1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩৬ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
শিক্ষকতাকে মেধাবীদের পছন্দের পেশা করতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী দিরাইয়ে ওলামাদের বাধায় মেয়েদের ফুটবল ম্যাচ স্থগিত ৪২০ ফুটবল মাঠের সমান বন সাফ, ডেটা সেন্টার নিয়ে ফিনল্যান্ডে বির্তকে গুগল ভারতকে ‘ক্ষমা চাওয়ার দাবি প্রত্যাখ্যান’, সাবেকদের টুর্নামেন্টে খেলা হচ্ছে না আফ্রিদি-আমিরদের সুনামগঞ্জে ওলামাদের আপত্তিতে মেয়েদের প্রীতি ফুটবল ম্যাচ স্থগিত মেসির শেষ ম্যাচে থাকতে পারছেন না দিবালাসহ যে বিশ্বকাপজয়ীরা গফরগাঁওয়ে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে পেশাজীবী সংস্থাগুলোর যৌথ সম্মেলন বিশ্ব বসতি দিবসে সিলেটে পরিকল্পিত নগরায়নের আহ্বান ছেলেসহ দুদকের মামলায় শাজাহান খান গ্রেফতার

অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ ও জ্বালানি সংকট নিরসনে জোর দিচ্ছে বিডা

রিপোর্টার
  • আপডেট : শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬
  • ৫৬ বার দেখা হয়েছে

অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক

বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে বিদেশি বিনিয়োগের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)। একই সঙ্গে শিল্প খাতের অন্যতম প্রধান অন্তরায় জ্বালানি সংকট নিরসনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ এবং অব্যবহৃত রাষ্ট্রীয় সম্পদকে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাজধানী ঢাকায় বিডা আয়োজিত ‘বাংলাদেশের বিনিয়োগ প্রবাহ ও বিনিয়োগ সহজীকরণ’ শীর্ষক এক কর্মশালায় সংস্থার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন এসব তথ্যের কথা জানান। কর্মশালায় বিনিয়োগের বর্তমান পরিস্থিতি, বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ এবং দেশের অভ্যন্তরীণ শিল্পায়নের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়।

বিডার প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এই কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক নূরজাহান আখতার, বিডার নির্বাহী সদস্য ও সচিব মো. হুমায়ূন কবির এবং মহাপরিচালক মো. মুজিবুল-উল-ফেরদৌসসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। কর্মশালায় জানানো হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে চলমান সংঘাত, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীরা নতুন বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণে ধীরনীতি অবলম্বন করছেন। এই পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিডা বর্তমানে বিদেশি উৎসের চেয়ে দেশীয় উদ্যোক্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও স্থানীয় বিনিয়োগকে উৎসাহিত করার নীতি গ্রহণ করেছে।

বিনিয়োগের বিদ্যমান পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে বিডা চেয়ারম্যান জানান, আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটিয়ে না ওঠা পর্যন্ত বৈশ্বিক বিনিয়োগ কার্যক্রম মন্থর থাকার আশঙ্কা রয়েছে। এই অন্তর্বর্তী সময়ে দেশের ভেতরের ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নত করা এবং অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগের মাধ্যমে অর্থনৈতিক গতিশীলতা বজায় রাখাই সরকারের মূল লক্ষ্য। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বেসরকারীকরণ এবং নগদীকরণ উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের বন্ধ ও অব্যবহৃত রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন শিল্প সম্পদ ও সম্পত্তি কাজে লাগিয়ে নতুন মূল্য সৃষ্টির উপায় খোঁজা হচ্ছে। এতে করে স্থানীয় শিল্পোদ্যোক্তারা যেমন নতুন সুযোগ পাবেন, তেমনি সরকারি সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

অবশ্য বিশ্ববাজারে নানাবিধ সংকট থাকা সত্ত্বেও চলতি বছরের শুরুতে অনুষ্ঠিত বিনিয়োগ সম্মেলনের পর দেশে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে বিডার পক্ষ থেকে জানানো হয়। তবে প্রাপ্ত বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতির পূর্ণ বাস্তবায়নে প্রত্যাশার চেয়ে কিছুটা বেশি সময় লাগছে বলে স্বীকার করেছে কর্তৃপক্ষ। বিনিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুততর করতে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা হ্রাস এবং ওয়ান স্টপ সার্ভিসকে আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশের শিল্প খাতের অন্যতম প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত জ্বালানি ও গ্যাস সংকট মোকাবিলাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে কর্মশালায় উল্লেখ করা হয়। বিনিয়োগকারীদের পক্ষ থেকে প্রতিনিয়ত নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবি জানানো হচ্ছে। এই সংকট সমাধানে বিডা বর্তমানে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সঙ্গে সমন্বয় করে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও টেকসই বিনিয়োগের প্রধান পূর্বশর্ত যে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি প্রবাহ, তা পুনর্ব্যক্ত করে জানানো হয় যে, এই সমস্যার কোনো তাৎক্ষণিক বা রাতারাতি সমাধান সম্ভব নয়। বড় কোনো অবকাঠামো প্রকল্পের সুফল পেতে অন্তত দেড় থেকে দুই বছর সময় প্রয়োজন। এই বাস্তবতায় ২০২৭-২৮ সালের মধ্যে দেশের সামগ্রিক জ্বালানি সংকট একটি সহনীয় ও উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে এখনই দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

কর্মশালায় দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্কের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন চীন সফরের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। বিগত পাঁচ বছর ধরে চীন বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান বিনিয়োগকারী দেশ হিসেবে ভূমিকা পালন করে আসছে। এই ধারাবাহিকতায় চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য বিডা কাজ করে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে মোংলা বন্দর ও প্রস্তাবিত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে বড় ধরনের চীনা বিনিয়োগ নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হতে পারে। এছাড়া সফরকালে চীনা বিনিয়োগকারীদের সাথে একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের আয়োজন করা হচ্ছে, যা দেশের অবকাঠামো খাতে নতুন গতি সঞ্চার করবে বলে আশা করা হচ্ছে। নতুন সরকারের মেয়াদকালের প্রথম দুই বছর বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সময় হওয়ায় এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দেশের অর্থনীতিকে সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে বদ্ধপরিকর বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026