বাংলাদেশ ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের আসন্ন অধিবেশনে যোগদানের মাধ্যমে নতুন সরকারের অগ্রযাত্রার বার্তা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সফরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
শনিবার সকালে সিলেট নগরীর একটি হোটেলে টেলিভিশন সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী দেশের বৈদেশিক নীতি, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং বর্তমান সরকারের বহুমুখী কূটনৈতিক তৎপরতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে এসব কথা বলেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগদানের জন্য প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, গণতান্ত্রিক উত্তরণ এবং অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার বার্তা জোরালোভাবে তুলে ধরা হবে। একই সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হলে দুই দেশের মধ্যকার কৌশলগত ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভারতের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা থাকলেও উভয় দেশের মধ্যে সংলাপের পথ সবসময় খোলা রয়েছে। প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক বজায় রাখাকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সম্ভাব্য দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের বিষয়ে তিনি জানান, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সফরের দিন ও তারিখ এখনও চূড়ান্ত হয়নি, তবে তা নিয়ে কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথেই হাঁটছে বর্তমান প্রশাসন।
জ্বালানি খাতের বর্তমান অবস্থা নিয়ে কঠোর সমালোচনা করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিগত সময়ে জ্বালানি খাতে বিভিন্ন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার কারণে মারাত্মক সংকট তৈরি হয়েছিল। বর্তমান সরকার এই খাতটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে। জ্বালানি খাতের বহুমুখীকরণ এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো ধরনের স্থবিরতা তৈরি না হয়।
নিরাপত্তা ও ভূ-রাজনীতি প্রসঙ্গে মক্কা চুক্তি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, এই চুক্তি নিয়ে বর্তমানে আলোচনা চলছে এবং এতে বাংলাদেশের সম্পৃক্ত হওয়া কোনো অস্বাভাবিক ঘটনা নয়। বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় অনেক দেশই কৌশলগত কারণে একাধিক নিরাপত্তা জোটে যুক্ত থাকছে। বাংলাদেশ তার নিজস্ব বৈদেশিক নীতি ও জাতীয় স্বার্থের বিষয়টি সবার ওপরে স্থান দিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। দেশের অর্থনীতি ও নিরাপত্তার সুরক্ষায় যেখানে অংশগ্রহণ করা প্রয়োজন, সরকার সেখানেই যুক্ত হবে।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে উড়োজাহাজ কেনা প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন যে, বোয়িং কেনার ক্ষেত্রে কোনো বাহ্যিক চাপ নেই। দেশের এভিয়েশন খাতের সুনির্দিষ্ট চাহিদা এবং প্রয়োজনীয়তার কথা বিবেচনা করেই আমেরিকা থেকে বোয়িং বিমান কেনা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও প্রয়োজনের তাগিদে তা অব্যাহত থাকবে।
শ্রমবাজার ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বিগত সময়ে বিভিন্ন সিন্ডিকেটের কারণে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের প্রবেশে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল। বর্তমান সরকার এই অসাধু সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য ভেঙে দিয়েছে। পর্যায়ক্রমে এবং সুশৃঙ্খল প্রক্রিয়ায় মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হবে।
এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকীসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।