প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রযুক্তিটির বৃহৎ পরিসরে কার্যকারিতা ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা যাচাই প্রয়োজন, বলেছেন গবেষকরা।
তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে বর্জ্য থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদন প্রকল্পের প্রদর্শনী দেখেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস
বর্জ্য থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদনের প্রকল্প বাস্তবায়নে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে এ প্রকল্পের প্রদর্শনী দেখার পর সরকারপ্রধান এ আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তার উপ প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা।
তিনি বলেন, “মানববর্জ্য ও কৃষিজ অবশিষ্টাংশ থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদনের উদ্ভাবনী প্রকল্পটি প্রত্যক্ষ করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং এর কার্যক্রম ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা সম্পর্কেও অবহিত হন।”
“প্রকল্পটির সম্ভাবনা বিবেচনায় এটি বাস্তবায়নে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাসও দিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।”
প্রকল্পটির গবেষক খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-কুয়েটের অধ্যাপক মো. খালেকুজ্জামান মানববর্জ্য, পয়ঃশোধনাগারের বর্জ্য, রান্নাঘরের বর্জ্য এবং কৃষিজ অবশিষ্টাংশ থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদনের প্রযুক্তি ও গবেষণার বিভিন্ন দিক প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন।
উপ প্রেস সচিব বলেন, “প্রায় ১০ বছর ধরে পরিচালিত এ গবেষণায় ‘হাইড্রোথার্মাল লিকুইফ্যাকশন’ (HTL) প্রযুক্তি ব্যবহার করে বর্জ্য থেকে জৈব অপরিশোধিত তেল বা বায়োক্রুড উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছেন কুয়েটের গবেষকরা। গবেষণাগারের পরীক্ষায় ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বায়োক্রুড উৎপাদনের ফল পাওয়া গেছে।”
“পাশাপাশি ডিজেলসমৃদ্ধ বায়োক্রুড উৎপাদনেও সাফল্য এসেছে বলে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন গবেষকরা।”
গবেষকরা প্রধানমন্ত্রী জানান, পরবর্তী ধাপে প্রতিদিন এক থেকে তিন টন বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ সক্ষম একটি পাইলট প্ল্যান্ট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। এর মাধ্যমে প্রযুক্তিটির কার্যকারিতা, উৎপাদন ব্যয় এবং বাণিজ্যিক সম্ভাবনা যাচাই করা হবে। প্রস্তাবিত প্রকল্প বাস্তবায়নে আনুমানিক ১০০ থেকে ১২০ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে।
তারা বলেছেন, প্রযুক্তিটি বাণিজ্যিকভাবে সম্প্রসারণ করা সম্ভব হলে ভবিষ্যতে আমদানিকৃত অপরিশোধিত তেলের প্রায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ প্রতিস্থাপনের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে বছরে আনুমানিক ৬ হাজার ৫০০ থেকে ১৩ হাজার কোটি টাকা সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হতে পারে। তবে এ প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রযুক্তিটির বৃহৎ পরিসরে কার্যকারিতা ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা যাচাই প্রয়োজন।
উপ প্রেস সচিব বলেন, “প্রকল্প সংশ্লিষ্ট গবেষকদের প্রত্যাশা, সরকারি সহায়তায় প্রযুক্তিটি সফলভাবে বাণিজ্যিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হলে দেশের জ্বালানি তেলের সংকট ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে জ্বালানি আমদানিনির্ভরতা কমানো, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়, পরিবেশ দূষণ হ্রাস এবং দেশীয় জ্বালানি শিল্প বিকাশের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।”
প্রদশর্নীতে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন-বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল মাহমুদ টুকু, প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) পাবলিক ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সদস্য অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন, কুয়েট উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ মাছুদ ও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
তৌফিক ইমরোজ খালিদী: সম্পাদকের রেখে যাওয়া আলো
অরূপের দেশে তৌফিকের অধরা বিমূর্ত ক্যানভাস
তৌফিক ইমরোজ খালিদী: একজন বন্ধু, আমার জন্য যিনি সীমানা পেরিয়েছিলেন
তৌফিক ইমরোজ খালিদী: আদিওস, মাই এডিটর