পরিবেশ ডেস্ক
জলবায়ু পরিবর্তন ও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের ফলে বিশ্বের বিভিন্ন শহরের বায়ুদূষণের মাত্রা দিনদিন বাড়ছে। এর ধারাবাহিকতায় ৩১৫ স্কোর নিয়ে বায়ুদূষণের শীর্ষে অবস্থান করছে ভারতের রাজধানী দিল্লি। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুর মান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সের (আইকিউএয়ার) সূচকে এই তথ্য উঠে এসেছে। অন্যদিকে, ৭৪ স্কোর নিয়ে তালিকার ২৯ নম্বরে রয়েছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা, যা নগরবাসীর জন্য ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়।
শনিবার (২৯ আগস্ট) আইকিউএয়ারের প্রকাশিত বায়ুর মান সূচক অনুযায়ী, দিল্লির বাতাসে এই মান নাগরিকদের স্বাস্থ্যের জন্য অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দিল্লির ঠিক পরেই বায়ুদূষণের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মালয়েশিয়ার কুচিং শহর, যার বায়ুমান স্কোর ১৭৪ এবং বাতাসের এই মানও ‘অস্বাস্থ্যকর’। এছাড়া তালিকার তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই, যার স্কোর ১৬৩। এর পাশাপাশি বাহরাইনের রাজধানী মানামা, কাতারের দোহা এবং পাকিস্তানের লাহোরসহ বেশ কিছু শহরের বায়ুমানও দূষণের উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।
আইকিউএয়ারের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, বায়ুমানের স্কোর শূন্য থেকে ৫০-এর মধ্যে থাকলে তাকে ‘ভালো’ বা ‘সন্তোষজনক’ বলা হয়। স্কোর ৫১ থেকে ১০০-এর মধ্যে হলে তা ‘মাঝারি বা সহনীয়’ ধরা হয়। তবে স্কোর ১০১ থেকে ১৫০-এর মধ্যে হলে তা ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত হয়। এছাড়া ১৫১ থেকে ২০০ পর্যন্ত স্কোর ‘অস্বাস্থ্যকর’, ২০১ থেকে ৩০০ পর্যন্ত ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ এবং ৩০১ বা তার বেশি স্কোরকে ‘দুর্যোগপূর্ণ বা অত্যন্ত বিপজ্জনক’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুতায়ন ও অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে দক্ষিণ এশিয়ার শহরগুলোতে বায়ুদূষণের মাত্রা দীর্ঘকাল ধরে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুম বা আবহাওয়া পরিবর্তনের সময়গুলোতে ধূলিকণা ও ক্ষতিকর গ্যাস বৃদ্ধির কারণে নগরবাসীর শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগসহ বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকি বহুগুণে বেড়ে যায়। এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় কার্যকর দীর্ঘমেয়াদী পরিবেশগত পরিকল্পনা ও কঠোর আইনি পদক্ষেপ বাস্তবায়নের ওপর জোর দিচ্ছেন পরিবেশবিদরা।