1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৫ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
বীরগঞ্জে শহীদ জিয়া স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করলেন এমপি মনজুরুল মেসির বিদায়ে কঠিন পরীক্ষায় আর্জেন্টিনার ‘ফুটবল-বাণিজ্য’ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আবরার ফাহাদের পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাৎ দুই মাসের মধ্যে এক হাজার খেলার মাঠ তৈরির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর বিমান-পর্যটন খাতকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার পরামর্শ সংসদীয় কমিটির বিদেশফেরতদের নতুন জীবন গড়তে সরকার ও জাতিসংঘের ৩০ মাসের কর্মসূচি দিল্লিতে আলোচনায় বসছে বাংলাদেশ-ভারত সংস্কৃতি মন্ত্রীর সঙ্গে যুক্তরাজ্যের প্রতিনিধিদলের বৈঠক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ডিপি ওয়ার্ল্ডের প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ এক কোটি চশমা দেবে সরকার: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

চট্টগ্রাম-শাহ আমানত বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট স্থবিরতা প্রবাসীদের বিপাকে

রিপোর্টার
  • আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬
  • ৬৪ বার দেখা হয়েছে

ঢাকা — জেলা প্রতিনিধি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে উত্পন্ন অনিশ্চয়তার প্রভাবে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলোতে ব্যাপক স্থবিরতা দেখা দিয়েছে, যা হাজারো প্রবাসীর জন্য জীবন ও জীবিকার পথে বড় ধাক্কা হিসেবে প্রভাব ফেলেছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই অচলাবস্থায় ২৫ মার্চ পর্যন্ত মোট ১৮৬টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল জানান, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তীব্র হওয়ায় ফ্লাইট পরিচালনায় বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। তার বলেন, “যুদ্ধের অবস্থা যে গতিতে বাড়ছে, ফ্লাইটগুলো পুনরায় সচল হওয়ার সময় নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিমানবন্দরের কার্যক্রমে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।”

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস ও এয়ার আরাবিয়ার বেশ কিছু ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। বাতিল হওয়া ফ্লাইটের মধ্যে শারজাহ, দুবাই ও আবুধাবি রুটের বিমানগুলো সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হয়েছে। এর ফলে চট্টগ্রামের প্রবাসীরা জরুরি কাজে বা সময়মতো দেশে ফিরতে পারছেন না।

ফেনীর প্রবাসী সলিমুল্লাহ বলেন, “অনেক কষ্টে ধারের টাকা শোধ করে ভিসার মেয়াদ বাড়িয়েছিলাম। আজ শারজাহর ফ্লাইট বাতিল হয়ে যাওয়ায় আমার সব পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়ে গেছে। মালিক জানিয়ে দিয়েছেন, আজ পৌঁছানো না গেলে আমার জায়গায় অন্য লোক নেওয়া হবে। পরিবার এখন অনিশ্চিত অবস্থায়।”

রাউজানের প্রবাসী আরফাতের অভিজ্ঞতাও অনুরূপ। আবুধাবির তার ফ্লাইট তিনবার পেছানো হয়েছে। তিনি বলেন, “এয়ারলাইন্স বলছে পরিস্থিতির ওপর তাদের হাত নেই। কিন্তু আমাদের পকেট খালি হয়ে যাচ্ছে। যুদ্ধের ভয় আর চাকরি হারানোর আতঙ্ক—আমরা এখন কোথায় আশ্রয় নেব, কেউ জানে না।”

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কিছু ফ্লাইট সচল থাকলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় নগণ্য। বিশেষত শারজাহ, দুবাই ও আবুধাবি রুটে ফ্লাইট কার্যক্রম প্রায় পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়ায় প্রবাসীরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে আসা, জরুরি প্রয়োজনে দেশে না ফেরা—এই সমস্যাগুলো প্রবাসীদের জন্য ক্রমবর্ধমান চাপ সৃষ্টি করছে।

অভিজ্ঞরা বলছেন, এই স্থবিরতা কেবল বিমান সংস্থার কার্যক্রমের সীমাবদ্ধতা নয়; এটি হাজারো পরিবারের দৈনন্দিন জীবন, রুটি-রুজি এবং ভবিষ্যতের নিরাপত্তার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলেছে। শাহ আমানত বিমানবন্দরের লাউঞ্জগুলোতে বর্তমানে দেখা যাচ্ছে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা, অনিশ্চিত ভবিষ্যতের উদ্বেগ এবং যাত্রীদের মানসিক চাপ।

চট্টগ্রাম থেকে বিদেশগামী প্রবাসীদের ওপর এই প্রভাব সাময়িক নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। যুদ্ধাবস্থা চলমান থাকায় বিমান চলাচল স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগতে পারে, যা প্রবাসী ও তাদের পরিবারকে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে প্রভাবিত করতে পারে।

উল্লেখ্য, এ ধরনের আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিলের ফলে শুধু যাত্রীরা নয়, বিমান সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট সেবা খাতও আর্থিক চাপের মুখে পড়েছে। প্রবাসীদের নিরাপদ ও দ্রুত ফ্লাইট নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিমান সংস্থাগুলোর সমন্বয় প্রয়োজন।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026