বাণিজ্য, প্রযুক্তি, তাইওয়ান ও ইরান নিয়ে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় শির এই সফর দুই পরাশক্তির মধ্যকার সম্পর্কের পরীক্ষা নেবে।
যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর বিমানবন্দরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে স্বাগত জানান প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তিন দিনের এক রাষ্ট্রীয় সফরে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছেন। বুধবার যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর বিমানবন্দরে শি-কে স্বাগত জানান প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
রয়টার্স লিখেছে, বাণিজ্য, প্রযুক্তি, তাইওয়ান ও ইরান নিয়ে চাপা উত্তেজনা বাড়তে থাকায় শি-য়ের এই সফর দুই পরাশক্তির মধ্যকার সম্পর্কের পরীক্ষা নেবে।
প্রায় তিন বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে শি-য়ের এই সফরে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হবে, এমনটি আশা করা না হলেও ওয়াশিংটন ও বেইজিং তাদের ১১ মাসের বাণিজ্যিক যুদ্ধবিরতি সময়সীমা বাড়াতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, এ সময়সীমা বাড়াতে তারা একটি চুক্তিতে পৌঁছেছেন।
শি যুক্তরাষ্ট্রের পৌঁছানোর পর মেরিল্যান্ডে মার্কিন বিমান বাহিনীর ঘাঁটি জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে চীনের প্রেসিডেন্টকে অভিবাদন জানান। যুক্তরাষ্ট্রে শি-য়ের সফর কতোটা গুরুত্বপূর্ণ, এই বিষয়টি তা তুলে ধরেছে।
তবে ওয়াশিংটনের চীনা দূতাবাস এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
শি মেরিল্যান্ডে পৌঁছানোর পর এক সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানে দুই নেতা ও তাদের স্ত্রীরা করমর্দন করেন, কিছুক্ষণ কথা বলেন এবং একটি সামরিক ব্যান্ড বাজনা বাজানোর সময় তারা ছবি তোলার জন্য দাঁড়ান। এরপর অতিথিদের সম্মানে কামান থেকে গোলাবর্ষণ করা হয় ও একটি বি-ওয়ান বোমারু বিমান উপর দিয়ে উড়ে যায়।
মার্কিন গণমাধ্যম সি-স্প্যান জানিয়েছে, জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে ১১ বছরের মধ্যে প্রথম একজন মার্কিন প্রেসিডেন্ট একজন বিদেশি নেতাকে স্বাগত জানালেন। সি-স্প্যান প্রেসিডেন্টদের অনুষ্ঠানগুলো অনুসরণ করে থাকে। এর আগে বারাক ওবামা প্রেসিডেন্ট থাকাকালে ২০১৫ সালে এখানে নিজে উপস্থিত থেকে পোপ ফ্রান্সিসকে স্বাগত জানিয়েছিলেন।
ওয়াশিংটনের চীনা দূতাবাসের প্রকাশ করা এক লিখিত বিবৃতিতে শি বলেছেন, “চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদার হওয়া উচিত, প্রতিদ্বন্দ্বী নয়।”
তবে এই বিবৃতিতে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে কোনো কথা ছিল না।
বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনৈতিক শক্তির মধ্যে সীমিত পরিসরে হলেও একটি বাণিজ্য চুক্তি বৈশ্বিক বাজারকে কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে। এই দুই অর্থনীতির মধ্যে ২০২৫ সালের শুল্ক যুদ্ধের জেরে সৃষ্ট ‘ট্রিপল ডিজিট’ হারের শুল্ক আরোপের কারণে বৈশ্বিক বাজার বিপর্যস্ত হয়ে আছে। একটি বাণিজ্যিক যুদ্ধবিরতি পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপের ওই ধারাকে স্থগিত রাখতে পারলেও ১০ নভেম্বর এর মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী বেসেন্ট ফক্স নিউজকে জানিয়েছেন, দুই পক্ষের মধ্যে নতুন সমঝোতা অনুযায়ী এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হবে।
দুই দেশের মধ্যে গভীর মথপার্থক্য রয়ে গেছে। বিরল মৃত্তিকা খনিজ ও কম্পিউটার চিপের ওপর রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ, ইরানের সঙ্গে চীনের মিত্রতা ও তাইওয়ানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের মতো বিভিন্ন বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে মতবিরোধ আছে।
সাইবার নিরাপত্তার নামে ক্ষমতা কায়েমের আইনি ফাঁদ
শাহরিয়ার কবির: রাজনৈতিক পরিচয়ের ফৌজদারি পুনর্লিখন
আইফোন, ভোগবাদ ও সামাজিক অবক্ষয়: অপ্রতিমের হত্যাকারী কে?
রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিষ্ঠান হয়ে ওঠার ব্যর্থতা