1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৩ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে নতুন উদ্যোগ, ত্রিপক্ষীয় আলোচনায় সম্মতি পুতিনের এবার আফগানিস্তানের কাছে ৭ উইকেটে হারল বাংলাদেশ সমাজের নিকৃষ্ট ব্যক্তিরা এমপি-মন্ত্রী হন: স্পিকার সচিবালয়ে ডিজিটাল হাজিরা, তদারকিতে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ-ভারত ফাইনাল আজ প্রধানমন্ত্রীর দক্ষিণাঞ্চল সফর ঘিরে ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পের মরিয়া কূটনীতি, ফের ত্রিমুখী শান্তি আলোচনায় পুতিনের সম্মতি নরসিংদীতে ডাইং মিলের বয়লারে আগুন, দগ্ধ ৫ জন ঢাকা মেডিকেলে অনূর্ধ্ব ১৯ নারী টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সূচি ঘোষণা ইউক্রেইন-যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় শান্তি আলোচনায় বসতে রাজি পুতিন

লালমনিরহাটের ইউএনও ‘আপু’ সম্বোধনে ক্ষিপ্ত হওয়ার ঘটনা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে

রিপোর্টার
  • আপডেট : শনিবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ১০৩ বার দেখা হয়েছে

সারাদেশ ডেস্ক

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামিমা আক্তার জাহান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি কলরেকর্ডে ‘আপু’ সম্বোধন শোনার পর কিছুটা ক্ষিপ্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) স্থানীয় ‘রয়েল ফুটবল একাডেমি’র ১০ বছর পূর্তি উদযাপন উপলক্ষে আয়োজন করা চড়ুইভাতি অনুষ্ঠানের সময় এই ঘটনা ঘটেছে।

উপজেলার ‘রয়েল ফুটবল একাডেমি’র সহ-সভাপতি মেহেরবান মিঠু রাত ১২টার দিকে ইউএনওকে ফোন করেন। ফোনে তিনি অনুষ্ঠান চলমান পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ইউএনওকে বলেন, “এক্ষুনি শেষ হয়ে যাবে, আপু।” তবে ‘আপু’ শব্দটি শোনার সঙ্গে সঙ্গে ইউএনও শামিমা আক্তার জাহান প্রতিক্রিয়া জানান। কলরেকর্ড অনুযায়ী, তিনি মিঠুকে বলেন, “আমি আপনার আপু নই, ফর ইউর কাইন্ড ইনফরমেশন।” এরপর ইউএনও মিঠুকে স্মরণ করান, যারা অনুমতিসহ অনুষ্ঠান আয়োজন করেছিলেন তারা রাত ১০টা থেকে ১০টা ৩০ মিনিটের মধ্যে অনুষ্ঠান শেষ করার কথা উল্লেখ করেছিলেন।

মিঠু জানিয়েছেন, তিনি অত্যন্ত সম্মান প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে ‘আপু’ শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন। পরে তিনি দ্রুত অনুষ্ঠানটি শেষ করার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। ইউএনও শামিমা আক্তার জাহানও উল্লেখ করেন, অনুষ্ঠান গভীর রাত পর্যন্ত চলায় তিনি সামান্য ক্ষুদ্ধ ছিলেন, তবে ‘আপু’ সম্বোধন শোনায় রাগ করেননি।

ঘটনাটি প্রকাশের পর সামাজিক মাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। নেটিজেনদের একাংশ ইউএনওর প্রতিক্রিয়াকে দায়িত্বশীলতার পরিচয় হিসেবে দেখলেও, অন্য একটি অংশ এটি কর্মকর্তার অহমিকার প্রতিফলন হিসেবে মূল্যায়ন করছে। বিশেষ করে, সরকারি কর্মকর্তাদের ‘স্যার’ বা ‘ম্যাম’ সম্বোধন করার কোনো আনুষ্ঠানিক বাধ্যবাধকতা নেই। ‘আপু’ শব্দটি বাংলাদেশে সাধারণভাবে সম্মানসূচক সম্বোধন হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যা এমন পরিস্থিতিতে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ এবং অনুষ্ঠানের সময়সীমা অনুসরণের প্রসঙ্গে এই ঘটনা প্রশাসনিক শৃঙ্খলা এবং সামাজিক মনোভাবের মধ্যে সামঞ্জস্য নিয়ে নতুন আলোচনার সৃষ্টি করেছে। কালীগঞ্জের এই উদাহরণ স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি কর্মকাণ্ড ও সামাজিক আচরণ সম্পর্কিত দিকনির্দেশনার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইউএনওর দিকনির্দেশনার কারণে অনুষ্ঠানের শেষ সময় দ্রুত এগোনোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ফলে রাত ১২টার পরও অনুষ্ঠান অব্যাহত রাখার কোনো সুযোগ থাকেনি। এ ধরনের ঘটনা প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি সামাজিক মূল্যবোধ ও শালীন আচরণের ক্ষেত্রে সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কলরেকর্ডে প্রকাশিত কথোপকথনের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কর্মকর্তা এবং নাগরিকের মধ্যে সম্মানসূচক সম্বোধনের বিষয়টি কখনও কখনও ভুল বোঝাবুঝির কারণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সৌজন্যমূলক সম্বোধন ব্যবহার করা সামাজিক আচরণের অংশ হলেও, সময় ও পরিস্থিতি অনুযায়ী এটি প্রযোজ্য কিনা তা বিবেচনা করা জরুরি।

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে এই ঘটনা সামাজিক মাধ্যম ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে, যা সরকারি কর্মকর্তা এবং স্থানীয় জনগণের মধ্যে যোগাযোগ ও পারস্পরিক সম্মান সম্পর্কিত বিষয়ে নতুন প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026