রাজধানী ডেস্ক
সরকারি কর্মচারীদের আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করতে এ, বি ও সি-শ্রেণির সরকারি বাসা বা বাড়ি বরাদ্দে নতুন নীতি গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এখন থেকে সরকারি আবাসন পরিদপ্তর এসব শ্রেণির বাসা সরাসরি বরাদ্দ না দিয়ে সংশ্লিষ্ট কোটা সমন্বয়ের মাধ্যমে বরাদ্দ দেওয়ার সুপারিশ করেছে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সরকারি আবাসন পরিদপ্তর সম্প্রতি এ বিষয়ে একটি পত্র জারি করে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিদ্যমান ‘বাংলাদেশ অ্যালোকেশন রুলস, ১৯৮২’-এর রুল-৬ অনুযায়ী এ, বি ও সি-শ্রেণির সরকারি বাসা বরাদ্দের দায়িত্ব নির্দিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ওপর ন্যস্ত রয়েছে। তবে তিন মাসের অধিক সময় ধরে বিভিন্ন কোটায় বরাদ্দ না পেয়ে খালি পড়ে থাকা বাসাগুলো থেকে সরকারি রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি এবং আবাসন খাতের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার স্বার্থে এগুলো অগ্রাধিকারভুক্ত কর্মচারীদের অনুকূলে দ্রুত বরাদ্দ দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে গত ৩০ জুন অনুষ্ঠিত সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের বাসা বরাদ্দ কমিটির সভায় এ, বি ও সি-শ্রেণির বাসা বরাদ্দের বিষয়ে নতুন এই সুপারিশ চূড়ান্ত করা হয়।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, উল্লিখিত ক্যাটাগরির সরকারি বাসা বা বাড়িগুলো সরাসরি আবাসন পরিদপ্তরের মাধ্যমে বরাদ্দ দেওয়ার প্রথা স্থগিত রেখে যথাযথভাবে কোটা সমন্বয়ের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর ফলে দীর্ঘদিন খালি থাকা এসব সরকারি আবাসন সংশ্লিষ্ট কোটা ও প্রচলিত বিধিবিধান পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অনুসরণ করে উপযুক্ত ও অপেক্ষমাণ কর্মচারীদের অনুকূলে বণ্টন করা সহজ হবে। পরিদপ্তরের পরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম খান স্বাক্ষরিত ওই পত্রে এই নির্দেশনার আলোকে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সব সরকারি দপ্তরে তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি আবাসন ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রিতা ও জটিলতা কমাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ক্যাটাগরির বাসা খালি পড়ে থাকায় একদিকে যেমন সরকার নির্ধারিত রাজস্ব হারাচ্ছিল, অন্যদিকে প্রকৃত চাহিদাবান কর্মচারীরা সময়মতো আবাসন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন। নতুন এই নীতি কার্যকর হলে সরকারি বাসাবাড়ি বরাদ্দে স্বচ্ছতা আসার পাশাপাশি দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত জট কমে আসবে এবং সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।