1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫২ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
শিক্ষকতাকে মেধাবীদের পছন্দের পেশা করতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী দিরাইয়ে ওলামাদের বাধায় মেয়েদের ফুটবল ম্যাচ স্থগিত ৪২০ ফুটবল মাঠের সমান বন সাফ, ডেটা সেন্টার নিয়ে ফিনল্যান্ডে বির্তকে গুগল ভারতকে ‘ক্ষমা চাওয়ার দাবি প্রত্যাখ্যান’, সাবেকদের টুর্নামেন্টে খেলা হচ্ছে না আফ্রিদি-আমিরদের সুনামগঞ্জে ওলামাদের আপত্তিতে মেয়েদের প্রীতি ফুটবল ম্যাচ স্থগিত মেসির শেষ ম্যাচে থাকতে পারছেন না দিবালাসহ যে বিশ্বকাপজয়ীরা গফরগাঁওয়ে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে পেশাজীবী সংস্থাগুলোর যৌথ সম্মেলন বিশ্ব বসতি দিবসে সিলেটে পরিকল্পিত নগরায়নের আহ্বান ছেলেসহ দুদকের মামলায় শাজাহান খান গ্রেফতার

দেশে ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ৮ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ৭৯৮

রিপোর্টার
  • আপডেট : শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬
  • ২০ বার দেখা হয়েছে
স্বাস্থ্য ডেস্ক
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ৭৯৮ শিশু। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ৭০ জনের শরীরে এবং হামের উপসর্গ দেখা গেছে ৭২৮ শিশুর মধ্যে। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত হওয়া হামে কোনো শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। শনিবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় নতুন আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে ৭০০ জনকে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়ে বাড়ি ফিরেছে ৫৪৯ জন শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত সারা দেশে হামের বিস্তার ও প্রকোপ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এই পাঁচ মাসে দেশজুড়ে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট ৯০২টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়ে মারা গেছে ৯৯ জন শিশু। অপরদিকে হামের সুস্পষ্ট উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারিয়েছে ৮০৩টি শিশু।
পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত ১৫ মার্চ থেকে শনিবার পর্যন্ত দেশে সন্দেহজনক হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৭৭৬ জনে। এদের মধ্যে পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ১৭ হাজার ৮০০ জনের দেহে। এই সময়ে হাম ও উপসর্গজনিত জটিলতা নিয়ে সারা দেশের হাসপাতালগুলোতে মোট ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ২৩ হাজার ৪৯৪ জন শিশু। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছে ১ লাখ ১৯ হাজার ৮৯ জন। বর্তমানে অবশিষ্ট রোগীরা দেশের বিভিন্ন বিশেষায়িত ও জেলা-উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা সাধারণত বায়ুবাহিত ড্রপলেটের মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি বা কাশির মাধ্যমে বাতাসে নির্গত জীবাণু সুস্থ শিশুদের সহজেই সংক্রমিত করে। বিশেষ করে যেসব শিশু নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) আওতায় হাম ও রুবেলা (এমআর) টিকা গ্রহণ করেনি কিংবা যাদের পুষ্টিহীনতা ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তারা এ রোগে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। আক্রান্ত শিশুদের ক্ষেত্রে উচ্চমাত্রার জ্বর, সর্দি, চোখ লাল হওয়া, কাশি এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ি বা র‍্যাশ দেখা দেওয়ার মতো প্রাথমিক লক্ষণ প্রকাশ পায়। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা না পেলে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, মস্তিষ্কে সংক্রমণ ও অন্ধত্বের মতো মারাত্মক জটিলতা দেখা দিতে পারে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সারা দেশে রোগতাত্ত্বিক নজরদারি ও মাঠপর্যায়ের মনিটরিং জোরদার করেছে। বিশেষ করে যেসব অঞ্চলে সংক্রমণ ও উপসর্গযুক্ত রোগীর সংখ্যা বেশি, সেখানে বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম ও জনসচেতনতামূলক প্রচারণা চালানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি হাসপাতালগুলোতে শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত ওষুধ, ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল এবং পৃথক আইসোলেশন শয্যার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে অভিভাবকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে বলা হয়েছে, শিশুর শরীরে হামের লক্ষণ দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করতে হবে। রোগীকে পর্যাপ্ত তরল খাবার ও পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহ করার পাশাপাশি অন্য শিশুদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা রাখা জরুরি, যাতে পরিবারের বা আশেপাশের অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে না পড়ে। এছাড়া নিয়মিত সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় শিশুদের ৯ মাস ও ১৫ মাস বয়সে যথাসময়ে দুই ডোজ এমআর টিকা নিশ্চিত করার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026