1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১৬ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
ফ্যান্টাসি কিংডম কমপ্লেক্স পেল “বছরের সেরা অ্যামিউজমেন্ট পার্ক” বিভাগে বাংলাদেশ ট্যুরিজম অ্যাওয়ার্ড গৌরীপুরে পুড়ল ঝলমল সিনেমা হল সেরা ৫০০ শহরে নেই বাংলাদেশ ক্যান্সার চিকিৎসা সম্প্রসারণে ১৭ রেডিওথেরাপি মেশিন কিনবে সরকার রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের অনুমোদন ‘আন্তর্জাতিক জাস্টিস সামিটে’ যোগ দিতে তুরস্কে আইনমন্ত্রী ১০ উড়োজাহাজ কিনতে এয়ারবাসের সঙ্গে বিমানের চুক্তি বাংলাদেশ কারও স্বার্থে নয়, প্রয়োজনের ভিত্তিতে বিমান কিনবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানালেন ঢাকা-৫ আসনের জামায়াত এমপি কামাল হোসেন মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ও ইতিহাস নিয়ে বিতর্কের ইতি চান মন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অভিযান নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যে আন্তর্জাতিক সমালোচনা তীব্র

রিপোর্টার
  • আপডেট : শনিবার, ২ মে, ২০২৬
  • ৬৩ বার দেখা হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ঘিরে চলমান নৌ অবরোধ ও সামরিক অভিযানের বিষয়ে মন্তব্য করে নতুন করে আন্তর্জাতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, এই অভিযানে মার্কিন নৌবাহিনী কার্যত ‘জলদস্যুর মতো আচরণ’ করছে, যা কূটনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় দেওয়া এক বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, সম্প্রতি মার্কিন বাহিনী একটি জাহাজ জব্দ করেছে এবং তাতে থাকা পণ্য ও তেল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। তাঁর ভাষায়, “আমরা জাহাজটি দখল করেছি, পণ্য নিয়েছি, তেল নিয়েছি। এটা লাভজনক একটি কার্যক্রম। আমরা যেন জলদস্যুর মতো, তবে আমরা কোনো খেলা খেলছি না।” এই মন্তব্য প্রকাশের পর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নীতি ও আন্তর্জাতিক আইনগত অবস্থান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে দাবি করা হচ্ছে যে, ইরানের বন্দর ত্যাগ করা একাধিক জাহাজ—বিশেষ করে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা তেলবাহী ট্যাংকার ও কনটেইনার জাহাজ—বিভিন্ন সময়ে জব্দ করা হয়েছে। এসব পদক্ষেপকে তারা ইরানের ওপর অর্থনৈতিক ও কৌশলগত চাপ প্রয়োগের অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করে আসছে। ওয়াশিংটনের ভাষ্য অনুযায়ী, এই ধরনের অভিযান আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখার জন্য প্রয়োজনীয়।

অন্যদিকে ইরান হরমুজ প্রণালি ঘিরে কৌশলগত অবস্থান জোরদার করেছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি শুরু হওয়ার পর দেশটি এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে নিজেদের জাহাজ ছাড়া প্রায় সব ধরনের নৌযান চলাচলে সীমাবদ্ধতা আরোপ করে। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হিসেবে বিবেচিত, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি এলাকা।

এর প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন বন্দর ও সংলগ্ন নৌপথে পৃথক অবরোধ আরোপ করে। উভয় পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ অঞ্চলটিতে সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি শুধু দুই দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোকেও প্রভাবিত করছে।

চলমান উত্তেজনার সূত্রপাত ঘটে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে সামরিক হামলা চালায়। ওই ঘটনার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে ওঠে। জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকা দেশগুলোর ওপর পাল্টা হামলা চালায়। এতে সংঘাত আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করে।

এই সংঘাতের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবাহিত হয়। ফলে এই পথকে ঘিরে যেকোনো অস্থিতিশীলতা সরাসরি আন্তর্জাতিক বাজারে প্রভাব ফেলে। ইতোমধ্যে কাঁচা তেলের দামে ওঠানামা এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও এই সামরিক নীতি ও সংঘাত নিয়ে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। ট্রাম্পের অবস্থান ও বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে সমালোচনা বাড়ছে। বিশেষ করে তাঁর কঠোর ভাষা এবং গত মাসে ইরানের বিরুদ্ধে ‘সম্পূর্ণ সভ্যতা ধ্বংস’ করার হুমকি আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার হুমকি এবং সমুদ্রপথে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের শামিল হতে পারে। এমন কর্মকাণ্ড যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে তাঁরা মত দিয়েছেন।

পরিস্থিতি যেভাবে অগ্রসর হচ্ছে, তাতে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতার ঝুঁকি বাড়ছে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা। একই সঙ্গে বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থাও এই সংকটের প্রভাবে চাপের মুখে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026