সংস্কৃতি মন্ত্রীর সঙ্গে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের অল-পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপ অন বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধিদল আনুষ্ঠানিক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর দপ্তরে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে দুই দেশের সংসদীয় সহযোগিতা জোরদার, যুক্তরাজ্যে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের নানাবিধ স্বার্থ, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় বাড়ানোসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়।
যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির সংসদ সদস্য মিজ আপসানা বেগম এই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন।
প্রতিনিধিদলের অপর দুই সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্য শকাত আদম এবং হাউস অব লর্ডসের সদস্য লর্ড কুরবান হোসেন।
সাক্ষাৎকালে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বাংলাদেশের হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী ও সমৃদ্ধ সংস্কৃতির আবহ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংস্কৃতি বৈচিত্র্য ও পারস্পরিক সহাবস্থানের এক অনন্য রূপ। দেশের ৫০টিরও বেশি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী নিজেদের মাতৃভাষা, রীতিনীতি ও ঐতিহ্য নিয়ে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছে। পাহাড় ও সমতলের বৈচিত্র্যময় জীবনযাত্রা, নদীমাতৃক রূপ এবং মানুষের বহুমাত্রিক জীবনচর্চা আমাদের সাংস্কৃতিক কাঠামোকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
তিনি জোর দিয়ে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে ভিন্ন ধর্ম, বর্ণ ও মতের মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ নিয়ে বসবাস করে।
মন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রের দৃষ্টিতে সকল নাগরিক সমান এবং আইনের চোখে সবার অধিকার সুনির্দিষ্ট। সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠ ও সংখ্যালঘু হিসেবে কোনো ধরনের কৃত্রিম বিভাজন দেখতে চায় না। প্রত্যেক ধর্মের মানুষ স্বাধীনভাবে তাদের ধর্মীয় উৎসব পালন করে আসছে।
দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, অতীতে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতায় নানা প্রতিবন্ধকতা এলেও সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশে নতুন গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা শুরু হয়েছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জনগণের প্রত্যক্ষ রায়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত সরকার জনগণের সার্বিক কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি আরও জানান, বিগত কর্তৃত্ববাদী সরকারের পতনের পর ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা সতর্ক অবস্থানে থেকে কাজ করেছে।
আসন্ন দুর্গাপূজা প্রসঙ্গে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, গত বছর সারাদেশে প্রায় ৩৩ হাজার পূজামণ্ডপে উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এবার এই সংখ্যা আরও প্রায় ৫ হাজার বাড়তে পারে, যা দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির গভীরতার প্রমাণ দেয়।
বৈঠকে উপস্থিত সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য আইনজীবী নিপুন রায় চৌধুরী ব্রিটিশ প্রতিনিধিদলকে জানান, হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা উপলক্ষে হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের পক্ষ থেকে চাওয়া ৪ কোটি টাকার পরিবর্তে সরকার ৫ কোটি টাকা বরাদ্দের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। একই সঙ্গে উৎসবের পরিধি নির্বিঘ্ন করতে সরকারি ছুটি আরও এক দিন বাড়ানোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে উভয় পক্ষই দুই দেশের পার্লামেন্টের মধ্যকার প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ বাড়ানো, প্রবাসী বাংলাদেশিদের জীবনমান উন্নয়ন এবং যৌথ সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন।
এ সময় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমিন বেগম এবং যুগ্ম সচিব ইলিয়া সুমনা উপস্থিত ছিলেন।