অনুকূল পরিবেশের আকর্ষণে গুগল ছাড়াও মাইক্রোসফট ও টিকটকের মত প্রযুক্তি জায়ান্টরাও দেশটিতে ডেটা সেন্টার গড়ে তুলেছে।
ফিনল্যান্ডের অনুকূল পরিবেশের আকর্ষণে গুগল ছাড়াও মাইক্রোসফট ও টিকটকের মতো প্রযুক্তি জায়ান্টরাও দেশটিতে ডেটা সেন্টার গড়ে তুলেছে। ছবি: এআই
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস
পরিবেশগত মূল্যায়ন ছাড়াই তিনশ হেক্টরের বেশি বনভূমি সাফ করার অভিযোগে ফিনল্যান্ডে গুগলের ডেটা সেন্টার নির্মাণ প্রকল্প ঘিরে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।
সার্চ জায়ান্ট গুগলের স্থানীয় প্রতিনিধি কোম্পানি ‘টুইকে ফিনল্যান্ড’ কোনো ধরনের আগাম অনুমোদন বা বাধ্যতামূলক পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন ছাড়াই প্রায় ৪২০টি ফুটবল মাঠের সমান এলাকার গাছপালা কেটে সাফ করেছে বলে প্রযুক্তি বিষয়ক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর এসেছে।
প্রযুক্তি সাইট টমস হার্ডওয়্যারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ঘটনার খবর সামনে আসার পর নড়েচড়ে বসেছে স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবেশবাদীরা।
ঠান্ডা আবহাওয়া এবং পরমাণু, বায়ু ও জলবিদ্যুতের মতো স্বস্তা বিদ্যুতের জন্য ইউরোপে ডেটা সেন্টার স্থাপনে ফিনল্যান্ডকে অন্যতম আদর্শ দেশ হিসেবে বিবেচনা করে গুগল।
বন উজারের সমালোচনার বিষয়ে গুগল বলেছে, “আমরা স্থানীয় আইনকানুন ও পরিবেশগত নিয়মাবলী কঠোরভাবে মেনে চলার ব্যাপারে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি।”
পরিবেশগত বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্বেগের মুখে এ বড় প্রযুক্তি বিনিয়োগ শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয় সেটাই দেখার বিষয়।
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধীর হয়ে পড়ায় এবং রেকর্ড বেকারত্বের মতো বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ঠেকাতে ডেটা সেন্টার স্থাপনকে প্রধান হাতিয়ার হিসেবে দেখছে ফিনল্যান্ড সরকার।
৯ হাজারেরও কম জনসংখ্যার ছোট্ট শহর মুহোসের এ নতুন প্রকল্প ফিনল্যান্ডে গুগলের প্রথম উদ্যোগ নয়।
এর আগে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের হামিনায় তাদের একটি ডেটা সেন্টার চালু রয়েছে। তবে এবার তারা উত্তরের মুহোস, কাজানি ও ভালা অঞ্চলে নিজেদের পরিধি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে টেক জায়ান্টটি।
আগামী দুই বছরে ফিনল্যান্ডে ১ হাজার ৩০০ কোটি ইউরো বা প্রায় দেড় হাজার কোটি ডলারের বিনিয়োগ প্রকল্পেরই একটি অংশ এই সম্প্রসারণ কাজ।
ফিনল্যান্ডের অনুকূল পরিবেশের আকর্ষণে গুগল ছাড়াও মাইক্রোসফট ও টিকটকের মত প্রযুক্তি জায়ান্টরাও দেশটিতে ডেটা সেন্টার গড়ে তুলেছে।
এদিকে গুগলের এ প্রকল্পের সুফল নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
মুহোসের মেয়র এ বড় বিনিয়োগ, ব্যবসাবাণিজ্যের প্রসার ও অঞ্চলের সার্বিক অর্থনৈতিক অগ্রগতির সম্ভাবনাকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন।
তবে দেশটিতে সাম্প্রতিক সময়ে গড়ে ওঠা অন্যান্য ডেটা সেন্টারের অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে বাসিন্দাদের মনে নতুন উদ্বেগ দানা বাঁধছে। পরিবেশের ওপর এর বিরূপ প্রভাব, বিদ্যুৎ সরবরাহের স্থিতিশীলতা ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা নিয়ে স্থানীয় মহলে চাপা অসন্তোষ কাজ করছে।
মুহোস শহরের কাছে সদ্য বনভূমি উজাড় করা এলাকায় এক্সকাভেটর দিয়ে মাটি সমতল করার কাজ চলায় স্থানীয় পরিবেশবাদীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের তৈরি হয়েছে।
ফিনল্যান্ড ‘অ্যাসোসিয়েশন ফর নেচার কনজারভেশন’ এর চেয়ারপারসন হান্না হালমেনপা বলেছেন, “আমাদের দৃষ্টিতে প্রকল্পটি আইনসম্মত কি না তা স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত এই নির্মাণ স্থানের সব কার্যক্রম স্থগিত রাখা উচিত।”
গাছ কাটার সময় বেশ কিছু সংরক্ষিত প্রকৃতির জোন বা বনাঞ্চলও ধ্বংস করা হয়েছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
পরিবেশ সংরক্ষণ সংস্থায় এ প্রকল্পের কাজ স্থগিত করার আবেদনটি তিনি দায়ের করেছিলেন।
তবে অনুমোদনের আগেই বনাঞ্চল ধ্বংস করার অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে গুগল। কোম্পানিটির দাবি, গাছ কাটার কাজ বন আইন অনুসারে ‘নির্ধারিত নিয়ম মেনেই করা হয়েছে’।
গুগলের ফিনল্যান্ডভিত্তিক যোগাযোগ ব্যবস্থাপক দাবি করেছেন, বন কাটার সময় ‘পরিবেশগত জোনগুলোকে সুরক্ষিত রাখা হয়েছে’।
তবে মুহোসের নতুন ডেটা সেন্টার নির্মাণস্থলে প্রস্তুতি বা খননকাজ বন্ধ রয়েছে এমন কোনো খবর বা প্রতিবেদন এখনও মেলেনি।
ফলে রাজনৈতিক বা ব্যবসায়িক মহলের জোরালো সমর্থনের ওপর ভর করে গুগল নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুসারেই কাজ চালিয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
তৌফিক ইমরোজ খালিদী: আমাদের কালের কাঙাল হরিনাথ
তৌফিক ইমরোজ খালিদী: কঠোর সম্পাদকের আড়ালে স্নেহশীল অভিভাবক
তৌফিক ইমরোজ খালিদী: এই ‘যাওয়া তো নয় যাওয়া’
তৌফিক ইমরোজ খালিদী: শিল্পানুরাগী এক অনন্য আতিথেয়তার মানুষ