চিকিৎসা যন্ত্রপাতি সংযোজন করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো দেশেই বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা, যাতে সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা নিতে বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা হ্রাস পায়। এ ছাড়া লিভার সিরোসিস ও ক্যান্সারে আক্রান্ত অসচ্ছল রোগীদের চিকিৎসার সুবিধার্থে এককালীন সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা পর্যন্ত সরকারি আর্থিক সাহায্য সহায়তা চালু রাখা হয়েছে।

চিকিৎসাসেবা ব্যবস্থার আধুনিকায়নে ডিজিটাল রূপান্তরের উদ্যোগ হিসেবে সরকার ‘ই-হেলথ কার্ড’ এবং সমন্বিত রোগী তথ্য ব্যবস্থাপনা চালুর কাজ হাতে নিয়েছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিজন রোগীর স্বাস্থ্য সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য নিরাপদে সংরক্ষিত থাকবে, যা দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে। একই সাথে সরকারি অনুদান প্রদান প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও স্বচ্ছ করবে এই উদ্যোগ। ফলশ্রুতিতে হেপাটাইটিস সহ অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি সংক্রামক ব্যাধির পর্যবেক্ষণ এবং ফলোআপ সেবা আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত হবে।

সরকারের স্বাস্থ্যনীতির মূল লক্ষ্য তুলে ধরে বাণীতে বলা হয়, ‘প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম’—এই মূলনীতিকে সামনে রেখে সরকার প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি মানবিক, আধুনিক ও সাশ্রয়ী স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ উদ্দেশ্যে ইতিহাসে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ রাখা হয়েছে স্বাস্থ্য খাতে। বিশেষ করে রোগীকেন্দ্রিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং আধুনিক প্রযুক্তির সংযোগ ঘটিয়ে দেশের দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের চিকিৎসাসংক্রান্ত নিরাপত্তা সুসংহত করা হচ্ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও) ঘোষিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্ব থেকে ভাইরাল হেপাটাইটিস নির্মূল করার যে বৈশ্বিক অঙ্গীকার রয়েছে, তাতে বাংলাদেশও পূর্ণ সমর্থন প্রকাশ করেছে। তবে এই লক্ষ্য অর্জন কেবল একক কোনো ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্ভব নয়। সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা, গণমাধ্যম, চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট সংগঠন এবং সর্বস্তরের সাধারণ জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ এই দীর্ঘমেয়াদি লড়াইয়ে অত্যন্ত আবশ্যক। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশকে ভাইরাল হেপাটাইটিসমুক্ত হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026