1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৩ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
টিভি ও অনলাইনে আজকের খেলা স্থানীয়দের দাবির মুখে সুনামগঞ্জে মেয়েদের ফুটবল ম্যাচ স্থগিত মেসিকে গোল ‘উপহার দেবেন না’ বেনিন গোলরক্ষক শিক্ষকতাকে মেধাবীদের পছন্দের পেশা করতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী দিরাইয়ে ওলামাদের বাধায় মেয়েদের ফুটবল ম্যাচ স্থগিত ৪২০ ফুটবল মাঠের সমান বন সাফ, ডেটা সেন্টার নিয়ে ফিনল্যান্ডে বির্তকে গুগল ভারতকে ‘ক্ষমা চাওয়ার দাবি প্রত্যাখ্যান’, সাবেকদের টুর্নামেন্টে খেলা হচ্ছে না আফ্রিদি-আমিরদের সুনামগঞ্জে ওলামাদের আপত্তিতে মেয়েদের প্রীতি ফুটবল ম্যাচ স্থগিত মেসির শেষ ম্যাচে থাকতে পারছেন না দিবালাসহ যে বিশ্বকাপজয়ীরা গফরগাঁওয়ে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত

১১ মাসে এনবিআরের রেকর্ড রাজস্ব আদায়, লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বড় ঘাটতি

রিপোর্টার
  • আপডেট : সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬
  • ৬২ বার দেখা হয়েছে

অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ পরিমাণ রাজস্ব আদায় করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির মোট সংগৃহীত রাজস্বের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৬০ হাজার ৬৪২ কোটি টাকা। তবে সামগ্রিক রাজস্ব আদায়ে ১০ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হলেও সরকারের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় এখনো বড় ধরনের ঘাটতি রয়ে গেছে। মে মাস পর্যন্ত নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রাজস্ব আদায় কম হয়েছে ৮১ হাজার ৪৪২ কোটি টাকা। রবিবার রাতে এনবিআরের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

এনবিআরের সাময়িক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিগত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে অর্থাৎ জুলাই-মে মেয়াদে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ২৭group ৭৮৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। সেই তুলনায় সদ্য সমাপ্ত মে মাস পর্যন্ত অর্থবছরের ১১ মাসে রাজস্ব আদায় বেড়েছে ৩২ হাজার ৮৫৬ কোটি টাকা। রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক নানামুখী চ্যালেঞ্জের মধ্যেও ১০ শতাংশের ওপর এই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা ইতিবাচক। তবে আমদানি হ্রাস এবং ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে কিছুটা শ্লথগতির কারণে মূল লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হয়নি।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের জন্য সরকারের সংশোধিত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জুলাই থেকে মে মাস পর্যন্ত ১১ মাসের সাময়িক আদায়ের লক্ষ্য ছিল ৪ লাখ ৪২group ০৮৪ কোটি টাকা। এই লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ৩ লাখ ৬০ হাজার ৬৪২ কোটি টাকা। ফলে ১১ মাস শেষে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের হার দাঁড়িয়েছে ৮১ দশমিক ৫৮ শতাংশ। অর্থনীতিবিদদের মতে, লক্ষ্যমাত্রার এই বড় ঘাটতি সরকারের বাজেট বাস্তবায়ন এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) অর্থায়নে এক ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

খাতভিত্তিক রাজস্ব আদায়ের চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে প্রত্যক্ষ কর বা আয়কর খাতে। পর্যালোচনাধীন সময়ে আয়কর বিভাগে রাজস্ব আদায় বেড়েছে ১২ দশমিক ৫৪ শতাংশ। এর পরেই রয়েছে স্থানীয় পর্যায়ের মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট খাত, যেখানে প্রবৃদ্ধির হার ১০ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। অন্যদিকে, আমদানি-রপ্তানি তথা কাস্টমস বিভাগে রাজস্ব আদায়ের প্রবৃদ্ধি তুলনামূলক কম হয়েছে, যা মাত্র ৭ দশমিক ৮ শতাংশ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডলার সংকটের কারণে বিলাসবহুল ও অ-প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানিতে কড়াকড়ি আরোপ করায় কাস্টমস শুল্ক আদায় আশানুরূপ বাড়েনি।

এদিকে অর্থবছরের শেষ মাস জুনের প্রথম ২০ দিনের একটি প্রাথমিক হিসাবও প্রকাশ করেছে এনবিআর। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, জুনের ১ থেকে ২০ তারিখের মধ্যে আরও ২৯ হাজার ৩১১ কোটি টাকা রাজস্ব সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে। এর ফলে ২০ জুন পর্যন্ত চলতি অর্থবছরের মোট রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৮৯ হাজার ৯৫৩ কোটি টাকা। এই আদায় বিগত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের পুরো ১২ মাসের মোট আদায়কে (৩ লাখ ৭০ হাজার ৮৪৩ কোটি টাকা) ছাড়িয়ে গেছে।

এনবিআরের নীতিনির্ধারকরা আশা করছেন, জুন মাসের শেষ ১০ দিনে আয়কর রিটার্ন দাখিল ও করবর্ষ সমাপনীর কারণে আরও প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা আদায় করা সম্ভব হবে। যদি এই প্রাক্কলন সফল হয়, তবে চলতি অর্থবছর শেষে মোট রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ৪ লাখ ১৫group কোটি টাকায় পৌঁছাবে, যা হবে বাংলাদেশের ইতিহাসে একক অর্থবছরে সর্বোচ্চ রাজস্ব আদায়ের রেকর্ড। তবে এই রেকর্ড অর্জনের পরেও সংশোধিত মূল লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে সামগ্রিক ঘাটতি প্রায় ৮৮group কোটি টাকায় গিয়ে ঠেকবে। অবশ্য লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলেও বিগত অর্থবছরের তুলনায় চূড়ান্ত রাজস্ব আদায় প্রায় ৪৩ হাজার ১৫৭ কোটি টাকা বৃদ্ধি পাবে।

রাজস্ব আদায়ের এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা বজায় রাখতে এবং ফাঁকি রোধে এনবিআর সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু প্রশাসনিক ও কাঠামোগত সংস্কার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, রাজস্ব আদায়ের গতি বাড়াতে ইতিমধ্যেই আয়কর, ভ্যাট এবং কাস্টমস বিভাগের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে পৃথক তিনটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। এই টাস্কফোর্সগুলো মূলত প্রাতিষ্ঠানিক কর ফাঁকি শনাক্তকরণ, বকেয়া রাজস্ব আদায়, অডিট কার্যক্রম জোরদার এবং উৎসে কর ও ভ্যাট আদায়ের তদারকি বৃদ্ধিতে কাজ করছে। এছাড়া কাস্টমস হাউজগুলোতে পোস্ট ক্লিয়ারেন্স অডিট এবং ঝুঁকিপূর্ণ করদাতাদের লেনদেন নিবিড় নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। এনবিআরের বিজ্ঞপ্তিতে পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে যে, দেশের চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সরকারি ব্যয় নির্বাহের লক্ষ্যে রাজস্ব সংগ্রহের এই বিশেষ প্রচেষ্টা আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026