অপরাধ ডেস্ক
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে একটি অনুমোদনহীন বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের হওয়া প্রায় ১৩০টি মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি নিশাত দিলরুবা জাহানকে (৩৯) গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানী ঢাকার বাড্ডা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তার নিশাত দিলরুবা জাহান চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার শিবনারায়ণপুর গ্রামের মো. সানোয়ার হোসেনের স্ত্রী। দীর্ঘদিন ধরে তিনি রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পরিচয় গোপন করে পলাতক ছিলেন বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, শিবগঞ্জ এলাকায় একটি অননুমোদিত ক্ষুদ্রঋণ ও সঞ্চয়ভিত্তিক বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) গড়ে তুলেছিলেন নিশাত দিলরুবা জাহান এবং তার চক্রের সদস্যরা। উচ্চ মুনাফার প্রলোভন ও সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার কথা বলে স্থানীয় সাধারণ মানুষ, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আমানত হিসেবে সংগ্রহ করা হয়। সংগৃহীত অর্থ ফেরত না দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি কার্যক্রম গুটিয়ে নেয় এবং গ্রাহকদের আমানত আত্মসাৎ করা হয়।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগী গ্রাহকরা অর্থ ফেরত পেতে ব্যর্থ হয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও আদালতের শরণাপন্ন হন। সঞ্চিত অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় ভুক্তভোগীদের দায়ের করা মোট মামলার সংখ্যা প্রায় ১৩০টিতে পৌঁছায়। এসব মামলায় আদালত নিশাত দিলরুবা জাহানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নজর এড়িয়ে আত্মগোপনে ছিলেন।
শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মতিউর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিশাত দিলরুবা জাহানের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে প্রায় ১৩০টি মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকায় তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত ছিল।
র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নিশাত দিলরুবার অবস্থান শনাক্ত করা হয়। এরপর রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় একটি বিশেষ আভিযানিক দল অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নিশাত স্বীকার করেছেন যে, বিভিন্ন মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এড়াতে তিনি ঘন ঘন অবস্থান পরিবর্তন করে দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন করে আসছিলেন।
গ্রেপ্তারের পর নিশাত দিলরুবা জাহানকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আদালতের জারি করা পরোয়ানা অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে এ ধরনের অবৈধ আর্থিক কার্যক্রম ও প্রতারণার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।