পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সুবিধাজনক সময়ে দ্বিপক্ষীয় সফরে ভারত যাবেন।
তিনি বলেন, যথাযথ দ্বিপক্ষীয় কাঠামোর মাধ্যমে ভারত সফরের সম্ভাবনা প্রধানমন্ত্রী কখনোই নাকচ করেননি।
সোমবার (৫ অক্টোবর) ঢাকায় বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনে বক্তব্য দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে হুমায়ুন কবির এসব কথা বলেন।
এসময় তিনি বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
তবে সংলাপের মাধ্যমে সেগুলো সমাধান করা সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
হুমায়ুন কবির বলেন, 'চ্যালেঞ্জ আছে, তবে আমরা বিশ্বাস করি, সংলাপের মাধ্যমে সেগুলো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।'
চলতি বছর প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সম্ভাবনা নিয়ে জানতে চাইলে হুমায়ুন কবির বলেন, ঢাকা চায় অনুকূল পরিবেশে এবং যথাযথ দ্বিপক্ষীয় কাঠামোর মাধ্যমে এই সফর হোক।
তবে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমার কথা জানাননি তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'শুধু একটি ফোনকলে কোনো সমস্যার সমাধান হয় না। আমরা আলোচনা করছি এবং বিষয়গুলো ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে।'
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীর প্রশংসা করে হুমায়ুন কবির বলেন, তিনি বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করছেন। ঢাকা আশা করে, নয়াদিল্লি তার [ত্রিবেদীর] মূল্যায়নকে যথাযথ গুরুত্ব দেবে।
হুমায়ুন কবির বলেন, 'এখানে ভারতীয় হাইকমিশনার ভালো কাজ করছেন; তিনি চেষ্টা করছেন।'
তিনি বলেন, 'আশা করি, নয়াদিল্লি তার [ত্রিবেদীর] প্রতি এবং বাংলাদেশে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তার দেওয়া মতামত ও বিশ্লেষণের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব দেখাবে।'
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন, জাতীয় স্বার্থ এবং সব দেশের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্কের ভিত্তিতে পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করতে চায়।
অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের পথ খোলা রাখলেও জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে বাংলাদেশ কোনো আপস করবে না বলেও জানান তিনি।
হুমায়ুন কবির বলেন, 'প্রতিটি দেশই কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন চায়। বাংলাদেশও তা চায়।'
২০২৬ সালের ডিসেম্বরে মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নবায়ন প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশ এমন একটি ফলাফল চাইবে, যা দেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করবে।
২০২৬ সালের ডিসেম্বরে চুক্তিটির মেয়াদ শেষ হওয়াই দুই দেশের জন্যই এটি একটি বড় ইস্যু হিসেবে দেখা দিয়েছে।
বিদ্যমান চুক্তি নবায়ন করা হবে, নাকি নতুন চুক্তি করা হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'বাংলাদেশের স্বার্থের জন্য যেটি সবচেয়ে ভালো, সেটিই করা হবে।'
সম্ভাব্য গ্যারান্টি ধারা নিয়ে জানতে চাইলে হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশ তার জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা সুরক্ষা নিয়ে কাজ করবে।
তিনি বলেন, 'বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তার জন্য যেটি সবচেয়ে ভালো, তা নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করব।'
হুমায়ুন কবির বলেন, আলোচনা ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং বাংলাদেশ এখন ভারতীয় পক্ষের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, 'আমাদের কমিটি প্রস্তুত। আমরা শুধু ভারতীয় পক্ষের চূড়ান্ত জবাবের অপেক্ষায় আছি।'
হুমায়ুন কবির বলেন, জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে ইতিবাচকভাবে সম্পৃক্ত থাকবে।
তিনি বলেন, 'আমরা এমনভাবে ইতিবাচক সম্পৃক্ততা চাই, যাতে আমাদের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে আপস না হয়। একই সঙ্গে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামগ্রিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনের জন্য যে বৈচিত্র্যময় সুযোগ রয়েছে, আমরা তা গ্রহণ করতে চাই।'
বাংলাদেশ ভারতের কাছ থেকে পারস্পরিক সহযোগিতা চায়
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আশা করে, ভারত তার ভূখণ্ডে অবস্থানরত ব্যক্তিদের বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া বা এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত হওয়া থেকে বিরত রাখবে।
তিনি বলেন, 'কোনো সন্ত্রাসী বা উগ্রবাদীকে নিজেদের ভূখণ্ডে নিয়ন্ত্রণে রাখা খুব বেশি কিছু চাওয়া নয়।'
তিনি আরও বলেন, এই বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করা হলে আমাদের পারস্পরিক সম্পর্কের মাঝে আরও কোনো সমস্যা থাকবে না এবং স্বাভাবিকভাবে সম্পর্ক বজায় রাখা সম্ভব হবে, যা দুই দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।
হুমায়ুন কবির বলেন, ভারত থেকে কেউ যেন বাংলাদেশে এসে ভারত সরকারের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিতে না পারে, বাংলাদেশও তা নিশ্চিত করবে।
তিনি বলেন, 'ভারত থেকে কোনো সন্ত্রাসীকে আমাদের দেশে এসে ভারত সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলার সুযোগ আমরা দিই না। এতে একটি খারাপ বার্তা যায়। আমরা আশা করি, ভারতও একই কাজ করবে।'