1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১০ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
মঈন খানের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল : ডা. জাহিদ ২৪ ঘণ্টা পর ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে আপলাইনে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক ‘শুধু একটা স্নাইপারের অভাব ছিল’—ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে মন্তব্য করা সেই যুবক আটক প্রধানমন্ত্রী যখন জাপান থাকবেন, রাষ্ট্রদূত থাকবেন ঢাকায় প্রটোকল ভেঙে জনগণের সঙ্গে কুশল বিনিময় করলেন প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট বন্ধ নিজেদের ব্যর্থতা স্বীকার করলেন হৃদয় অবৈধ ফোন বন্ধে দুই ধাপে চালু হচ্ছে এনইআইআর, ব্যবস্থা নিচ্ছে বিটিআরসি বাংলাদেশকে নিয়ে সমালোচনা করতে চান না আফগানিস্তান কোচ বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ-সেরা হওয়ার পর নিষিদ্ধ অস্ট্রেলিয়া পেসার

চট্টগ্রামে হু হু করে বাড়ছে ডেঙ্গু সংক্রমণ, এক মাসেই আক্রান্ত চারগুণ

রিপোর্টার
  • আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬
  • ৪২ বার দেখা হয়েছে

চট্টগ্রাম — জেলা প্রতিনিধি

চট্টগ্রামে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক রূপ ধারণ করেছে। চলতি বছরের জুন মাসে জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা মে মাসের তুলনায় প্রায় চারগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ৮টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৯ জনের শরীরে ডেঙ্গু ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। বর্ষা মৌসুমের শুরুতে সংক্রমণের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা সাধারণ নাগরিক ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। চিকিৎসকদের মতে, এখনই কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নতুন আক্রান্ত ৯ জনকে নিয়ে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২ জুলাই পর্যন্ত চট্টগ্রামে মোট ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩০৭ জনে। মাসভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বছরের শুরুতে জানুয়ারি মাসে ৬৮ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন। এরপর ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে সংক্রমণ কিছুটা কমে যথাক্রমে ২২ ও ২০ জনে নামে। এপ্রিলে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২৯ জন এবং মে মাসে তা সামান্য বেড়ে ৩৭ জনে পৌঁছায়। তবে জুন মাসে সংক্রমণ জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পেয়ে ১২২ জনে দাঁড়ায়, যা চলতি বছরের মধ্যে একক মাসে সর্বোচ্চ আক্রান্তের রেকর্ড। এ পর্যন্ত চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্ষা মৌসুমে থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে এডিস মশার প্রজনন ক্ষেত্র দ্রুত বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে ছাদবাগান, পরিত্যক্ত টায়ার, প্লাস্টিকের পাত্র, ডাবের খোসা এবং নির্মাণাধীন ভবনে জমে থাকা স্বচ্ছ পানি এডিস মশার বংশবিস্তারের জন্য সবচেয়ে উপযোগী। জুন মাসে বৃষ্টিপাত বাড়ার পর থেকেই আক্রান্তের গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী। বর্তমানে আক্রান্ত রোগীদের একটি বড় অংশ স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যার মধ্যে সরকারি ও বেসরকারি উভয় হাসপাতালই অন্তর্ভুক্ত।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে বলেন, “এখনও পূর্ণাঙ্গ বর্ষা মৌসুম শুরু হয়নি, তার আগেই ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে তা অত্যন্ত উদ্বেগের। বাসা-বাড়ি ও কর্মক্ষেত্রে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা না গেলে এবং নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি না পেলে আগামী দিনগুলোতে আক্রান্তের হার আরও ব্যাপক আকারে বাড়তে পারে।” তিনি আরও জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে জনসচেতনতা সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে ডেঙ্গুর লক্ষণ ও প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে পরামর্শ দিয়েছেন চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. এইচ এম হামিদুল্লাহ মেহেদী। তিনি জানান, সাম্প্রতিক সময়ে যেসব ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে আসছেন, তাদের মধ্যে তীব্র জ্বর, শরীর ও জয়েন্টে ব্যথা, বমি ভাব এবং খাবারে প্রচণ্ড অরুচির মতো উপসর্গ দেখা যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে কোনো লক্ষণ প্রকাশ না পেয়েও রোগী হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। ডা. মেহেদী সতর্ক করে বলেন, “জ্বর বা শরীর ব্যথার মতো প্রাথমিক উপসর্গ দেখা দিলেই নিজে নিজে কোনো ওষুধ না খেয়ে অবিলম্বে নিকটস্থ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে এবং ডেঙ্গু পরীক্ষা করাতে হবে। অবহেলা করলে রোগীর রক্তে প্লাটিলেট কমে গিয়ে পরিস্থিতি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।”

অন্যদিকে, ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতির জন্য মাঠপর্যায়ে মশক নিধন কার্যক্রমের ঘাটতিকে দায়ী করছেন নগরবাসী। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের আওতাধীন বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, অনেক ওয়ার্ডে নিয়মিত মশার ওষুধ কিংবা লার্ভিসাইড ছিটানো হচ্ছে না। ড্রেন ও খোলা নর্দমাগুলো নিয়মিত পরিষ্কার না করার কারণে মশার উপদ্রব আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে, যা ডেঙ্গু বিস্তারে ভূমিকা রাখছে। তবে মশক নিধনে গাফিলতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মশক নিধন কর্মকর্তা শরফুল ইসলাম মাহি। তিনি দাবি করেন, সিটি করপোরেশনের ক্রাশ প্রোগ্রামের আওতায় প্রতিটি ওয়ার্ডে নিয়মতান্ত্রিকভাবে মশক নিধন ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। ডেঙ্গু প্রকোপপ্রবণ এলাকাগুলোকে চিহ্নিত করে সেখানে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং নাগরিকদের সচেতন করতে মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ কার্যক্রম সচল রয়েছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ কেবল সিটি করপোরেশন বা স্বাস্থ্য বিভাগের একার পক্ষে সম্ভব নয়। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রাতিষ্ঠানিক মশক নিধন অভিযানের পাশাপাশি নাগরিকদের নিজস্ব আঙিনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর সর্বোচ্চ জোর দিতে হবে। বিশেষ করে কোনো স্থানে যেন তিন দিনের বেশি পানি জমে না থাকে, তা নিশ্চিত করা জরুরি। তা ছাড়া, স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেলে ভবন মালিকদের জরিমানা করাসহ কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026