সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে স্থানীয় ওলামাদের আপত্তির মুখে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ স্থগিত করা হয়েছে। আজ বিকেলে উপজেলা মিনি স্টেডিয়ামে সিলেটের জারা স্পোর্টিং ক্লাব ও দিরাইয়ের স্বপ্নচূড়া স্পোর্টিং ক্লাবের মেয়েদের মধ্যে প্রীতি ফুটবল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
সোমবার (৫ অক্টোবর) ম্যাচটির আয়োজক সংগঠনের সভাপতি ও কোচ রাকিব আহমেদ জানান, ২০১৯ সাল থেকে তাদের সংগঠনটি এলাকায় কিশোরীদের ফুটবল খেলার আয়োজন করে আসছে এবং এখানকার কিশোরীরা নিয়মিত জাতীয় পর্যায়ের টুর্নামেন্টেও অংশ নিচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় সিলেটের জারা স্পোর্টিং ক্লাবের সঙ্গে এই প্রীতি ম্যাচের আয়োজন করা হয়, যার বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশকে আগেই অবহিত করা হয়েছিল।
তবে খেলা বন্ধের দাবিতে স্থানীয় আলেম-ওলামাসহ কয়েকজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে গিয়ে দাবি জানান। এ পরিস্থিতিতে বিশৃঙ্খলা এড়াতে শেষ পর্যন্ত আয়োজকেরা ম্যাচটি স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেন।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে আয়োজক রাকিব আহমেদ বলেন, 'সোমবার সকালে ইউএনও সাহেব জানান, যেহেতু দুই পক্ষই দিরাইয়ের বাসিন্দা, তাই আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতা করে খেলাটি আয়োজন করলে ভালো হয়। পরবর্তীতে পুলিশের পক্ষ থেকেও খেলা স্থগিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়। বাধ্য হয়েই আমরা ম্যাচটি স্থগিত করেছি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পরবর্তীতে আবার খেলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।'
এ বিষয়ে দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সনজীব সরকার বলেন, 'পাঁচ-ছয় দিন আগে উপজেলা স্টেডিয়ামে ম্যাচটি আয়োজনের অনুমতি নিয়ে এলাকায় মাইকিং করেন আয়োজকরা। এরপরই আলেমদের একটি দল এসে এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কার কথা জানায়।'
ইউএনও আরও বলেন, 'আয়োজক সংগঠনটি দীর্ঘ দিন ধরে মেয়েদের ফুটবল আয়োজন করলেও এটি নিবন্ধিত নয়। ওলামাদের দাবির প্রেক্ষিতে আমরা আয়োজকদের জানাই, দুই পক্ষই যেহেতু স্থানীয়, তাই নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে যেন একটি শান্তিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে আয়োজকরা নিজ থেকেই ম্যাচ স্থগিত করেন।'
অন্যদিকে 'দিরাইয়ে ইসলামবিরোধী কার্যকলাপ প্রতিরোধ কমিটি'র সভাপতি মাওলানা শরিফ উদ্দিন এ প্রসঙ্গে বলেন, 'আগে শুনেছিলাম কিশোরীরা ফুটবল খেলবে, কিন্তু পরে মাইকিং করা হয় মহিলাদের ফুটবল খেলা নিয়ে। এর আগে স্থানীয় কিশোরীরা দিরাইয়ে ফুটবল খেললেও আমরা বাধা দিইনি। কিন্তু দিরাইয়ে আগে কখনও মহিলাদের ফুটবল খেলা হয়নি। মহিলাদের নিয়ে মাঠে নাচানাচি ও অশ্লীলতা হবে—এটা আমরা মানতে পারি না। আমরা খেলাধুলার বিরোধী নই, অশ্লীলতার বিরোধী।'
দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, 'প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের জন্য আয়োজকেরা উপজেলা প্রশাসনের অনুমতি নিয়েছিলেন এবং পুলিশ সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রস্তুত ছিল। তবে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে আয়োজকরা নিজেরাই শেষ পর্যন্ত ম্যাচ স্থগিতের ঘোষণা দেন। বর্তমানে এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।'
While most comments will be posted if they are on-topic and not abusive, moderation decisions are subjective. Published comments are readers’ own views and The Business Standard does not endorse any of the readers’ comments.