ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দারকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজে বদলি করা হয়েছে। তিনি প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী জিয়া হায়দারের ভাই। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রভাব খাটানো, শিক্ষক বদলি ও পদায়নে অনিয়ম এবং পাঠ্যবইয়ে বিতর্কিত পরিবর্তনের নেপথ্যে ভূমিকা রাখার অভিযোগ রয়েছে কামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে। আজ সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় তাকে ওএসডি করে নতুন কর্মস্থলে পদায়ন করেছে। মন্ত্রণালয়ের একটি বিশ্বস্ত সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে পাঠ্যবইয়ে জুলাই শহীদ আনাসকে কেন্দ্র করে একটি গল্পে বিতর্কিত পরিবর্তন এবং জুলাই আন্দোলন ও বিগত সরকারের বিভিন্ন প্রসঙ্গ বাদ দেওয়ার ঘটনায় তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এ ঘটনায় শিক্ষা প্রশাসনে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতেই তাকে বদলি করা হলো। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় অধ্যাপক কামাল হায়দার শিক্ষা প্রশাসনে প্রভাবশালী কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ২০০৯ সালে তৎকালীন আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলামের বোন অধ্যাপক ফাহিমা খাতুনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে তিনি ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের উপসচিব পদে দায়িত্ব পান। পরবর্তী সময়ে ফাহিমা খাতুন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক হলে কামাল হায়দারকে অধিদপ্তরের সরকারি কলেজ শাখায় পদায়ন করা হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে শিক্ষা ক্যাডারের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘ওই সময় তিনি ফাহিমা খাতুনের ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের একটি বলয়ের সদস্য হয়ে ওঠেন। পাশাপাশি সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের আলোচিত সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) মন্মথ রঞ্জনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সিন্ডিকেটের সদস্য হিসেবেও তিনি প্রভাব বিস্তার করেন।’ মাউশির কলেজ শাখায় দায়িত্ব পালনকালে শিক্ষকদের পদায়ন ও বদলিতে অর্থের বিনিময়ে প্রভাব খাটানোর অভিযোগও রয়েছে কামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া বিএনপি ও বিরোধী মতাদর্শের শিক্ষকদের সঙ্গে অসহযোগিতামূলক আচরণ করতেন তিনি, এমন অভিযোগ শিক্ষা ক্যাডারের অনেক কর্মকর্তার। সাবেক শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির আমলেও নানা বিতর্কের কারণে তাকে মাউশি থেকে সরিয়ে সরকারি তিতুমীর কলেজে বদলি করা হয়, জানায় ওই সূত্র। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের শিক্ষামন্ত্রী ও শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে থাকা কামাল উদ্দিনের কয়েকটি ছবি এরই মধ্যে স্যোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষা কর্মকর্তারা জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর কামাল হায়দার নিজেকে সাবেক ছাত্রদলকর্মী হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেন। এরপর তিনি ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এবং পরে সচিব পদও বাগিয়ে নেন। এরপর গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ ও পদায়নের আর্থিক লেনদেন শুরু করেন এই কর্মকর্তা। এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দারের মোবাইলে একাধিক কল দেওয়া হয়। তবে তিনি সাড়া না দেওয়ায় তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।