বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস
ঢাকার মেট্রোরেলের এমআরটি-১ প্রকল্পের ব্যয় দ্বিগুণের বেশি বাড়ার প্রেক্ষাপটে তা কমানোর আলোচনা থাকছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরের আলোচ্যসূচিতে।
পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম বলছেন,সুদের ব্যয় কমানোর বিষয়টি জাপান সফরে আলোচনায় তোলা হবে। তবে ফলাফল কী হবে তা বোঝা যাবে আলোচনার পর।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদার আমন্ত্রণে ২৫ থেকে ২৮ অক্টোবর দেশটিতে সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গত ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি হবে তার চতুর্থ বিদেশ সফর।
সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন আসাদ আলম সিয়াম।
তিনি জানান, সফরে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে থাকবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক বিশেষ সহকারী মো. শাকিরুল ইসলাম খান (শাকিল)।
গত ১৬ সেপ্টেম্বর একনেক সভায় বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত দেশের প্রথম পাতাল মেট্রোরেল (এমআরটি লাইন-১) প্রকল্পের প্রথম সংশোধনীতে ব্যয় বাড়ানো হয় ১১৭ দশমিক ৬৪ শতাংশ। এ প্রকল্পের অর্থায়ন করছে জাপান।
জাপান সফরে প্রধানমন্ত্রী এই ব্যয় কমিয়ে আনার ব্যাপারে কোনো আলোচনা করবেন কিনা জানতে চাইলে পররাষ্ট্রসচিব বলেন, "আমরা তো জাপানের কাছে নানান অবকাঠামো তৈরির জন্য নানান ধরনের কারিগরি সহায়তা… আপনি যেটা বললেন যে ক্যাপিটাল ফান্ডিং, বিপুল তথ্য সহায়তা চেয়েছি।
"দুই প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এই অবকাঠামোগত সহযোগিতার বিষয়গুলো নিশ্চয় আলোচিত হবে। মেট্রোরেল ছাড়াও অন্যান্য অবকাঠামোগত পারস্পরিক সহযোগিতা বিদ্যমান। সুতরাং সেখানে বিস্তারিত আলোচনা হবে।”
তিনি বলেন, " আমরা সকল দেশের কাছ থেকেই তো কম সুদে ঋণ পেতে চাই। কিন্তু বৈশ্বিক ব্যবস্থাপনা, প্রতিটি দেশের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ কারণও থাকে। এগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যে প্রশ্নগুলো করেছেন এগুলো আলোচনা হবে। ফলাফলটা আলোচনার পরেই দেখা যাবে।"
জাপানের অর্থায়নে নির্মাণাধীন বাংলাদেশের মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে একটি ‘শিল্প ভ্যালু চেইন’ গড়ে তুলতে চায় জাপান। এর মাধ্যমে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্যকে বঙ্গোপসাগর ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে জুড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে দেশটির।
আঞ্চলিক সম্পর্কের জায়গা থেকে এ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান কী হবে–এমন প্রশ্নে আসাদ আলম সিয়াম বলেন, "আমাদের ধারণা হল, আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, তার সাথে বন্দরের অবকাঠামো উন্নয়নের সাথে বন্দরের অবকাঠামোর যে সক্ষমতার প্রয়োজন, এই দুইটা ম্যাচ করে।
"অর্থাৎ ভবিষ্যতে ১০ বছর পরে আমরা যে পরিমাণ রপ্তানি বা আমদানি করব, সেই পরিমাণ পণ্য হ্যান্ডেল করার যে সক্ষমতা আমাদের পোর্টগুলোর থাকা দরকার, সেখান থেকেই এই মাতারবাড়ী পোর্টের সম্প্রসারণ কনসেপ্ট অফ দ্য প্রজেক্ট ডেভেলপ করেছিল।"
সচিব জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফরে দেশের জ্বালানি সংকটের বিষয়গুলোও আলোচনায় আসবে। প্রধানমন্ত্রী জাপানের চিবায় এলএনজি টার্মিনাল ঘুরে দেখবেন।
এর পাশাপাশি তার একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র, ইউনিলিভারের সদরদপ্তর এবং নাগানোতে টয়োটা কারখানা পরিদর্শনের কথা রয়েছে।
সচিব বলেন, "দুই দেশের বর্তমান সম্পর্ককে আমরা 'কৌশলগত অংশীদারত্বের' পর্যায়ে থাকার কথা বলছি। এর আওতায় বাংলাদেশের অবকাঠামোগত স্থাপনা, প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ, মানবসম্পদ উন্নয়ন, নিরাপত্তা সহযোগিতাসহ বিভিন্ন পারস্পরিক সহযোগিতামূলক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
"আমরা আশা করি এই কার্যক্রম এই সফরের মাধ্যমে আরও জোরদার হবে, বৃদ্ধি পাবে।"
প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন সফর দুই দেশের সম্পর্ককে ‘আরও গভীর ও সুদৃঢ়' করার সুযোগ সৃষ্টি করছে বলে পররাষ্ট্র সচিবের ভাষ্য।
তিনি বলেন, গত ফেব্রুয়ারতে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট (ইপিএ) স্বাক্ষরিত হওয়ায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের 'নতুন সম্ভাবনার’ সৃষ্টি হয়েছে।
"জাপান বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে মেট্রোরেল, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্র বন্দরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত ও যোগাযোগ প্রকল্পের নির্মাণ ও বাস্তবায়নে সহযোগিতা করে আসছে।"
এবারের সফর জাপানের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণ, জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ব্যবসায়িক সম্পর্ক জোরদারের পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পরিবেশ, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ডিজিটাল উদ্ভাবন, গবেষণা বৃদ্ধি, মানবসম্পদ উন্নয়নসহ নতুন নতুন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের পথ তৈরি করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সফরের দ্বিতীয় দিনে ২৬ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার কার্যালয়ে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হবেন তারেক রহমান। তার সম্মানে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া নৈশভোজেও তিনি অংশ নেবেন।
এছাড়া জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লিগ, জাপান-বাংলাদেশ কমিটি ফর কমার্শিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক কোঅপারেশন-এর চেয়ারম্যান, জাইকা প্রেসিডেন্ট, জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন-এর গভর্নর, জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন-এর সভাপতি, সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশন-এর চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করবেন।
প্রধানমন্ত্রী জাপান-বাংলাদেশ ইকোনমিক ফোরামে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করবেন বলেও জানান সচিব।
তিনি বলেন, "এ সফরের ফলে আশা করা যায় যে বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার হবে। সম্পর্কের নতুন নতুন মাত্রা উন্মোচিত হবে। এবং জাপান থেকে বাংলাদেশে নতুন বেসরকারি বিনিয়োগ আসবে।
"এছাড়া চলমান প্রয়োজনীয় প্রকল্পসমূহের ত্বরান্বিত ও সময়মত সমাপ্তির সুযোগ সৃষ্টি হবে, অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদার হবে, অর্থনৈতিক এবং উন্নয়ন সহায়তার পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে এবং নিরাপত্তা সহায়তা অব্যাহত থাকবে।"
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে কৃষি, মৎস্য সম্পদ খাতে সহযোগিতা, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধি, বেসামরিক বিমান পরিবহন, সামুদ্রিক পরিবেশ সংরক্ষণ, স্থানীয় সরকারের আধুনিকীকরণের মত বিষয়ে কয়েকটি সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে বলে ধারণা দেন পররাষ্ট্র সচিব।
তিনি বলেন, "আমরা আটটির মত সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা করছি, আমরা আশা করছি এর মধ্যে তিন-চারটি স্বাক্ষরিত হবে।”
প্রবাসী বন্ড ও সমন্বিত উন্নয়ন: সিলেটের সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ
অনাগত বেতনের আগাম দহন: ২০২৬ নোবেলজয়ীদের তত্ত্বে পে স্কেল ও প্রত্যাশার নোঙর