1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০২:০২ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
দিরাইয়ে ওলামাদের বাধায় মেয়েদের ফুটবল ম্যাচ স্থগিত ৪২০ ফুটবল মাঠের সমান বন সাফ, ডেটা সেন্টার নিয়ে ফিনল্যান্ডে বির্তকে গুগল ভারতকে ‘ক্ষমা চাওয়ার দাবি প্রত্যাখ্যান’, সাবেকদের টুর্নামেন্টে খেলা হচ্ছে না আফ্রিদি-আমিরদের সুনামগঞ্জে ওলামাদের আপত্তিতে মেয়েদের প্রীতি ফুটবল ম্যাচ স্থগিত মেসির শেষ ম্যাচে থাকতে পারছেন না দিবালাসহ যে বিশ্বকাপজয়ীরা গফরগাঁওয়ে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে পেশাজীবী সংস্থাগুলোর যৌথ সম্মেলন বিশ্ব বসতি দিবসে সিলেটে পরিকল্পিত নগরায়নের আহ্বান ছেলেসহ দুদকের মামলায় শাজাহান খান গ্রেফতার বাংলাদেশে পার্টনার স্কুলগুলোর সাফল্য ও উদ্ভাবনের স্বীকৃতি দিল ব্রিটিশ কাউন্সিল

বিদ্যুৎ খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে ৮৭ লাখ প্রিপেইড মিটার স্থাপন: শতভাগ মিটারিংয়ের পথে সরকার

রিপোর্টার
  • আপডেট : বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬
  • ৪৮ বার দেখা হয়েছে

অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক

বিদ্যুৎ খাতে কারিগরি বহির্ভূত সিস্টেম লস হ্রাস এবং নিরবচ্ছিন্ন রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দেশজুড়ে স্মার্ট প্রিপেইড মিটার স্থাপনের কার্যক্রম জোরদার করেছে সরকার। বিদ্যুৎ বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত পদক্ষেপে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত সারা দেশে মোট ৮৭ লাখ ৫০ হাজার ৮২৩টি প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটার স্থাপন করা সম্ভব হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব বিদ্যুৎ গ্রাহককে স্মার্ট প্রিপেইড মিটারিং ব্যবস্থার আওতায় আনতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় একটি দীর্ঘমেয়াদী মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন করছে।

বর্তমানে দেশের বিদ্যুৎ খাতের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত সিস্টেম লস। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় মিটারে কারসাজি, অবৈধ সংযোগ এবং মিটার টেম্পারিংয়ের মতো অনিয়মের কারণে গ্রাহক পর্যায়ে গড়ে ৫ থেকে ৭ শতাংশ কারিগরি বহির্ভূত বিদ্যুৎ অপচয় বা সিস্টেম লস হয়ে থাকে। প্রিপেইড মিটার স্থাপনের মাধ্যমে এই অপচয় কমিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিউবো) সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থা এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। জুন পর্যন্ত অর্জিত লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে বিউবো ৩৫ লাখ ৩৭ হাজার ১২৬টি, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বিআরইবি) ১৮ লাখ, ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) ১০ লাখ ৭৯ হাজার ১৮৪টি, ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো) ৯ লাখ ১৬ হাজার ৯১০টি, ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) ৯ লাখ ১২ হাজার ২৩৩টি এবং নর্দার্ন ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) ৯ লাখ ৩৯ হাজার ৩০৩টি প্রিপেইড মিটার স্থাপন করেছে। বিউবোর পরিচালক মো. শামীম হাসান জানিয়েছেন, অবশিষ্ট গ্রাহকদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই আধুনিক প্রযুক্তির আওতায় আনতে মিটার স্থাপনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

স্মার্ট প্রিপেইড মিটার প্রযুক্তি প্রথাগত বিদ্যুৎ বিলিং ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাগুলো দূর করতে সক্ষম। এই ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান সুবিধা হলো গ্রাহক পর্যায়ে বিল পরিশোধ নিয়ে দীর্ঘস্থায়ী জটিলতা নিরসন। প্রিপেইড মিটার ব্যবহারের ফলে নিয়মিত বিল জমার ঝামেলা, সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ বা পুনঃসংযোগের ভোগান্তি এবং বিতর্কিত বিল নিয়ে অভিযোগের অবকাশ থাকছে না। এছাড়া এই সিস্টেমে কোনো জামানত বা ন্যূনতম চার্জ দেওয়ার প্রয়োজন হয় না, যা গ্রাহকদের জন্য আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য বয়ে আনছে। গ্রাহকরা নিয়মিত ব্যবহারের ওপর ২ শতাংশ মূল্যছাড় পাচ্ছেন, যা সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ ব্যবহারে উৎসাহিত করছে।

বিউবোর চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিম জানিয়েছেন, দেশের সব গ্রাহককে স্মার্ট মিটারের আওতায় আনার পরিকল্পনা থাকলেও কারিগরি ও ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতার কারণে শতভাগ গ্রাহককে এই ব্যবস্থার অধীনে আনা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। প্রায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ গ্রাহকের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক এই পদ্ধতি বাস্তবায়ন সম্ভব না-ও হতে পারে। তবে পর্যায়ক্রমে শতভাগ মিটারিং নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন অব্যাহত থাকবে।

পাওয়ার সেলের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের বিদ্যুৎ গ্রাহকরা গড়ে ৬৬১ কিলোওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুৎ ব্যবহার করেছেন। ক্রমবর্ধমান চাহিদার বিপরীতে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি বছরের জুলাই মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ৩৩ হাজার ৯২ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। এছাড়া গত ২০ মে সর্বোচ্চ ১৭ হাজার ২০১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে, যা দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদার একটি প্রতিচ্ছবি।

প্রিপেইড মিটার কেবল রাজস্ব আদায়ের মাধ্যম নয়, এটি বিদ্যুৎ ব্যবহারের তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংরক্ষণ করতে সক্ষম। এছাড়া ভোল্টেজের অস্বাভাবিক ওঠানামা রোধ করে গ্রাহকের ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও এই প্রযুক্তি সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। অফ-পিক আওয়ার বা ছুটির দিনে ব্যালেন্স শেষ হয়ে গেলে জরুরি ঋণ সুবিধা ও আগাম সতর্কবার্তার মতো সুযোগ থাকায় গ্রাহক ভোগান্তি অনেকাংশে কমে এসেছে। সামগ্রিকভাবে, প্রিপেইড মিটারের এই ব্যাপক বিস্তার জাতীয় বিদ্যুৎ খাতের ব্যবস্থাপনায় একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা করেছে, যা দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক ভারসাম্য ও টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026