অপরাধ ডেস্ক
ডিজিটাল মাধ্যমে বিভিন্ন মোবাইল অ্যাপ ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে প্রতারণার বিস্তার ঘটছে। সামান্য অঙ্কের ঋণ প্রদান করে উচ্চ সুদে অর্থ আদায় এবং তা পরিশোধে ব্যর্থ হলে গ্রাহকদের ব্যক্তিগত ছবি বিকৃত করে ব্ল্যাকমেল করার অভিযোগে ইতোমধ্যে একটি চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। চক্রটি মূলত ফিনক্যাশ ও পপক্যাশসহ বিভিন্ন অনুমোদনহীন অ্যাপের মাধ্যমে এই অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল।
অনুসন্ধানে জানা যায়, চটকদার বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে গ্রাহকদের আকৃষ্ট করে বিভিন্ন অনুমোদনহীন অ্যাপ ইনস্টল করতে বাধ্য করা হয়। অ্যাপ ডাউনলোডের সঙ্গে সঙ্গেই গ্রাহকদের মুঠোফোনের কন্টাক্ট লিস্ট এবং গ্যালারির ব্যক্তিগত তথ্য ও ছবি চক্রের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। প্রাথমিক পর্যায়ে গ্রাহকদের ৬ হাজার টাকা ঋণ দেওয়ার কথা বলা হলেও প্রসেসিং ফি ও সার্ভিস চার্জ বাবদ বড় অঙ্কের টাকা কেটে রেখে মাত্র কয়েক হাজার টাকা প্রদান করা হয়। শর্ত অনুযায়ী মাত্র সাত দিনের মধ্যে এই ঋণের বিপরীতে অস্বাভাবিক হারে সুদসহ প্রায় দ্বিগুণ অর্থ পরিশোধ করতে বাধ্য করা হয়। নির্ধারিত সময়ে অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে সুদের হার জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পায়।
চক্রের কার্যক্রম বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঋণ গ্রহীতারা অর্থ পরিশোধ করতে না পারলে তাদের ব্যক্তিগত তথ্য ও বিভিন্ন ছবি এডিট করে অসামাজিক রূপ দিয়ে তা পরিবার ও পরিচিতজনদের কাছে পাঠিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এ ধরনের হেনস্তা ও ব্ল্যাকমেল করার জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বেতনভুক্ত কর্মীদের নিয়োগ করা হয়েছে। সম্প্রতি রাজধানীর নর্দা কালাচাঁদপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই চক্রের চার সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মোছা. লিলুফা ইয়াসমিন, কাজলি রেখা, কাকলি আক্তার ও তানজিলা আক্তার। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, চক্রের সদস্যরা গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা, অর্থ আদায় এবং ছবি বিকৃত করে ব্ল্যাকমেল করার মতো অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে নিয়মিত যুক্ত ছিলেন।
এ ধরনের প্রতারণার বিষয়ে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে বারবার সতর্ক করা হয়েছে। গোয়েন্দা সূত্র জানায়, এই চক্রগুলোর মূল সার্ভার দেশের বাইরে পরিচালিত হয় এবং স্থানীয়ভাবে বেতনভুক্ত কর্মীরা এসব অপকর্ম পরিচালনা করে। তবে সামাজিক সম্মানহানি ও ভীতির কারণে অনেক ভুক্তভোগী আইনি পদক্ষেপ নিতে এগিয়ে আসেন না, যা অপরাধীদের আরও উৎসাহিত করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অনুমোদনহীন ডিজিটাল ঋণ অ্যাপগুলোর ওপর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে এ ধরনের প্রতারক চক্রের সঙ্গে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।