1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫৪ অপরাহ্ন

চট্টগ্রামের হত্যা ও অস্ত্র মামলায় শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনের ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

রিপোর্টার
  • আপডেট : রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬
  • ২২ বার দেখা হয়েছে

আইন আদালত ডেস্ক

চট্টগ্রামের হাটহাজারী ও পাহাড়তলী থানা এলাকায় সংঘটিত পৃথক হত্যা ও অস্ত্র আইনের দুই মামলায় শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনের ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার (২ আগস্ট) চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শুনানি শেষে প্রতিটি মামলায় ৫ দিন করে মোট ১০ দিনের এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

পুলিশ সূত্রের তথ্যমতে, সম্প্রতি ডাবল মার্ডারসহ একাধিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে আসামি ডেভিড ইমনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ দুই মামলায় মোট ১৪ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানায়। হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. তারেক আজিজ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আসামি ইমনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ প্রতিটি মামলায় ৭ দিন করে মোট ১৪ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিল। আদালত শুনানি শেষে উভয় মামলায় ৫ দিন করে মোট ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। রিমান্ড চলাকালে তাকে পুলিশ হেফাজতে রেখে হত্যা ও অবৈধ অস্ত্রসংক্রান্ত চাঞ্চল্যকর তথ্যাদি উদঘাটনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

মামলার বিবরণ ও পুলিশের তদন্ত থেকে জানা যায়, গত ১৩ জুন পাহাড়তলী এলাকায় সংঘটিত বহুল আলোচিত মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলাটি চট্টগ্রাম অঞ্চলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। হত্যাকাণ্ডের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনার তদন্তে নেমে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তিগত তথ্য এবং নিবিড় গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ শুরু করে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার পেছনে জড়িত একটি শক্তিশালী সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে গত ২২ জুলাই এই মামলার এজাহারভুক্ত অন্যতম আসামি মিঠু ওরফে ধামা ইলিয়াছকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আদালতের অনুমতিক্রমে ধামা ইলিয়াছকে দুই দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে আঞ্চলিক সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের গঠন, ব্যবহৃত অস্ত্রের উৎস, বিভিন্ন স্থানে অস্ত্রের মজুদ এবং অন্যান্য সহযোগীদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও বিস্ফোরক তথ্য প্রদান করে।

ইলিয়াছের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ ও স্থানীয় পুলিশ সমন্বিতভাবে অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয়। এর ধারাবাহিকতায় গত ২৯ জুলাই যশোর জেলার কোতোয়ালি থানা অধীন ঝুমঝুমপুর এলাকায় যশোর জেলা পুলিশের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় একটি বিশেষ যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়। উক্ত স্থান থেকে মূল অভিযুক্ত মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমন (২৫) সহ তার তিন সহযোগী আল ইসলাম আলিফ ওরফে তমাল (২৫), মো. শামীম (২৮) ও মো. সাফায়েত হোসেনকে (২৪) হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। সেসময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা সম্ভব হয়, যা নিয়ে পরবর্তীতে পৃথক অস্ত্র মামলা দায়ের করা হয়।

পুলিশের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণে প্রকাশ পায় যে, ডেভিড ইমন দীর্ঘ দিন ধরে চট্টগ্রাম মহানগর, ফটিকছড়ি, রাউজান এবং রাঙ্গুনিয়াসহ সংলগ্ন বিভিন্ন অঞ্চলে একত্রাটের মতো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। অপরাধ জগতে সে চাঁদাবাজি, অস্ত্রের মুখে মহড়া এবং জমি দখলের মতো ঘটনার সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) এবং চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র আইন এবং চাঁদাবাজিসহ অন্তত ১৩টি গুরুতর ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। চট্টগ্রাম নগর ও সংলগ্ন জেলাগুলোর সাম্প্রতিক একাধিক হত্যাকাণ্ডে তার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততার শক্তিশালী প্রমাণ তদন্তকারী কর্মকর্তাদের হাতে এসেছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, ডেভিড ইমনকে রিমান্ডে এনে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা সম্ভব হলে চট্টগ্রাম অঞ্চলে সক্রিয় অবৈধ অস্ত্রের সিন্ডিকেট, অবৈধ অর্থ জোগানের উৎস এবং রাজনৈতিক বা আঞ্চলিক আশ্রয়দাতাদের মুখোশ উন্মোচিত হবে। এছাড়া বিভিন্ন থানায় ঝুলে থাকা একাধিক হত্যা মামলার জট খোলার পাশাপাশি আঞ্চলিক সন্ত্রাসী চক্রগুলোর কার্যক্রম ভেঙে দেওয়া সহজ হবে বলে মনে করছেন অপরাধ বিশ্লেষকরা।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026