1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫১ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
শিক্ষকতাকে মেধাবীদের পছন্দের পেশা করতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী দিরাইয়ে ওলামাদের বাধায় মেয়েদের ফুটবল ম্যাচ স্থগিত ৪২০ ফুটবল মাঠের সমান বন সাফ, ডেটা সেন্টার নিয়ে ফিনল্যান্ডে বির্তকে গুগল ভারতকে ‘ক্ষমা চাওয়ার দাবি প্রত্যাখ্যান’, সাবেকদের টুর্নামেন্টে খেলা হচ্ছে না আফ্রিদি-আমিরদের সুনামগঞ্জে ওলামাদের আপত্তিতে মেয়েদের প্রীতি ফুটবল ম্যাচ স্থগিত মেসির শেষ ম্যাচে থাকতে পারছেন না দিবালাসহ যে বিশ্বকাপজয়ীরা গফরগাঁওয়ে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে পেশাজীবী সংস্থাগুলোর যৌথ সম্মেলন বিশ্ব বসতি দিবসে সিলেটে পরিকল্পিত নগরায়নের আহ্বান ছেলেসহ দুদকের মামলায় শাজাহান খান গ্রেফতার

লিবিয়ার ডিটেনশন সেন্টার থেকে ফিরলেন ১৭৪ বাংলাদেশি

রিপোর্টার
  • আপডেট : সোমবার, ১ জুন, ২০২৬
  • ৫৩ বার দেখা হয়েছে

বিশেষ প্রতিবেদক

আফ্রিকার দেশ লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলির একটি ডিটেনশন সেন্টার (আটক শিবির) থেকে উদ্ধার হওয়া ১৭৪ জন বাংলাদেশি নাগরিক দেশে প্রত্যাবর্তন করেছেন। লিবিয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) যৌথ ও ধারাবাহিক প্রচেষ্টায় এই নাগরিকদের সফলভাবে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। প্রত্যাবর্তনকারীদের মধ্যে ১৪ জন গুরুতর শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।

আজ সোমবার (০১ জুন) সকালে বুরাক এয়ারের একটি বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে তারা ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর সরকারের প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার পক্ষ থেকে তাদের প্রাথমিক সহায়তা ও চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়।

লিবিয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, এই অভিবাসীরা লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলির ‘তাজুরা ডিটেনশন সেন্টার’-এ দীর্ঘদীন যাবত আটক ছিলেন। লিবিয়া হয়ে সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ইউরোপে অনুপ্রবেশের চেষ্টাকালে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তারা বিভিন্ন সময়ে আটক হন। পরবর্তীতে দূতাবাসের পক্ষ থেকে আটক বাংলাদেশিদের পরিচয় নিশ্চিতকরণ এবং আইওএম-এর মাধ্যমে তাদের বাংলাদেশে প্রত্যাবাসনের জন্য প্রয়োজনীয় ট্রাভেল পারমিট ও বিমানের টিকিটের ব্যবস্থা করা হয়।

লিবিয়া ছাড়ার পূর্বে ত্রিপোলির মেটিগা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লিবিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত প্রত্যাবর্তনকারী অভিবাসীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাদের সার্বিক খোঁজখবর নেন। এ সময় অভিবাসীরা দালালের খপ্পরে পড়ে লিবিয়ায় পৌঁছানো এবং সেখানে মানবপাচারের শিকার হওয়ার পর আটক শিবিরে অমানবিক জীবনযাপনের করুণ অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। রাষ্ট্রদূত তাদের দেশে ফিরে আইনি পন্থায় নতুন উদ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির আহ্বান জানান এবং মানবপাচারের ভয়াবহতা সম্পর্কে নিজ নিজ এলাকায় সচেতনতা বৃদ্ধির অনুরোধ করেন।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে লিবিয়াকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করে উন্নত জীবনের আশায় ইউরোপে পাড়ি জমানোর প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। দালালেরা সাধারণত ‘এয়ারপোর্ট কন্ট্রাক্ট’ কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের ‘ওমরাহ ভিসা’ ব্যবহার করে প্রথমে অভিবাসীদের লিবিয়ায় নিয়ে যায়। এরপর সেখান থেকে ঝুঁকিপূর্ণ নৌকায় করে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় প্রতি বছর বহু বাংলাদেশি ভূমধ্যসাগরে প্রাণ হারাচ্ছেন অথবা লিবিয়ার বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী ও আটক শিবিরে চরম নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।

লিবিয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, বর্তমান মে মাসে আরও তিনটি বিশেষ ফ্লাইটের মাধ্যমে গানফুদা ও তাজুরা ডিটেনশন সেন্টারে আটকে থাকা ৫১৪ জন বাংলাদেশিকে পর্যায়ক্রমে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তবে মানবপাচারের এই আন্তর্জাতিক চক্রকে সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করতে এবং অনিয়মিত অভিবাসন বন্ধ করতে বিমানবন্দরগুলোতে কঠোর নজরদারি ও ওমরাহ ভিসার অপব্যবহার রোধে কার্যকর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও ভুক্তভোগীরা।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026