1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৫৮ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
কঙ্গো গোলরক্ষকের অনিয়ম জেনেও ফিফার বিরুদ্ধে নীরব থাকার অভিযোগ বদরুন্নেসা কলেজে নানা আয়োজনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উদযাপন আন্তর্জাতিক অনুদান প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রকল্প আহ্বান রসাটমের প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাহাড়-সমতলের শিশুদের সমান সুযোগ চাইল শ্রাবস্তী চাকমা সুন্দরবনে বাঘের পায়ের ছাপের স্মৃতি এখনও মনে পড়ে প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবায় বিঘ্ন; কী বলছে বাংলাদেশ ব্যাংক? কিউ-ক্যাশ কর্তৃপক্ষকে তলব করল বাংলাদেশ ব্যাংক, সেবা স্বাভাবিক করার নির্দেশ এমন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা করতে চাই, যেটা বিতর্কের উর্ধ্বে থাকবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাজারে সিন্ডিকেটের প্রভাব বিস্তার করতে দেওয়া হবে না বুধবারেই এয়ারবাসের সঙ্গে চুক্তি সই করছে বিমান, চুক্তি হবে রেডিসনে

হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন বিমান হামলা, কুয়েত ও বাহরাইনে ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ

রিপোর্টার
  • আপডেট : শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬
  • ৪০ বার দেখা হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

পারস্য উপসাগরের কৌশলগত ও ভূ-রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালীর সন্নিকটে ইরানের একাধিক সামরিক রাডার ও নজরদারি স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন বিমান বাহিনী। মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে এই অভিযানকে ‘প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ’ হিসেবে দাবি করা হলেও এর জবাবে কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। এই পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা তৈরি করেছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী এলাকায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সাম্প্রতিক ইরানি সামরিক তৎপরতার জবাবে এই সুনির্দিষ্ট হামলা পরিচালনা করা হয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, ইরানের উপকূলীয় নজরদারি ও রাডার সক্ষমতা দুর্বল করার লক্ষ্যেই এই সীমিত সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা কোনো বড় ধরনের আক্রমণাত্মক অভিযানের অংশ নয়। মূলত মার্কিন ও মিত্রবাহিনীর নৌযানগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই ওয়াশিংটন এই পদক্ষেপ নিয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে মার্কিন বিমান হামলার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ইরান পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ও আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাতে জানা গেছে, আইআরজিসি হরমুজ প্রণালীসংলগ্ন ইরানের সিরিক শহর এবং কেশম দ্বীপে মার্কিন আগ্রাসনের জবাব হিসেবে কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত ‘শত্রুপক্ষের সামরিক ঘাঁটি’ লক্ষ্য করে একাধিক অ্যারোস্পেস ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। আইআরজিসি-র বিবৃতিতে দাবি করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের এই বেআইনি সামরিক অভিযানের উপযুক্ত জবাব দিতেই তারা আঞ্চলিক মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে এই সফল হামলা চালিয়েছে। তবে এই হামলার ফলে মার্কিন স্থাপনাগুলোর কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে ওয়াশিংটন বা তেহরানের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো তথ্য এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

আন্তর্জাতিক সামরিক ও ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বৈরিতা এই হামলার মধ্য দিয়ে এক নতুন ও বিপজ্জনক মাত্রায় রূপ নিলো। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে উভয় পক্ষের মধ্যে ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও সামুদ্রিক জলসীমায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে একের পর এক উত্তেজনাপূর্ণ ঘটনা ঘটছিল। এই ধারাবাহিকতায় রাডার স্থাপনায় মার্কিন হামলা এবং তার জবাবে ইরানের পাল্টা দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও ভঙ্গুর করে তুলেছে।

উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালীকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান এবং সংবেদনশীল জ্বালানি পরিবহন রুট হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্রতিদিন আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহকৃত মোট অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের একটি বিশাল অংশ এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। ফলস্বরূপ, এই অঞ্চলে সামরিক সংঘাত ও উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে বৈশ্বিক তেলের বাজারে তাৎক্ষণিক নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা দিতে পারে।

আঞ্চলিক নিরাপত্তা পর্যবেক্ষকরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, পরিস্থিতি যদি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা না যায়, তবে এই সংঘাত কেবল দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ইতোমধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন ও তাদের মিত্রদেশগুলোর সামরিক ঘাঁটিগুলোতে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও জাতিসংঘ উভয় পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন করার এবং যেকোনো ধরনের উস্কানিমূলক সামরিক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থেকে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026