1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫১ পূর্বাহ্ন

ঢাকায় বায়ুমানের ইতিবাচক পরিবর্তন: দূষিত শহরের বৈশ্বিক সূচকে ২৯তম স্থানে রাজধানী

রিপোর্টার
  • আপডেট : মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬
  • ৪২ বার দেখা হয়েছে

পরিবেশ প্রতিবেদক

বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব এবং নগর অঞ্চলে অনিয়ন্ত্রিত উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ফলে বিভিন্ন মেগাসিটিতে দিন দিন বায়ুদূষণের মাত্রা তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। প্রতিনিয়ত বিশ্বের প্রধান শহরগুলোতে বাতাসের গুণগত মান অবনতির দিকে গেলেও বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় সম্প্রতি বায়ুমানের দৃশ্যমান উন্নতি পরিলক্ষিত হয়েছে। বেশ কিছু দিন ধরে ধারাবাহিকভাবে ঢাকার বাতাসে দূষণের মাত্রা কমে একধরনের স্বস্তিদায়ক পরিবেশ বিরাজ করছে। ফলে বায়ুদূষণের বৈশ্বিক তালিকায় দীর্ঘদিন ধরে শীর্ষ স্থানে থাকা ঢাকা এখন অনেকটাই নিচে নেমে এসেছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, বর্তমানে বায়ুদূষণের বৈশ্বিক সূচকে ঢাকা শহর শীর্ষ ২০টি দূষিত শহরের বাইরে অবস্থান করছে।

সুইজারল্যান্ডভিত্তিক পরিবেশবিষয়ক আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সের (আইকিউএয়ার) হালনাগাদ তথ্যে এ চিত্র উঠে এসেছে। সুইজারল্যান্ডের এই অনলাইন প্ল্যাটফর্মটি বিশ্বব্যাপী শহরের বাতাসের মান রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ ও প্রকাশ করে থাকে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) প্রকাশিত সংস্থাটির বৈশ্বিক মানদণ্ড সূচকে বিশ্বের ১০০টি প্রধান শহরের মধ্যে বায়ুদূষণের দিক থেকে ঢাকার অবস্থান দেখা গেছে ২৯তম। পর্যালোচনার নির্দিষ্ট সময়ে ঢাকার বায়ুমানের স্কোর ছিল ৭৭, যা পরিবেশ বিজ্ঞানের পরিভাষায় ‘মাঝারি’ বা সহনীয় মানের বাতাস হিসেবে গণ্য করা হয়। বৈশ্বিক এই সূচকে ঢাকার এই অবস্থান নগরবাসীর স্বাস্থ্যের জন্য সাময়িক স্বস্তির বার্তা বহন করছে।

আইকিউএয়ারের একই সময়ের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বৈশ্বিক বায়ুদূষণের শীর্ষ স্থানে অবস্থান করছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ। শহরটির রেকর্ডকৃত বায়ুমানের স্কোর ছিল ১৮৯, যা সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত। মধ্য আফ্রিকার দেশ গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের রাজধানী কিনশাসা বায়ুদূষণের বৈশ্বিক তালিকায় ১৬০ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। একইভাবে মধ্যপ্রাচ্যের অপর দেশ কাতারের রাজধানী দোহা ১৫৫ স্কোর নিয়ে তৃতীয় অবস্থান এবং বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানের শিল্পনগরী লাহোর ১৫৩ স্কোর নিয়ে তালিকায় চতুর্থ স্থানে রয়েছে। এছাড়া বাহরাইনের রাজধানী মানামা ১৫১ স্কোর নিয়ে দূষিত বায়ুর শহরের তালিকায় পঞ্চম স্থান দখল করেছে। এই শহরগুলোর প্রতিটিই আইকিউএয়ারের স্কেলে ‘অস্বাস্থ্যকর’ ক্যাটাগরিতে তালিকাভুক্ত হয়েছে।

বায়ুমানের সূচক নির্ধারণে আইকিউএয়ার একটি নির্দিষ্ট স্কেল বা মানদণ্ড অনুসরণ করে থাকে, যা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। তাদের মানদণ্ড অনুযায়ী, বায়ুমানের স্কোর শূন্য থেকে ৫০-এর মধ্যে থাকলে তাকে ‘ভালো’ বা নিখাদ বাতাস হিসেবে ধরা হয়। স্কোর ৫১ থেকে ১০০-এর মধ্যে অবস্থান করলে বাতাসের মানকে ‘মাঝারি’ বা সহনীয় হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়। তবে স্কোর ১০১ থেকে ১৫০ হলে তা সংবেদনশীল গোষ্ঠী বিশেষ করে শিশু, প্রবীণ এবং শ্বাসকষ্টে ভুগতে থাকা রোগীদের জন্য ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত হয়। বাতাসের মান সূচক বা স্কোর ১৫১ থেকে ২০০-এর ঘরে পৌঁছালে তা সামগ্রিকভাবে সবার জন্যই ‘অস্বাস্থ্যকর’ বলে গণ্য হয়। এছাড়া স্কোর ২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে থাকলে বাতাসকে ‘খুব অস্বস্বাস্থ্যকর’ বলা হয় এবং এ অবস্থায় যেকোনো মানুষের শারীরিক ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। বায়ুমান স্কোর ৩০১ থেকে ৪০০ এর স্তরে পৌঁছালে তাকে মারাত্মক ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যা নগরবাসীর সার্বিক স্বাস্থ্যের ওপর জরুরি বিপর্যয় ডেকে আনে।

পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে বর্ষা মৌসুম এবং সাময়িক বৃষ্টিপাতের প্রভাবে বাতাসে ভেসে থাকা ধুলাবালি ও মারাত্মক ক্ষতিকর সূক্ষ্ম কণা উপাদানসমূহ থিতিয়ে পড়ে বা ধুয়ে যায়। এর ফলে বাতাসের সার্বিক গুণগত মানের কিছুটা সাময়িক উন্নতি ঘটে। তবে এই উন্নয়ন মূলত ঋতুভিত্তিক বা আবহাওয়াগত কারণে হয়ে থাকে, যা স্থায়ী নয়। ঢাকার চারপাশে গড়ে ওঠা ইটভাটা, ফিটনেসবিহীন যানবাহনের কালো ধোঁয়া, অনিয়ন্ত্রিত সড়ক নির্মাণ ও মেগা প্রকল্পগুলোর অনিয়ন্ত্রিত উন্মুক্ত ধুলাবালি শুষ্ক মৌসুমে বায়ুদূষণকে আবার আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছে দেয়।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বায়ুদূষণ হ্রাস পেলে জনস্বাস্থ্যের ওপর বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। সহনীয় বায়ুমানের কারণে শিশু ও বয়স্কদের অ্যাজমা, ব্রঙ্কাইটিস এবং অন্যান্য শ্বাসকষ্টজনিত রোগের প্রকোপ তুলনামূলকভাবে কম দেখা যায়। তবে ঢাকার বায়ুমানকে চিরস্থায়ীভাবে ভালো রাখতে হলে শুধুমাত্র আবহাওয়া বা বৃষ্টির ওপর নির্ভর না করে দীর্ঘমেয়াদী সঠিক নগর পরিকল্পনা ও পরিবেশগত আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা অপরিহার্য। অনিয়ন্ত্রিত অবকাঠামো নির্মাণ বন্ধ করা, পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা জোরদার করা এবং নগরে সবুজায়নের উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে রাজধানী ঢাকাকে একটি স্বাস্থ্যকর ও বসবাসযোগ্য শহর হিসেবে স্থায়ীভাবে গড়ে তোলা সম্ভব।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026