1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫০ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে নতুন উদ্যোগ, ত্রিপক্ষীয় আলোচনায় সম্মতি পুতিনের এবার আফগানিস্তানের কাছে ৭ উইকেটে হারল বাংলাদেশ সমাজের নিকৃষ্ট ব্যক্তিরা এমপি-মন্ত্রী হন: স্পিকার সচিবালয়ে ডিজিটাল হাজিরা, তদারকিতে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ-ভারত ফাইনাল আজ প্রধানমন্ত্রীর দক্ষিণাঞ্চল সফর ঘিরে ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পের মরিয়া কূটনীতি, ফের ত্রিমুখী শান্তি আলোচনায় পুতিনের সম্মতি নরসিংদীতে ডাইং মিলের বয়লারে আগুন, দগ্ধ ৫ জন ঢাকা মেডিকেলে অনূর্ধ্ব ১৯ নারী টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সূচি ঘোষণা ইউক্রেইন-যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় শান্তি আলোচনায় বসতে রাজি পুতিন

আর্টেমিস–২ মিশনের সফল সমাপ্তি, চার নভোচারী নিরাপদে পৃথিবীতে অবতরণ

রিপোর্টার
  • আপডেট : শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৫৬ বার দেখা হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

দীর্ঘ ১০ দিনের মহাকাশ অভিযান শেষে নাসার আর্টেমিস–২ মিশনের মহাকাশযান নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরে এসেছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার বিকেল ৫টার কিছু পর যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগো উপকূলের কাছে প্রশান্ত মহাসাগরে ওরিয়ন ক্যাপসুলটির স্প্ল্যাশডাউন সম্পন্ন হয়। অবতরণের পর উদ্ধারকারী দল দ্রুত ক্যাপসুলটি সমুদ্র থেকে উদ্ধার করে এবং এতে থাকা চার নভোচারীকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে।

মিশনটির মাধ্যমে দীর্ঘ সময় পর মানববাহী মহাকাশযানের চাঁদসংলগ্ন কক্ষপথে পরীক্ষামূলক যাত্রা সম্পন্ন হলো, যা ভবিষ্যতের চন্দ্রাভিযানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতিমূলক ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। স্প্ল্যাশডাউনের পর মিশন কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান জানান, তিনি ও তার সহযাত্রী তিন নভোচারী শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন এবং পুরো অভিযান পরিকল্পনা অনুযায়ী সম্পন্ন হয়েছে।

মিশন পরিকল্পনা অনুযায়ী, আর্টেমিস–২ ছিল একটি পরীক্ষামূলক ক্রু ফ্লাইট, যার উদ্দেশ্য ছিল ওরিয়ন মহাকাশযানের কার্যক্ষমতা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং গভীর মহাকাশে মানব অভিযানের প্রস্তুতি যাচাই করা। এই মিশনে চারজন নভোচারী পৃথিবীর কক্ষপথে একাধিকবার প্রদক্ষিণ করেন এবং চাঁদের দিকে একটি দীর্ঘ দূরত্বের যাত্রা সম্পন্ন করেন।

যাত্রাপথে মহাকাশযানটি মোট প্রায় ৬ লাখ ৯৪ হাজার মাইলের বেশি দূরত্ব অতিক্রম করে। ওরিয়ন ক্যাপসুলটি পৃথিবীর কক্ষপথ ছাড়িয়ে চাঁদের দিকে অগ্রসর হয়ে চাঁদের কাছাকাছি অঞ্চল দিয়ে একটি নির্ধারিত ‘ফ্লাইবাই’ সম্পন্ন করে, যার দূরত্ব ছিল প্রায় আড়াই লাখ মাইলের মতো। এই পর্যায়ে মহাকাশযানটি চাঁদের মাধ্যাকর্ষণ ক্ষেত্রের কাছাকাছি অবস্থান করে গভীর মহাকাশ পরিবেশে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা পরিচালনা করে।

মিশন সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী এটি মানব ইতিহাসে পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরবর্তী অঞ্চলে পরিচালিত মানববাহী পরীক্ষামূলক যাত্রাগুলোর মধ্যে একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতের দীর্ঘমেয়াদি চন্দ্রাভিযান এবং সম্ভাব্য মঙ্গল অভিযানের প্রযুক্তিগত প্রস্তুতির ভিত্তি আরও সুদৃঢ় হয়েছে।

আর্টেমিস কর্মসূচি নাসার একটি বৃহৎ মহাকাশ প্রকল্প, যার লক্ষ্য চাঁদে পুনরায় মানব উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং সেখানে স্থায়ী বৈজ্ঞানিক গবেষণার অবকাঠামো গড়ে তোলা। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে ভবিষ্যতে চাঁদের দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে মানব অবতরণের পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে বরফ ও অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদের উপস্থিতি নিয়ে গবেষণা করা হবে।

মিশন সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার মাধ্যমে নাসা ২০২৮ সালের দিকে পরবর্তী ধাপে মানববাহী চন্দ্রাভিযান পরিচালনার পরিকল্পনার দিকে আরও এক ধাপ এগিয়েছে। আর্টেমিস–২-এর সাফল্য ভবিষ্যৎ আর্টেমিস মিশনগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত ও অপারেশনাল তথ্য সরবরাহ করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

অবতরণের পর উদ্ধারকারী দল ও চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা দ্রুত নভোচারীদের শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। দীর্ঘ সময় মহাকাশে অবস্থানের পর তারা নিরাপদে ও স্থিতিশীল অবস্থায় আছেন বলে নিশ্চিত করা হয়। মহাকাশযানটির পুনরুদ্ধার কার্যক্রমও সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং এটি পরবর্তী বিশ্লেষণের জন্য নির্ধারিত স্থানে নেওয়া হচ্ছে।

এই মিশনের মাধ্যমে মহাকাশ গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সম্ভাবনা আরও বিস্তৃত হলো বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026