সরকার আদালতে আসামিদের ডিজিটাল হাজিরা চালুর পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন কারাগার থেকে যে পরিমাণ আসামিকে কোর্টে হাজির করতে হয় ধার্য তারিখে, এই হাজির করাটা একদিকে যেমন মোবিলাইজেশনের ব্যাপার; আমার গাড়ি লাগছে, সিকিউরিটি দিতে হচ্ছে এত ঝামেলার মধ্যে, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত একটা সেক্টরকে আদালতের এখানেই ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে।’
এটি করা গেলে যুগান্তকারী পরিবর্তন হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ই-পারিবারিক আপিল আদালতের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের উদাহরণ টেনে আইনমন্ত্রী জানান, কোনো কোনো আসামির ক্ষেত্রে, কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমরা পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে চালু করেছি যে, উনারা হাজিরা দেবেন ধার্য তারিখে, কারাগারে থাকবেন, আদালত দেখছেন, ওখান থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা তাকে হাজির করে কনফার্ম করছেন। আদালত তার ডিজিটাল হাজিরা কনফার্ম করে নিচ্ছেন।
মামলার জট নিষ্পত্তিতে সরকার বাছাই করে বিচারক নিয়োগের পরিকল্পনা করছে জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, দেশে বর্তমানে ৪৬ লাখের বেশি মামলা পেন্ডিং। এই ৪৬ লাখের উপরে মামলা নিষ্পত্তি করা দুই হাজার ৩০০ বিচারকের পক্ষে পাহাড় সমান একটা প্রতিবন্ধকতা। কখনো কখনো তাদের ওপর অমানবিক (ইনহিউম্যান) চাপ পড়ে যায়। বিশেষ করে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও মহানগরগুলোতে এই চাপটা আরও বেশি।
‘আমরা চিন্তা করছি, এই সমস্ত জেলাগুলোতে, যেখানে মামলার চাপ বেশি, সেখানে যারা দ্রুত (মামলা) নিষ্পত্তি করতে পারবেন, শুধুমাত্র চাকরি করার জন্য না—জুডিশিয়াল অ্যাকটিভিজম দেখাতে পারবেন নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে, আমরা বাছাই করে সে রকম কর্মকর্তাকে আনতে চাই,’ যোগ করেন তিনি।
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এখানে আমরা রিপোর্ট পাচ্ছি, কোনো কোনো জায়গায় দুই ঘণ্টা, তিন ঘণ্টা কোর্ট করে। আমাকে একটু আগেই আইনজীবীদের পক্ষ থেকে বলা হলো, কোনো কোনো আদালতে…আসছেন ১১টায়, ২টা, ১টা-দেড়টার মধ্যে কাজ শেষ, চলে যাচ্ছেন। যদি এ রকম কেউ আয়েশি জুডিশিয়াল অফিসার থাকেন, আপনার আয়েশের ব্যবস্থা আমরা করতে পারব, আশা করি এতটুকু অ্যাকোমোডেশন আমরা দিতে পারব। এমন জায়গা আপনাকে দেওয়া হবে, যেখানে আপনি আয়েশ করে চাকরিটা করতে পারবেন।’