বক্সিং নিয়ে জনপ্রিয় মাঙ্গা সিরিজ ‘আশিতা নো জো’ বা ‘ফাইটিং ফর টুমরো’র স্রষ্টা জাপানের কিংবদন্তি মাঙ্গা শিল্পী তেৎসুয়া চিবা মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। সিরিজটিতে একজন এতিমের পেশাদার বক্সার হয়ে ওঠার গল্প তুলে ধরে দেশজুড়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিলেন তিনি।
চিবার এ কালজয়ী সিরিজ এতটাই জনপ্রিয় হয়েছিল যে গল্পের নায়ক জো ইয়াবুকির প্রতিদ্বন্দ্বীর জন্য আয়োজিত একটি প্রতীকী শেষকৃত্যেও অংশ নিয়েছিলেন ভক্তরা। চিবার প্রকাশক কোদানশা লিমিটেড
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জানায়, গত বৃহস্পতিবার টোকিওর একটি হাসপাতালে মারা যান তিনি। তবে তার মৃত্যুর কারণ জানানো হয়নি।
তরুণ ক্রীড়াবিদদের জীবন ও পেশাগত সাফল্যের জন্য সংগ্রামের গল্প তুলে ধরলেও চিবা ছিলেন শান্তি ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সোচ্চার সমর্থক। শৈশবে যুদ্ধের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা নিয়ে আত্মজীবনীমূলক লেখা ও মাঙ্গায় নিজের স্মৃতিগুলো তুলে ধরেছেন তিনি।
১৯৩৯ সালের জানুয়ারিতে টোকিওতে জন্মের কয়েক মাস পর পরিবারের সঙ্গে উত্তর-পূর্ব চীনে চলে যান চিবা। ওই অঞ্চলে জাপানের দখলদারত্বের সময় সেখানেই তার শৈশব কাটে। তার বাবা সেখানে একটি ছাপাখানায় কাজ করতেন।
১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট জাপানের আত্মসমর্পণের সময় চিবার বয়স ছিল ছয় বছর। তখনো পরিবারটি চীনে অবস্থান করছিল। জাপানবিরোধী দাঙ্গার মধ্যে বিপদ ও খাদ্যসংকটের মুখে পড়ে পরিবারটি। তবে তার বাবা এক চীনা দোভাষীর বাড়ির চিলেকোঠায় লুকিয়ে থাকেন। সেখানে থাকার সময় চিবা তার তিন ছোট ভাইয়ের জন্য ছবি আঁকতেন।
পরে পরিবারটি চীনের বন্দরনগরী হুলুদাওয়ে পালিয়ে যায়। ১৯৪৬ সালে তারা জাপানে ফিরে আসে।
শৈশবের এসব ভয়াবহ অভিজ্ঞতা পরবর্তী সময়ে চিবার সৃষ্টিকর্ম ও কর্মকাণ্ডে প্রভাব ফেলে। তার বহু কাজে যুদ্ধবিরোধী বার্তা উঠে এসেছে। ১৯৫৬ সালে মাঙ্গা শিল্পী হিসেবে যাত্রা শুরু করেন চিবা। প্রথম দিকে মেয়েদের জন্য কমিকস আঁকলেও ষাটের দশকের শুরুর দিকে ছেলেদের জন্য গল্প রচনায় মনোযোগী হন তিনি।
১৯৬১ সালে ছেলেদের একটি কমিকস সাময়িকীতে ‘চিকাই নো মাকিউ’ বা ‘দ্য ম্যাজিক বল’ নামে বেসবলভিত্তিক মাঙ্গার মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করেন চিবা। তার এ কাজ জাপানে ক্রীড়াভিত্তিক মাঙ্গার নতুন ধারার বিকাশে ভূমিকা রাখে।
চিবার অন্যান্য ক্রীড়াভিত্তিক মাঙ্গার মধ্যে রয়েছে ‘ওরে ওয়া তেপ্পেই’ বা ‘আই’ম তেপ্পেই’। এতে উচ্চবিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর কেনদো—জাপানি তলোয়ারচালনা—অনুশীলনের গল্প তুলে ধরা হয়েছে। এ ছাড়া সুমো কুস্তি নিয়ে ‘নোতারি মাতসুতারো’ এবং কিশোর এক গলফারের গল্প ‘আশিতা তেনকি নি নাারে’ বা ‘লেটস হোপ দ্য ওয়েদারস ফাইন টুমরো’ তার উল্লেখযোগ্য কাজ।