1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৯ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
‘প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে আলোচনা চলছে, কিছু চ্যালেঞ্জ আছে’ নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এটিএম-অনলাইন সেবা বন্ধ যেসব ব্যাংকের কূটনীতিকদের সম্মানে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নৈশভোজ টিভি ও অনলাইনে আজকের খেলা স্থানীয়দের দাবির মুখে সুনামগঞ্জে মেয়েদের ফুটবল ম্যাচ স্থগিত মেসিকে গোল ‘উপহার দেবেন না’ বেনিন গোলরক্ষক শিক্ষকতাকে মেধাবীদের পছন্দের পেশা করতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী দিরাইয়ে ওলামাদের বাধায় মেয়েদের ফুটবল ম্যাচ স্থগিত ৪২০ ফুটবল মাঠের সমান বন সাফ, ডেটা সেন্টার নিয়ে ফিনল্যান্ডে বির্তকে গুগল ভারতকে ‘ক্ষমা চাওয়ার দাবি প্রত্যাখ্যান’, সাবেকদের টুর্নামেন্টে খেলা হচ্ছে না আফ্রিদি-আমিরদের

শরীয়তপুরে স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগ, স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ

রিপোর্টার
  • আপডেট : শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬
  • ৮৪ বার দেখা হয়েছে

সারাদেশ ডেস্ক

শরীয়তপুরে জুলাই আন্দোলনে নিহতদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় দায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।

স্থানীয় সূত্র এবং পুলিশ জানিয়েছে, জুলাই আন্দোলনে নিহত শরীয়তপুরের ১৪ জনকে স্মরণ করে শহরের শহীদ মিনারের পাশে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছিল। কংক্রিটের ভিত্তির ওপর লোহার কাঠামোতে তৈরি এই স্মৃতিস্তম্ভে শহীদদের নাম খোদাই করা হয়েছিল। শহরের গুরুত্বপূর্ণ একটি ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক প্রতীক হিসেবে এটি স্থানীয়দের কাছে গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছিল।

ঘটনা ঘটে শুক্রবার (২৭ মার্চ) সন্ধ্যার পর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন যুবক স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দিচ্ছেন। প্রায় ১৭ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে তারা আগুন জ্বালানোর পর দ্রুত স্থান ত্যাগ করতে দেখা গেছে। ভিডিওটি প্রকাশের পর বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আসে।

প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগ উঠেছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের এক নেতার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিওটি প্রচার করা হয়েছে। বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে আরও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে এবং সামাজিকভাবে সমালোচনা উঠেছে।

ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা আহ্বায়ক ইমরান আল নাজির বলেন, “এ ধরনের হামলা পরিকল্পিত এবং এটি আমাদের ইতিহাস ও শহীদদের স্মৃতিকে নষ্ট করার চেষ্টা। আমরা চাই দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে দোষীদের গ্রেপ্তার করা হোক।”

পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম জানিয়েছেন, “ঘটনার খবর আমরা পেয়েছি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি আগের কোনো সময়ের ঘটনা হতে পারে। তবে বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি এবং দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয়রা মনে করছেন, স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগের ঘটনা শুধু ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক অনুভূতিকে আঘাত করেছে না, বরং সামাজিক শান্তি ও নিরাপত্তার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশি তৎপরতার পাশাপাশি, সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও তথ্য যাচাই করাও জরুরি বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

জুলাই আন্দোলন বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত। এই আন্দোলনে প্রাণ হারানো শরীয়তপুরের শহীদদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভটি স্থানীয়দের জন্য শুধুমাত্র একটি ভাস্কর্য নয়, এটি ইতিহাস ও রাজনৈতিক প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। তাই স্মৃতিস্তম্ভে হামলার ঘটনা স্থানীয় রাজনীতিক, শিক্ষাজীবী ও সাধারণ জনগণের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।

স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি, স্মৃতিস্তম্ভের নিরাপত্তা বৃদ্ধি ও সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য স্থানীয় কমিউনিটি ও প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় করা হচ্ছে।

শরীয়তপুরের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধ করতে সমাজে ঐক্যবদ্ধ সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। তারা মনে করছেন, শিক্ষার্থী ও যুব সমাজকে সম্প্রীতি ও ইতিহাসের প্রতি শ্রদ্ধাশীল করে গড়ে তোলা এই প্রকার সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026