1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৩৩ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
ঢাকা মেডিকেলের টয়লেটে ঝুলছিল নারীর রক্তাক্ত লাশ, মিলেছে রক্তমাখা ছুরি বাংলাদেশকে কৌশলগত অংশীদার হিসেবে দেখতে চায় কানাডা বিশ্ব বসতি দিবস: সর্বজনীন বাসস্থান ও টেকসই নগরায়ণের তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহীতে আন্তর্জাতিক জুনিয়র টেনিস টুর্নামেন্ট শুরু মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা: হাসানুল হক ইনুর মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আপিল ভবিষ্যতের জ্বালানি নিরাপত্তায় সারাদেশে সৌরবিদ্যুৎ নিয়ে ‘বড় পরিকল্পনা’ ঢাকার আশেপাশে সেকেন্ডারি টাউনশিপ গড়ে তুলতে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের ৯ তলা থেকে শিক্ষার্থীর লাফ, টিনের চালায় পড়ায় বাঁচলেন সবার জন্য নিরাপদ বাসস্থান নিশ্চিত করা হবে: প্রধানমন্ত্রী সবার জন্য নিরাপদ ও টেকসই বাসস্থান নিশ্চিতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ: প্রধানমন্ত্রী

সবার জন্য নিরাপদ বাসস্থান নিশ্চিত করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

রিপোর্টার
  • আপডেট : সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১ বার দেখা হয়েছে

ঢাকা: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’ নিশ্চিত করতে সরকার সম্ভাব্য সব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। নাগরিকদের জন্য শুধু একটি বাসস্থান নয়, বরং নিরাপদ, সাশ্রয়ী, পরিবেশসম্মত ও টেকসই আবাসন নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৬ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব বসতি দিবসের অর্থ শুধু একটি ঘর নয়। টেকসই আবাসনের সঙ্গে নিরাপদ পানি ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, উন্নত পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা, গণপরিবহণ, উন্নত সড়ক ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা, পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান এবং সর্বোপরি মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের জন্য একটি নিরাপদ পরিবেশ সরাসরি সম্পৃক্ত।

তিনি বলেন, উন্নত বিশ্বের জন্য সব নাগরিকের নিরাপদ ও টেকসই বাসস্থান নিশ্চিত করা যতটা সহজ, বাংলাদেশের মতো জনবহুল রাষ্ট্রে তা ততটা সহজ নয়। তবুও প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে সম্মানের সঙ্গে টিকে থাকতে হলে সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের শহর, বন্দর ও নগরে প্রতিনিয়ত মানুষের বসতি ও বসবাস বাড়ছে। বর্তমানে রাজধানী ঢাকা ওভারপপুলেটেড। দেশের অন্যান্য শহরেও প্রায় একই অবস্থা। শহরাঞ্চলে স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি মানুষের বসবাস রয়েছে। এমন বাস্তবতায় ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’ ধারণাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, শহরগুলোতে সবার জন্য নিরাপদ, মানসম্মত ও সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ও সুপরিকল্পিত নগর গড়ে তোলা জরুরি।

তারেক রহমান বলেন, বিষয়গুলো বলা যতটা সহজ, দেশের বিদ্যমান বাস্তবতায় তা বাস্তবায়ন করা ততটাই কঠিন। তবে ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’ নিশ্চিত করতে সরকার সম্ভাব্য সব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সবার জন্য বাসযোগ্য, সাশ্রয়ী, পরিবেশসম্মত, নিরাপদ ও মৌলিক সেবা-পরিষেবা সম্বলিত বাসস্থান তথা সর্বজনীন আবাসন নাগরিকদের মৌলিক সাংবিধানিক অধিকার। এই অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

পরিকল্পিত, নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর গড়ে তোলাকে সরকারের লক্ষ্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য বাসযোগ্য, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ আবাসনের ব্যবস্থাও সরকারের পরিকল্পনায় গুরুত্ব পাচ্ছে। পরিকল্পিত নগরায়ণ ও আবাসন নিশ্চিত করা এবং সীমিত আয়ের মানুষের জন্য বাসস্থান সুবিধা প্রদান সরকারের অন্যতম প্রধান নির্বাচনি অঙ্গীকার।

তিনি বলেন, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এ লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। পরিকল্পিত নগরায়ণের জন্য প্রতিটি সিটি কর্পোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হচ্ছে। এরইমধ্যে সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল, কুমিল্লা, রংপুর ও নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়েছে।

এর ফলে অন্তর্ভুক্তিমূলক, নিরাপদ, সহনশীল ও টেকসই নগর গড়ে তোলার মাধ্যমে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি)-এর ১১ নম্বর অভীষ্ট অর্জন সহজ হবে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

শহরাঞ্চলে মানুষের চাপ কমাতে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, রাজধানী ঢাকাসহ শহরগুলোর সঙ্গে সারাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও দ্রুত, সাশ্রয়ী ও নিরাপদ করার পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলে নাগরিক সুবিধা বাড়িয়ে শহরাঞ্চলে মানুষের চাপ কমানো একটি কার্যকর বিকল্প। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ এরই মধ্যে শুরু করেছে।

বিশ্ব বসতি দিবসের উদ্বোধন করছেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের বিদ্যমান নগরায়ণ পরিস্থিতিতে রাজধানী ও কয়েকটি বড় শহরের কেন্দ্রীভূত উন্নয়নের বাইরে এসে দেশের প্রতিটি অঞ্চলকে জাতীয় উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে সরকার নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। সরকারের লক্ষ্য কেন্দ্রীভূত নগরায়ণ নয়; বরং বিকেন্দ্রীভূত, ভারসাম্যপূর্ণ নগর ও আঞ্চলিক উন্নয়ন।

তিনি জানান, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে সারা বাংলাদেশের জন্য স্থানিক পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং ঢাকার আশপাশে সেকেন্ডারি টাউনশিপ গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

বাসযোগ্য আবাসন তৈরিতে পরিবেশ রক্ষার বিষয়টি সরকারের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রকৃতি ও পরিবেশকে গুরুত্ব দিয়েই জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ ও উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিভাগীয় শহর, জেলা ও উপজেলা শহরে পরিকল্পিত আবাসন গড়ে তোলা হচ্ছে।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নানা চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনার মুখোমুখি করছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতেও নগর এলাকার সংকট মোকাবিলা, বিশেষত সর্বজনীন বাসস্থান নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে বাস্তবায়নে সরকার আন্তরিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

নগর ও শহরাঞ্চলের আবাসন সংকট মোকাবিলায় বেসরকারি উদ্যোক্তাসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সমন্বিত অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, আবাসন খাত সংশ্লিষ্ট বেসরকারি উদ্যোক্তাসহ অংশীজনদের সমন্বিত অংশগ্রহণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

নাগরিকদের মৌলিক অধিকার বাস্তবায়নে ব্লকভিত্তিক আবাসন উৎসাহিত করার পাশাপাশি এলাকাভিত্তিক পার্ক, খেলার মাঠ স্থাপন এবং নির্ধারিত জোনে শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার প্রচেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, সরকার পর্যায়ক্রমে গৃহীত সব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সক্ষম হলে ‘সবার জন্য নিরাপদ বাসস্থান’ দেশের নাগরিকদের সামনে একটি বিদ্যমান বাস্তবতা হয়ে উঠবে, ইনশাল্লাহ।

পরে প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৬-এর সব কার্যক্রমের সাফল্য কামনা করেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে দিবসটির কার্যক্রমের উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026